• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৬ মে ২০২০ ১১:০৬:৫৫
  • ১৬ মে ২০২০ ১১:০৬:৫৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অর্ধেক প্রবাসী বাংলাদেশির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

ফাইল ছবি

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গোটা বিশ্ব বিপর্যস্ত। সকল দেশের অর্থনীতিকেই ধাক্কা দিয়েছে এই মহামারী। দেশের অভিবাসন খাতেও পড়েছে এর ভয়াবহ প্রভাব। গোটা বিশ্ব যখন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছে তখন প্রায় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি লড়ছেন জীবিকা বাঁচাতে।

নতুন কর্মীদের বিদেশে যাত্রা তো থমকে গেছেই, ছুটিতে দেশে এসে আর কর্মস্থলে যেতে পারেননি দুই লক্ষাধিক প্রবাসী। যে কারণে দেশের প্রবাসী আয় কমেছে। প্রভাব পড়েছে তাদের ওপর নির্ভরশীল মানুষদের জীবনযাত্রায়ও। এমন অবস্থায় এ সংকট কাটাতে সরকার ও সচেতন মহলের সমন্বিত উদ্যোগ আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি কর্মী। করোনার প্রকোপে এর প্রায় অর্ধেক কর্মীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ২ লাখের বেশি প্রবাসী ছুটিতে দেশে এসে আর ফেরত যেতে পারেনি। অধিকাংশের ফেরার পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে সামর্থ্যের প্রায় সবটুকুর বিনিময়ে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছিলেন এদের অধিকাংশ মানুষ। তারাই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। শূন্য চোখে নিজের আর প্রিয়জনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার আভাস।

সম্প্রতি প্রবাস থেকে ফেরা এক বাংলাদেশি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশেই থাকতে হবে বলে তাকে জানিয়ে দিয়েছে কোম্পানি।

আরেক প্রবাসী বলেন, ‘চেয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে আর কিছুদিন থেকে ফ্যামিলিকে সাপোর্ট দিতে।’ এখন পরিবারকে সাপোর্ট দেয়ার কেউ নেই বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে উঠবে বিশ্বের অনেক দেশ। এরপরই জনশক্তি আমদানি করবে তারা। তবে এর মধ্যে যদি বাংলাদেশ করোনামুক্ত না হয়, তবে সেই সুযোগ কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি’র (বায়রা) মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান জানান, করোনার কারণে লকডাউনে অনেক প্রবাসী ঘরবন্দী আছেন। তারা বেতনও ঠিকমতো পাচ্ছেন না।

এদিকে প্রবাসে কর্মহীন হয়ে দেশে ফেরা কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য দুইশ’ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

তিনি জানান, দেশে আসলে প্রবাসীদের কিভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে তা নিয়ে ভাবছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের জীবন সুন্দর করে যাতে গড়ে নিতে পারেন সেজন্য তাদের লোন দেওয়া হবে।’

দুর্যোগের মুখে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের লংঘন হিসেবে উল্লেখ করে বহুপাক্ষিক ফোরামে তা উপস্থাপনের জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্স ইউনিট চেয়ারম্যান ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের এখন উচিত জরুরিভাবে বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোকে এই ইস্যুটা তুলে ধরা।’

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1017 seconds.