• ক্রীড়া ডেস্ক
  • ১৬ মে ২০২০ ১৩:০৭:৪০
  • ১৬ মে ২০২০ ১৩:০৭:৪০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

তামিমের সাথে ঘণ্টাখানেক লাইভ আড্ডা

বাংলাদেশে সমর্থন না পেয়ে রোহিতের আক্ষেপ

ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারত ক্রিকেট দলের ম্যাচ মানেই অন্যরকম উত্তেজনা। একসময় এ দুই দলের ম্যাচ মানেই ছিল ভারতের একতরফা জয়। কিন্তু নিকট অতীতে তা হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্বৈরথ। কখনো এদিকে ঝুঁকে পাল্লা, কখনো ওদিকে। আর মাঠের বাইরে ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে সেই উত্তেজনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই দলের সমর্থকদের লড়াই কখনো কখনো শালীনতার সীমাও ছাড়িয়ে যায়।

সমর্থকদের মধ্যে যাই হোক না কেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্যের ঘাটতি থাকে না কোনো। তারই প্রমাণ দিতেই যেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের ফেসবুক লাইভে এলেন ভারতীয় তারকা রোহিত শর্মা। গতকাল ১৬ মে, শুক্রবার রাতে সেখানে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ‍দুই তারকা।

আলাপের এক পর্যায়ে বাংলাদেশে খেলতে এসে সমর্থন পান না বলে আক্ষেপ করেন রোহিত শর্মা। তারা বিশ্বের অন্য যে প্রান্তেই খেলতে যান না কেন, সেখানেই গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের উৎসাহ পান। তবে বাংলাদেশে খেলতে এলেই বিপরীত চিত্রের দেখা পান বলে ভারতীয় ওপেনারের ভাষ্য।

তবে সেইসাথে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের ক্রিকেট সমর্থকদের প্রশংসাও করেন রোহিত। তিনি বলেন, ‘এই দুই দেশের দর্শকই অনেক বেশি নিবেদিতপ্রাণ এবং একইসাথে আবেগপ্রবণ।’

নিজ নিজ দেশের মাঠে খেলার সময় বাংলাদেশ ও ভারত যে ধরণের সমর্থন পায় তা অতুলনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিপক্ষে খেলার সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বড় শিরঃপীড়ার কারণ হয়ে থাকেন রোহিত শর্মা। অন্যান্য দল বিরাট কোহলিকেই প্রধান টার্গেট করলেও বাংলাদেশকে ভাবতে হয় রোহিতের ব্যাপারে। এর কারণ, নিকট অতীতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তার অসাধারণ পারফর্ম্যান্স।

সেই ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে মেলবোর্নে ১৩৭ রানের ইনিংসেই তো বাংলাদেশের সেমিতে খেলার স্বপ্ন থেমে যায়। এর দুই বছর পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে তার অপরাজিত ১২৩ রান প্রথমবারের মতো কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা থেকে বঞ্চিত করে টাইগারদের। সবশেষ ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ১০৪ রান। তিনটি ইনিংসই টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত করেছে।

দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতেই দুই দলের মধ্যকার পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন এ ডানহাতি ওপেনিং ব্যাটসম্যান। এসব কারণেই ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা হলেই রণপরিকল্পনার বড় অংশ জুড়েই থাকেন রোহিত। ফেসবুক লাইভে এ প্রসঙ্গও তুলে আনেন তামিম। খানিক অনুযোগের স্বরেই তামিম বলেন, ‘রোহিত ভাই, আমাদের সঙ্গে যা করেন তা ঠিক না!’ এটুকু শুনে খানিক ভড়কে যান রোহিত, ‘মানে?’ পরিস্থিতি সহজ করেন তামিম, ‘দাঁড়ান, দাঁড়ান আমি বলছি।’

এরপর রোহিতের খেলা উপরোল্লিখিত বিস্ফোরক সব ইনিংসের ফিরিস্তি তুলে ধরেন তামিম। সেইসাথে তিনি মনে করিয়ে দেন, গত বিশ্বকাপে নিজেই যে রোহিতের ক্যাচ ছেড়েছিলেন, সেই ঘটনাও।

তামিম বলেন, ‘এখানে (২০১৯ বিশ্বকাপের সেঞ্চুরি) আমাকে কৃতিত্ব দিতে হবে। কারণ, আমি আপনার ক্যাচ ফেলেছিলাম। আপনার কোন ধারণাই নেই এরপর আমাকে কী পরিমাণ ট্রল করা হয়েছে!’

এখনো সেই ক্যাচটা নিয়ে কথা শুনতে হয় উল্লেখ করে তখন তামিম বলেন, ‘মাঝে মাঝে মানুষ বোঝে না এমন ঘটনা মাঠে ঘটতেই পারে!’

রোহিত এর জবাবে বলেন, ‘সবাই জেতার জন্যই খেলে। দল, খেলোয়াড়দের সবাই শতভাগ ভাগ দিতেই মাঠে নামে। কেউ মাঠে ক্যাচ ফেলতে যায় না। খারাপ খেলতে চায় না। সবাই দল জেতাতেই চায়।’

এসময় রোহিতের কাছে তামিম জানতে চান ইনিংস দীর্ঘ করার উপায়। বিশেষ করে সেঞ্চুরির পর আরো বড় বড় শট খেলতে পারার পেছনের রহস্যও জানতে চান তিনি।

রোহিত তখন বলেন, ‘এটা সত্যিই যে, ইনিংসের শুরুতে আমি চাপে থাকি। তবে সেঞ্চুরি করে ফেলার পর আর কোন চাপ মনে হয় না। নির্ভার হয়ে খেলার চেষ্টা করি। আমার কাজ থাকে ৪০-৪৫ ওভার পর্যন্ত থাকা, ৪২ ওভারের পর চেষ্টা করি প্রতিটা বল মারতে। এটা অনেক সময় নির্ভর করে আমার সঙ্গে উইকেটে কে আছে, তার ওপর। যদি দেখি মিডল অর্ডারের সেট কোনো ব্যাটসম্যান আছে বা পরে আরও ব্যাটসম্যান আছে, তখন সুযোগ নিই।’

দুই দেশের এই দুই ক্রিকেটারই আবার ফুটবলের পাঁড় ভক্ত। তাদের আড্ডায় ফুটবল যে স্থান পাবে তা তো স্বাভাবিকই। দুই জনের অনেক অমিলের মধ্যে একটি মিল হলো এই দুই তারকাই আবার রিয়াল মাদ্রিদ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ভক্ত।

এ নিয়ে তামিমের প্রশ্ন, ‘আপনি তো রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থক; রোনালদোকে ভালোবাসেন?’

রোহিতের জবাব, ‘রোনালদোকে কে না ভালোবাসে? সে তো ফুটবলের রাজা।’

রোনালতো ক্যারিয়ারে যা করেছে তা অসাধারণ উল্লেখ করে রোহিত বলেন, ‘তার জন্য মাথা নিচু করে সম্মান জানাতেই হবে তাকে।’

প্রায় ঘণ্টাখানেকের লাইভ আড্ডায় আরো নানা বিষয় উঠে আসে। উঠে আসে অজানা বহু বিষয়।

বাংলা/এসএ/

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0706 seconds.