• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৬ মে ২০২০ ২৩:১১:৪০
  • ১৬ মে ২০২০ ২৩:৫২:৪৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনার সেবা নিশ্চিতে আজন্ম অনুসঙ্গ ছাড়লেন শিখ ধর্মী চিকিৎসক

ডা. সঞ্জিত সিং সালুজা। ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাসে এমন মহামারীর সময়ে কত রকম সমস্যা যে এসে হাজির হয় তা বলা মুশকিল। এই যেমন শিখ ধর্মের দুই কানাডিয়ান চিকিৎসক কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসার জন্য তাদের ধর্ম বিশ্বাসের অন্যতম আজন্ম অনুসঙ্গ যে ‘দাঁড়ি’ তা শেভ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ দাঁড়ি থাকলে ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় এন-৯৫ মাস্ক পরা সম্ভব হয় না।

যদিও তাদের এমন সিদ্ধান্ত শিখ ধর্মের মানুষ বিশেষত স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের মধ্যে বিরূপ আলোচনার সূত্রপাত করেছে। কারণ তারা বলছে যে শেভ না করেও কোভিড রোগীদের সেবা দেয়া সম্ভব।

মন্ট্রিয়ালের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের (এমইউএইচসি) জরুরি চিকিৎসক ডা. সঞ্জিত সিং সালুজা বলেছিলেন যে তিনি এবং তার চিকিৎসক ভাই সঠিকভাবে এন-৯৫ মাস্ক পরার সুবিধার্তে দাঁড়ি কামিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে একটি ভিডিও পোস্টে সিং সালুজা বলছিলেন, ‘শিখ ধর্মের অন্যতম স্তম্ভ হল সেবা; মানবজাতির সেবা করা। আমি সর্বদা এমইউএইচসিতে আমার কাজকে সেবা করার একটি সুযোগ হিসাবে দেখেছি।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘তবে, আপনারা অনেকেই জানেন আমাদের বিশ্বাসের আর একটি স্তম্ভ হল চুল, যা ঈশ্বরের সৃষ্টির সিদ্ধির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে নিজের চুলকে স্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেয়। এই মহামারীতে এই মুহূর্তে আমার মুখোমুখি হয়েছিল পরে হিসাবে অস্তিত্বের সঙ্কট আমার পরিবেশন করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ করেছে।’

ভিডিওতে সিং-সালুজা জানিয়েছেন, আমাদের সামনে কোভিড -১৯ আক্রান্ত রোগী না দেখে প্রয়োজনীয় বিকল্প সুরক্ষা সামগ্রীর জন্য অপেক্ষা করা অথবা দাঁড়ি শেভ করে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয় জড়িত ছিলো। একজন চিকিৎসক হিসাবে আমাদের ধর্মীয় কর্তব্য পালন করা অথবা চিকিৎসক হিসেবে পেশার শপথকে সম্মান জানানো এ দুটোর যে কোন একটিকে বেছে নিতে গিয়ে আমরা দ্বিতীয় কাজটি বেছে নিয়েছি।

তবে এ সিদ্ধান্ত তারা চটজলদি নিতে পারেননি। এজন্য তাদের চিন্তাভাবনা করতে হয়েছে বিস্তর। তারপর তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি তাই বলছিলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি বেশ কয়েক সপ্তাহের আত্ম অনুসন্ধান এবং অনেক নিদ্রাহীন রাতের পরে। এটি আমাদের পক্ষে খুব কঠিন সিদ্ধান্ত। তবে আমাদের এই সময়টিতে এটা প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে।’

শেষে তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা আমাকে প্রচণ্ড দুঃখের মাঝে ছেড়ে দিয়েছে এবং আমি আমার জীবনে সত্যিকারের একটি প্রধান অংশ হয়ে ওঠা এমন কোনো কিছু ছেটে ফেলার জন্য সত্যিই শোক প্রকাশ করছি।’

তবে ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র (এমইউএইচসি) এটাকে তাদের ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এ নিয়ে কোনরূপ মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0704 seconds.