• বাংলা ডেস্ক
  • ১৭ মে ২০২০ ১৩:১২:০৮
  • ১৭ মে ২০২০ ১৩:১২:০৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে যাদের এগিয়ে রেখেছে ডব্লিউএইচও

ছবি : সংগৃহীত

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন হাজারো মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। দিনে নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এখন পর্যন্ত ৪৭ লাখের বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩ লাখ ১৩ হাজার। এর প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন তৈরিতে বিশ্বের বাঘা বাঘা চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষকদের রাতের ঘুম হারাম।

এখন পর্যন্ত শতাধিক প্রতিষ্ঠান করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে নামলেও ৮-৯টি প্রতিষ্ঠান সকলের চেয়ে এগিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউইএচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস।

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এইসব প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই যে কেউই করোনার ভ্যাকসিন আগে বাজারে আনতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউইএচও) এদের কাজের দিকে তীক্ষ্ন দৃষ্টি রাখছে। চলুন এই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও তাদের ভ্যাকসিনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জেনে নিই :

মোদারনা থেরাপিউটিকস : করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে এগিয়ে যাওয়ার দাবি করেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান মোদারনা থেরাপিউটিকস। তারা ভ্যাকসিনটির চূড়ান্ত ক্লিনিকাল ট্রায়াল পরিচালনার জন্য ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা  এফডিএ‘র ছাড়পত্র পেয়েছে।

ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের সিয়াটলে ৪৫ জন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে এই ভ্যাকসিনটি পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৮ দিনের ব্যবধানে তাদের ইনজেকশন দেওয়া হয়।

এবার দ্বিতীয় ধাপে আরো ৬০০ স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে এটি পরীক্ষা করা হবে। এদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে রয়েছেন ১৮-৫৫ বছর বয়সী। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছেন ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা।

নোভাভ্যাক্স ইনক : কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরির শীর্ষ তালিকায় রয়েছে মার্কিন কোম্পানি নোভাভ্যাক্স ইনক। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ভ্যাকসিন তৈরির জন্য ৩৮৮ মিলিয়ন ডলারের অর্থ সাহায্য পেয়েছে।

নোভাভ্যাক্সের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রেসিডেন্ট ডা. গ্রেগরি গ্লেনের বলেন, ‘ভ্যাকসিন এনভিএক্স-কোভ২৩৭৩ আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখিয়েছে। বায়োটেক সংস্থা অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৩০ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর মানবিক পরীক্ষা পরিচালনা করবে।’

এরই মধ্যে সার্স কোভিড-২ ভাইরাসের জিন থেকে সিঙ্গল এবং ডবল ডোজের এই ভ্যাকসিন ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় দুর্দান্ত ফল পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফাইজার ও বিএনটেক ভ্যাকসিন : করোনার ভ্যাকসিন তৈরিকে এক সাথে কাজ করছে মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান সংস্থা বিএনটেক। দুটি সংস্থাই চারটি আরএনএ ভ্যাকসিনের পরীক্ষা করছে। তাদের ভ্যাকসিন বিএনটি১৬২ এমআরএনএ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জার্মানিতে প্রথম দফায় ক্লিনিকাল ট্রায়ালও সম্পন্ন হয়েছে। সম্ভাব্য ভ্যাকসিনটি ৩৬০ জনের ওপর বিভিন্ন ডোজে প্রয়োগ করা হবে।

জনসন অ্যান্ড জনসন : ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন। তাদের দাবি, ২০২১ সালের মধ্যে ১০০ কোটি ভ্যাকসিন বাজারে আনতে পারবে তারা। এই ভ্যাকসিনটি আগামী বছরের শুরুতেই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহার শুরুর আশা করছে জনসন এন্ড জনসন।

সিনোভ্যাক বায়োটেক : ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজ শুরু করেছে বেইজিংভিত্তিক সিনোভ্যাক বায়োটেক। প্রাথমিকভাবে বানরের শরীরে সফলভাবে কাজ করেছে চীনা এই প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ভ্যাকসিন।

সংস্থাটি তাদের সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের দুটি ভিন্ন ডোজ আটটি বানরের ওপর প্রয়োগ করেছিল। তাদের মধ্যে চারটি ভ্যাকসিনের উচ্চ মাত্রা দেওয়া হয়েছিল এবং অন্য চারটি কম ডোজ দেওয়া হয়েছিল। উচ্চ পরিমাণে ডোজ প্রাপ্ত বানরগুলো কোভিড-১৯ সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত ছিল এবং তাদের ফুসফুস থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে করোনাভাইরাস। এখন অপেক্ষা দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিনোভ্যাক।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় : প্রাণঘাতী এ ভাইরাস প্রতিরোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে যৌথভাবে ভ্যাকসিন তৈরি করেছে যুক্তরাজ্যে খ্যাতনামা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ইতোমধ্যে তাদের এ আবিষ্কার সারা পৃথিবীতে আলোড়ন তুলেছে। তাদের দাবি, সেপ্টেম্বরেই বাজারে আসতে পারে ভ্যাকসিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনার ইনস্টিটিউট ভ্যাকসিনটিকে কাজ করতে বিজ্ঞানীরা সাধারণ কোল্ড ভাইরাস (অ্যাডেনোভাইরাস) এর দুর্বল স্ট্রেন ব্যবহার করেছিলেন যা শিম্পাঞ্জিতে সংক্রমণ ঘটায়। ইতিমধ্যে এই ভ্যাকসিনটি বানরের ওপর প্রয়োগ করে সফল হয়েছে। সেই সাথে মানুষের ওপরও ট্রায়াল দেয়া হয়েছে।

সানোফি : মার্কিন কোম্পানি গ্লাক্সো স্মিথক্লেইন প্লাকের সঙ্গে যৌথভাবে ভ্যাকসিন তৈরি করছে ফরাসি প্রতিষ্ঠান সানোফি। তারা সম্প্রতি জানিয়েছে, ভ্যাকসিন তৈরিতে অনেকটাই এগিয়ে গেছে তারা। ২০২০ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষা শেষ হবে বলে জানিয়েছে সানোফি। সেই সাথে ২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই ভ্যাকসিন বাজারে পাওয়া যাবে।

ক্যানসিনো বায়োলজিক্স : কোভিড-১৯ এর জন্য একটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরি করছে চীনা ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী ক্যানসিনো বায়োলজিকস ইনক। এটিকে এগিয়ে থাকা ভ্যাকসিন হিসাবে তালিকাভুক্তও করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।বর্তমানে ভ্যাকসিনটি বিকাশের জন্য একটি অ-প্রতিলিপি ভাইরাল ভেক্টর প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অ্যাডেনোভাইরাস টাইপ৫ ভেক্টরটিতে কাজ করছে এ সংস্থাটি।

ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালস : সান দিয়াগোর ল্যাবে একটি ডিএনএভিত্তিক ভ্যাকসিন তৈরির কথা জানিয়েছে মার্কিন কোম্পানি ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালস। এর জন্য জৈব প্রযুক্তি সংস্থা কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেইডনেস ইনোভেশনস (সিইপিআই) থেকে ৬.৯ মিলিয়ন ডলার অর্থ পেয়েছে তারা। প্লাইমাউথ সভা-ভিত্তিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাটি ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর প্রথম ধাপে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও সম্পন্ন করেছে।

ভ্যাকসিন তৈরি শুরুর ৮৩ দিনের মধ্যে তারা প্রথম ট্রায়ালটি সম্পন্ন করে। এর দ্বিতীয় ধাপটি শুরু হবে মে মাসের শেষ সপ্তাহে। এই ধাপের পরীক্ষায় ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর ভ্যাকসিন আইএনও-৪৮০০ প্রয়োগ করা হবে। জুন মাসের শেষের দিকে এই পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার আশা করছে কোম্পানিটি।

বাংলা/এসএ/

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0768 seconds.