evaly
  • ১৮ মে ২০২০ ০৪:০৮:৩১
  • ১৮ মে ২০২০ ০৪:০৮:৩১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনাকালীন সাধারণ সর্দিকাশি ও গলাব্যথায় করণীয়

ফাইল ছবি


ডা. মো. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন :


বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। দিন দিন এর ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে মার্চ-এপ্রিল-মে মাসে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে সাধারণ ফ্লু বা সর্দিকাশি ও গলাব্যথাও বাংলাদেশের একটি সাধারণ সমস্যা। সর্দিকাশি গলাব্যথা মানেই আপনি করোনা আক্রান্ত নন। তবে উপসর্গের মিল থাকায় সাধারণ ফ্লু জাতীয় সমস্যাকেও এখন হালকা ভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।

সাধারণ ফ্লু কি?

সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সর্দিকাশি, জ্বর, গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, হাঁচি ইত্যাদি উপসর্গগুলোকে সাধারণ ফ্লু জাতীয় রোগ বলা হয়। এই ফ্লু জাতীয় সমস্যাগুলো শিশুদের বেশি হয়।শিশুদের বছরে ৮-১০ বার সর্দি জ্বর হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সাধারণত কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ১ সপ্তাহে সেরে যায় ভাইরাসজনিত সর্দিকাশি গলাব্যথা।

প্রতিরোধে করণীয় :

# নিয়মিত হাত ধোয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধুয়ে তা শুকিয়ে নিলে যেকোনো ধরনের ফ্লু জাতীয় রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সহজ।

# ফ্লু আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে কাপড়, প্লেট, গ্লাস শেয়ার না করা।

# আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর হাত দিয়ে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ না করা।

# শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা, প্রচুর ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ, কালোজিরা, মধু ইত্যাদি খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা।

# অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি বা কোমল পানীয়, আইসক্রিম ও ফ্রিজের ঠাণ্ডা খাবার না খাওয়া।

# ধুলোবালি এড়িয়ে চলা।

ঘরোয়া চিকিৎসা :

সাধারণ সর্দি-জ্বর বা ফ্লু হলে যেসব বিষয় মেনে চললে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব,

# প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি, ফলের রস বা তরল পানীয় পান করা।

# প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমানো ও বিশ্রাম নেয়া।

# ঠাণ্ডা পরিবেশ পরিহার করা ও গরম কাপড় পরিধান করা।

# গলা ব্যথা হলে হালকা গরম লবন পানি দিয়ে গার্গল করা।

# আদাযুক্ত চা পান করা।

# এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল বা এন্টি হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।

চিকিৎসকের প্রয়োজন হলে করণীয় :

# করোনা প্যান্ডেমিক চলাকালীন সময়ে ফ্লু জাতীয় সমস্যাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। ৩/৪ দিনে উপসর্গের উন্নতি না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

# সারাদেশেই চিকিৎসকগণ এখন টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজনে টেলিমেডিসিন সেবা নেয়া যেতে পারে।

# যেহেতু সাধারণ সর্দিকাশি ও করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক উপসর্গ অনেকটাই এক তাই করোনা সংক্রমণের সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে এবং করোনা সংক্রমণের পরীক্ষা করতে হবে।

# বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।

লেখক : এমবিবিএস, এফসিপিএস (ইএনটি), নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ, শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0736 seconds.