• ক্রীড়া ডেস্ক
  • ১৯ মে ২০২০ ১১:৩৮:৫৬
  • ১৯ মে ২০২০ ১১:৩৮:৫৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

প্রশিক্ষণ ও ডায়েটের ধারাবাহিকতায় সফল কোহলি

ছবি : লাইভ ভিডিও থেকে নেয়া

প্রশিক্ষণ ও ডায়েটের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই সফলতা পেয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের প্রজন্মসেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। তিনি যে শুধু ভারতীয় ক্রিকেটের বর্তমান সময়ের সেরা তাই নন, গোটা বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদেরও একজন কোহলি। তার এই সাফল্যের পেছনের গল্প জানিয়েছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটার তামিম ইকবালের সাথে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিমের ফেসবুক লাইভে গতকাল ১৮ মে, সোমবার রাতের অতিথি ছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট। সেখানেই দুই দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতিসহ ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে কথা বলেন তারা।

এসময় দুই অধিনায়ক করোনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের লড়াই নিয়ে কথা বলেন। বিরাট কোহলি বলেন, ‘এটি একটি ধীর প্রক্রিয়া। এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে অনেক সময় লাগবে। আমাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে এবং আমি মনে করি পৃথিবী কখনই আর একই রকম থাকবে না।’

আগামী দিনে অনেক কিছুই বদলে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারঘোষিত স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়মগুলো আমাদের মেনে চলা উচিত। এগুলোকে আমরা সহজভাবে নিতে পারি না।’

এসময় উভয় দেশের দরিদ্র মানুষ ও প্রবাসী শ্রমিকদের খোঁজখবর রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক।

বিরাট বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মানুষ যখন দেখে যে কেউ কোনো একটা বিষয় মোকাবিলা করতে লড়াই করছে তখন সাহায্য করার জন্য প্রত্যেকে এগিয়ে আসে। আমি মনে করি যে উভয় দেশের অনেক দরিদ্র মানুষ রয়েছে এবং আমাদেরকে তাদের সহায়তা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের খোঁজখবর নেয়া দরকার, যারা খাবার এবং মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারছেন না। সরকার এখন তাদের নিজ দেশে ফিরে আসার অনুমতি দিচ্ছে।’

ওয়ানডে ক্রিকেটের ব্যাটসম্যানদের র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে রয়েছেন কোহলি। সেইসাথে টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় ও টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের দশম অবস্থানে আছেন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতে এই পথ চলাটা এত মসৃণ ছিল না তার। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরুর দিকে তাকে দলে টিকে থাকতেই লড়তে হয়। পরবর্তী দু-তিন বছরে বিরাটের উন্নতির বিষয়টি তুলে আনেন তামিম। কিভাবে তার সাফল্য আসে তা জানতে চান তিনি।

জবাবে বিরাট বলেন, ‘কোনো ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে আসার পরে সে চিন্তা করে কীভাবে একটি ভালো ক্যারিয়ার গড়া যায়, কখনো কখনো সে নিজেকে নিয়ে দিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়।’

ক্যারিয়ারের শুরুতে কয়েকটি ম্যাচ খেলার পড়ে দলে জায়গা হারানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। কোহলি বলেন, ‘২০০৯ সালে আমি আরো একটি সুযোগ পাই। তখন থেকেই আমার আত্মবিশ্বাস বাড়া শুরু হয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকানোর পরে আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম যে আমাকে আরো দীর্ঘ সময়ের জন্য এরকম খেলে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যাটসম্যানকে তার ক্যারিয়ারের একটি সময় কাটানোর জন্য যে বিষয় প্রধান হিসেবে দেখা দেয় তা হলো মানসিকতা।’

প্রতিপক্ষকে নিয়ে কোনো ব্যাটসম্যানের বেশি চিন্তা করা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘এটি না করে, তাকে কীভাবে আরো খেলা যায় সে মানসিকতা তৈরি করা উচিত।’

কোনো ম্যাচের আগের দিন বেশি প্রশিক্ষণের উপর জোর না দিয়ে তার নিজের খেলাটি খেলায় মনোযোগী হতেও বলেন বিরাট। তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যাটসম্যান যদি তার প্রশিক্ষণ এবং ডায়েটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন এবং যদি খেলার জন্য ফিট মনে করেন তবে ম্যাচের দিনেই খেলতে পারেন।’

এগুলো মেনে চললেই প্রতিবার সেরা খেলোয়াড় হওয়ার সুযোগ থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তামিমের ফেসবুক আড্ডায় দ্বিতীয় ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে গতকাল যোগ দিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। এর আগে এসেছিলেন ওপেনিং ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা। তবে প্রথম বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এই আড্ডায় যোগ দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসি।

বাংলা/এসএ/

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0656 seconds.