• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৯ মে ২০২০ ১৪:০৫:৫৯
  • ১৯ মে ২০২০ ১৪:০৫:৫৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘করোনাকালে অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনের হার বেড়েছে’

ছবি : প্রতীকী

করোনা মহামারীর এই সময়ে মানুষ এখন অনলাইনে নানা কারণে সময় বেশি দিচ্ছে বা দিতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ অফিস, আদালত, ব্যবসা, কেনাকাটা, ক্লাস ইত্যাদি এখন অনলাইনেই চলছে। যদিও আস্ত আস্তে লকডাউন উঠিয়ে দিতে যাচ্ছে অনেক দেশ তবুও অনলাইনে মানুষের উপস্থিতি কমার সম্ভাবনা কম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনলাইনে ক্লাস চলছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরও তাই অনলাইনে উপস্থিতি বেড়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে ছোটদের উপর যৌন নিপীড়করাও অনলাইনে উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ফলে অনলাইনে বেড়েছে ছোটদের উপর যৌন নির্যাতনের হার।

ইইউ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউরোপোলের বরাতে রয়টার্স বলছে, কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ছোটদের সাথে অনলাইনে যৌন নির্যাতনের হার বেড়েছে।

ইউরোপোল গতকাল ১৮ মে, সোমবার সতর্ক করে বলেছে যে, স্কুলগুলো চালু হলে যখন শিক্ষকদের তদারকি বাড়বে তখন হয়ত তখন আরো ঘটনার খবর আমরা ছোটদের কাছ থেকে জানতে পারব।

তাই ইউরোপোলের পরিচালক ক্যাথরিন ডি বোল ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে শুনানিতে বলেছেন, ‘সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক বিষয় হলো অনলাইনে শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান কার্যকলাপ।’

বেলজিয়ামের পুলিশের প্রাক্তন প্রধান ডি বোল বলেছেন, “২৭টি ইইউভুক্ত রাষ্ট্রের তথ্য বলছে, অবৈধ ওয়েবসাইটগুলোতে অনুপ্রবেশ বেড়েছে এবং শিশুদের যৌন সামগ্রীর বিক্রয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্মও অনেক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইইউ এর জাতীয় আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে অনলাইনে “পেডোফাইল’র (ছোটদের উপরে যৌন নিপীড়ন) ঘটনা বেড়ে গেছে।”

ডি বোল বলেছেন, ‘যৌন নিপীড়করা ওয়েবে বাচ্চাদের ক্রমবর্ধমান এক্সপোজারকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। লকডাউনের এ সময়ে শিশুরা অনলাইনে হয়ত কখনো কখনো পর্যাপ্ত সুরক্ষিত নয় এমন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠ নিচ্ছে।’

তিনি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শিশুরা যখন আবার স্কুলে যেতে শুরু করবে এবং তারা তাদের শিক্ষকদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাবে তখন আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে আরো ভাল ধারণা পাব।’

ইউরোপেলের বরাতে ডি বোল আরো বলছিলেন, মার্চ মাসে অনলাইনে স্পেনে বছরের এই সময়ের রেকর্ড শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিলো।

নাগরিক সমাজ সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক ইসিপিএটি এ প্রেক্ষিতে তাদের উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, এখন শিশুদের যৌন নির্যাতনের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা আগের চেয়ে সহজ।

সংগঠনটি বলছে যে, এখন অনলাইনে শিশুদের সংস্পর্শে আসা এবং সমমনা অপরাধীদের সন্ধান করা পেডোফাইলদের পক্ষে সহজ ছিল। আর এর ফলে শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের উপাদানগুলোতে ঢোকা, ডাউনলোড, তৈরি এবং শেয়ার করে নেওয়া সহজ হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0824 seconds.