• বিদেশ ডেস্ক
  • ২০ মে ২০২০ ১৫:২০:০৮
  • ২০ মে ২০২০ ১৫:২০:০৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনা কালে যেভাবে সুস্থ থাকবেন গর্ভবতী মায়েরা

ছবি : প্রতিকী

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) বিপর্যস্ত এই ধরণী। তাই এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলছে লকডাউন। এমতাবস্তায় বেশি সাবধানে থাকতে হবে অসুস্থ, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের। বিশেষ করে গর্ভবতীদের দিকে রাখতে হবে বাড়তি সতর্কতা।

এই পরিস্থিতিতে ও লকডাউন উঠে গেলে সুস্থ থাকতে নানা ধরণের নির্দেশনা দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এবার মায়েদের সুস্থতার জন্য কিছু গুরুত্বপুর্ণ পরামর্শ দিলেন কলম্বিয়া হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট গাইনোকলজিস্ট ডা. অভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায়। এমন খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এই সময়।

গর্ভাবস্থার মায়েদের তিনটি পর্যায়েই কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর কিছু পরীক্ষাও করাতে হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের তিন মাসে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করাটা অবশ্যক।

এ সময়ে অবশ্যই ফলিক এসিড ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রতিদিন নিয়ম করে খেতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রতি বার খাওয়ার আগে বা বাইরে থেকে এসে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, চোখে, মুখে, নাকে কখনোই হাত দেয়া যাবে না। পরিবারে কারো সর্দি-কাশি বা হাঁচি হলে তার কাছে থেকে দূরে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে গর্ভবতীকে এক রকম হোম কোয়ারেন্টাইনে বা আলাদা ঘরে থাকতে হবে। আর সব সময় নাক মুখ ঢেকে মাস্ক পরতে হবে।

গর্ভধারণের শুরু থেকেই আলট্রাসনোগ্রাফি ও অন্যান্য পরীক্ষার দিন আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। খুব অসুবিধা না হলে প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে এই সব টেস্ট কয়েক দিন পেছনো যেতে পারে। তবে কখনোই কোনো পরীক্ষা বাদ দেয়া বা দীর্ঘ দিন ফেলে রাখা যাবে না। সেক্ষেত্রে আগাম অ্যাপয়েনমেন্ট নিয়ে রাখতে হবে। আর সব রকম সাবধানতা সহকারে মাস্ক পরে টেস্ট করাতে যেতে হবে। বাইরে বের হওয়ার সময় ঘড়ি, মোবাইল, আংটি জাতীয় জিনিসপত্র না ব্যবহার করাই ভালো। কারণ এগুনো থেকেও করোনা ছড়াতে পারে।

পরীক্ষাকেন্দ্রে অন্যান্য সকলের থেকে গর্ভবতী মাকে সব সময় অন্তত ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আর কোন অবস্থাতেই চোখে, মুখে বা নাকে হাত দেয়া চলবে না। এরপর বাসায় ফিরে সাবান দিয়ে ভাল করে গোসল করতে হবে এবং পোশাক ও মাস্ক সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে দিতে হবে।

এমনিতেই গর্ভবতী নারী ও নতুন মায়েরা নানা কারণে ভয়ের মধ্যে থাকেন। প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে এই ভয় আরো বেড়ে যায়। করোনা পরিস্থিতিতে এই ভয় আরো বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই অতিরিক্ত আতঙ্ক থেকে হতে পারে মানসিক বিষণ্নতা, যেটি মা ও অনাগত সন্তান উভয়ের জন্যই ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এজন্য টেলিভিশনে বা ইন্টারনেটে করোনার খবর না দেখে সিনেমা দেখুন, গান শুনুন। বই পড়ুন, ফোনে গল্প করুন কাছের মানুষদের সঙ্গে। অকারণ ভয় না পেয়ে আনন্দে থাকুন, আনন্দে বাঁচুন। আর আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। কোনো অসুবিধা হলেই ওই চিকিৎসক বা অন্য কোন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকে ফোন করে সব রকম সাবধানতা নিয়ে গর্ভবতী মাকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হবে।

গর্ভবতী নারীর সর্দি-কাশি বা হাঁচি হলেই বিপদ। এ সময় গরম পানি খেতে হবে এবং গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করতে হবে। তবে এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকলে এবং ঠোঁটে বা মুখে নিল আভা দেখা দিলে করোনার পরীক্ষা করাতে হবে। তবে করোনা পজেটিভ হলেও ভয় পাবেন না, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিয়ম মেনে সাবধানে থাকলে করোনা সেরে যায়।

তবে মায়েরা অনাগত বা সদ্যজাত সন্তানের জন্য চিন্তা করবেন না, এই অদৃশ্য শত্রু শিশুদের শরীরে বিশেষ সুবিধা করতে পারছে না, শিশু ও কিশোরদের কাছে করোনা এতোটা ভয়ানক নয়। সম্প্রতি দিল্লীর অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে করোনায় আক্রান্ত মায়ের গর্ভজাত সন্তানের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

এদিকে গবেষকরা দেখেছেন, মায়ের দুধে করোনার ভাইরাস থাকে না। তাই মায়েরা নিশ্চিন্তে সন্তানকে নিজের বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চলছে। এর মধ্যে হায়দারাবাদের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা চলছে। নতুন মায়ের জন্য এই ভ্যাকসিনটি বিশেষ কার্যকরী বলে সংস্থার পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0724 seconds.