• বিদেশ ডেস্ক
  • ২১ মে ২০২০ ০১:৪৭:০২
  • ২১ মে ২০২০ ০১:৪৭:০২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গকে ২৮৩ বছরের পুরোনো স্মৃতি মনে করালো আম্পান

ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গকে এক ভয়াল দিনের সাক্ষী করে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। প্রচণ্ড গতিতে বাতাস, উথালপাথাল হল সমুদ্র, চারিদিকে নেমে এল আঁধার, কেড়ে নিল প্রাণ। গাছ-পালা, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে দিয়ে কয়েকঘণ্টা ধরে ধ্বংসলীলা চালাল আম্পান।

আইলা, বুলবুল, ফণীর মতো অনেক ঘূর্ণিঝড়ের ঝাপটা খেয়েছে, তবে স্মরণকালে এমন ঝড় দেখেনি কলকাতাবাসী। বরং মনে করালো ১৭৩৭ সালের সাইক্লোনের কথা। যা বইয়ের পাতায় পড়েছিলেন সবাই।

১৭৩৭-এর ১১ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে ধেয়ে এসে আছড়ে পড়েছিল সেই ভয়াবহ সাইক্লোন। তার তাণ্ডবলীলায় তছনছ হয়ে গিয়েছিলো চারদিক। সাইক্লোনের ঝাপটায় সেদিন গঙ্গায় প্রায় ৪০ ফুট উঁচু ঢেউ উঠেছিল বলে জানা যায়। প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে চলেছিল মুষলধারে বৃষ্টি। ঝড়ের আঘাতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো প্রায় ২০ হাজার জাহাজ। মৃত্যু হয়েছিল ৩ হাজার মানুষের।

এরপর মনে আসে কলকাতায় ১৮৬৪ সালের ৫ অক্টোবরের সাইক্লোনের কথা। সেদিনের ঝড়ের তাণ্ডবলীলায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ধসে পরে দু’টি গির্জার চূড়া।

খিদিরপুর ডক থেকে নোঙর ছিঁড়ে গঙ্গায় ভেসে যায় বহু জাহাজ। ২০টি জাহাজ গঙ্গায় ডুবে যায় এবং ১৪৫টি জাহাজ বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে ধাক্কা মারে। একটি জাহাজ বরানগরে লোচন ঘোষের ঘাটে উঠে পড়ে। দ্বিতীয় জাহাজটি বরানগর জুট মিলের ঘাটে ধাক্কা মারে। তৃতীয়টি বরানগরের কুটিঘাটের কাছে জয়মিত্র কালীবাড়িতে ধাক্কা মেরে একাংশ ভেঙে দেয়।

এসব কথা মাথায় রেখেই এবার সতর্কতা নেয়া হয়েছে। শালিমারে দুরন্ত এক্সপ্রেসের চাকা চেন দিয়ে ট্র্যাকের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে লঞ্চ। তবে এসবের মধ্যেও আম্পানের তাণ্ডবলীলা দেখে অনেকেরই মনে পড়ে যাচ্ছে ১৭৩৭ কিংবা ১৮৬৪-র সেই ছবি।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১০ থেকে ১২ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০ মে, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ সুন্দরবনে আছড়ে পড়ার পর দক্ষিণে তাণ্ডব চালিয়ে যখন উত্তর ২৪ পরগনায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রবল ঘূর্ণিঝড়, সেইসময় রাত ৯টার দিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ধ্বংস হয়ে গেছে। বাড়িঘর, নদী বাঁধ ভেঙে গেছে, ক্ষেত ভেসে গেছে।’

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার’এর খবরে বলা হয়, বক্তব্যের শুরুতেই মমতা বলেন, ‘দুই ২৪ পরগনাই ধ্বংস হয়ে গেছে...বাড়িঘর, নদী বাঁধ ভেঙে গেছে, ক্ষেত ভেসে গেছে। এখন পর্যন্ত পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে।’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাথরপ্রতিমা, নামখানা, বাসন্তী, কুলতলি, বারুইপুর, সোনারপুর, ভাঙড় থেকে যা খবর এসেছে তা ভয়াবহ। খারাপ খবর উত্তর ২৪ পরগনা থেকেও। তবে ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত সবিস্তার তথ্য পেতে ৩-৪ দিন লেগে যাবে।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণবঙ্গ প্রায় ৯৯ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে। একটা ডিজাস্টার হয়েছে, আমরা শকড। আমরা খুবই স্তম্ভিত, খুব খারাপ লাগছে।’

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0687 seconds.