• বিদেশ ডেস্ক
  • ২১ মে ২০২০ ০৮:৫২:১৭
  • ২১ মে ২০২০ ০৮:৫২:১৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গে যেসব ক্ষয়ক্ষতি করলো আম্পান

ছবি : আনন্দবাজার থেকে নেয়া

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনসহ দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ২০ মে, বুধবারের এই ঝড় রাজ্যটির রাজধানী কোলকাতায়ও ব্যাপক আঘাত হানে। আম্পানের প্রভাবে ১০-১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে আম্পানের হাঘাতে হওয়া ক্ষতির হিসেব করতে আরো দুই-তিন লেগে যাবে। এমন খবর প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার।

প্রশাসনের সূত্র মতে, কোলকাতার রিজেন্ট পার্কে দেয়াল চাপা পড়ে এক নারী ও তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরো দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয় নুরজাহান বেওয়া (৫৬) নামে এক নারী গাছ ভেঙে পড়ে এবং গোপাল ভুঁইয়া (৩২) নামে এক যুবক ঝড়ে উড়ে আসা অ্যাসবেস্টসের আঘাতে মারা যান। বসিরহাট-২ ব্লকের মোহান্ত দাস (২০)  নামে এক যুবক গাছ পড়ে এবং হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় লক্ষ্মীকুমার সাউ নামে ১৩ বছরের এক কিশোরী বাড়ির টিনের চাল ভেঙে মারা যান। পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরে মাটির বাড়ি চাপা পড়ে ছবিরানি শিট (৫৮) এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এতে তার ছেলেও আহত হয়েছেন।

কচুবেড়িয়া জেটি ভেঙে মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে সাগরদ্বীপ। নামখানা, গোসাবা, পাথরপ্রতিমা, ভাঙড়, বসিরহাটসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচুর ঘরবাড়ি, মাঠের ফসল নষ্ট হয়েছে। সুন্দরবনে বন দপ্তরের বিভিন্ন ক্যাম্পে পানি ঢুকেছে। তবে মানুষকে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ায় মৃত্যু কম হয়েছে।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ডিজি এস এন প্রধান জানান, পশ্চিমবঙ্গে ৫ লাখ ও ওড়িশায় প্রায় দেড় লাখ লোককে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় বাহিনীর ৪১টি দল কাজ করছে।

আবহাওয়া বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (পূর্বাঞ্চল) সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সুন্দরবনসহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮৫ কিমি বেগে ঝড় বয়ে গিয়েছে। আইলার সময়ে উপকূলবর্তী এলাকায় ঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। আর কলকাতায় আয়লার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। এদিন আম্পানের তাণ্ডবের সময়ে ঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার এবং কোলকাতার আলিপুরে ১১৪ কিলোমিটার। রাত পর্যন্ত কোলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ২৪৪.২ মিলিমিটার।

তিনি আরো জানান, কলকাতায় তাণ্ডব চালিয়ে ঝড়টি নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের দিকে বয়ে গিয়েছে। ২১ মে, বৃহস্পতিবার সকালে সেটি বাংলাদেশে ঢুকতে পারে। তবে তার প্রভাব আজ বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাওয়া যাবে।

লণ্ডভণ্ড অবস্থা বিধাননগর পুর এলাকার। নিউ টাউন, রাজারহাটেও বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সল্টলেকের অধিকাংশ ওয়ার্ডে গাছ ভেঙে পড়েছে। দত্তাবাদসহ একাধিক জায়গায় কাঁচা ঘর ভেঙে পড়েছে। তবে বিপজ্জনক বাড়ি, নিচু এলাকা থেকে আগেই লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছিল প্রশাসন।

উত্তর ২৪ পরগনায় সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে বসিরহাটে। প্রশাসনের দাবি, প্রায় ৮০ হাজার মানুষ ত্রাণশিবিরে রয়েছেন। জেলায় প্রায় ১০ হাজার বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। দমদম, বিরাটি, নিউ ব্যারাকপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসতের বহু এলাকায় খুঁটি উপড়ে বা ট্রান্সফর্মার ফেটে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে। হাওড়ার বহু জায়গায় বাড়ি ভেঙেছে, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। ঝড়ের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হিমশিম খেয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। বালিসহ বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে। জলোচ্ছ্বাস হাওড়া ফেরিঘাটের সবচেয়ে উঁচু জেটিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। হাওড়ার ৫০০ বাসিন্দাকে আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছে।

প্রশাসন জানায়, কাঁথি মহকুমার কয়েক জায়গায় সমুদ্র বাধের ক্ষতি হয়েছে। তাজপুর, জলধা, চাঁদপুর, লছিমপুরের মতো বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকেছে। দিঘায় একাধিক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে। ক্ষতি হয়েছে প্রচুর কাঁচাবাড়ির। নদিয়ায় প্রশাসন ৪৯৫টি ত্রাণ শিবির খুলেছে। রয়েছে ফ্লাড শেল্টারও।

বাংলা/এনএস

সংশ্লিষ্ট বিষয়

আম্পান পশ্চিমবঙ্গ ভারত

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0856 seconds.