• বিদেশ ডেস্ক
  • ২২ মে ২০২০ ১৫:০০:৫০
  • ২২ মে ২০২০ ১৫:০০:৫০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস গবেষণায় চীন শীর্ষে : অক্সফোর্ড

ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এটিকে রুখে দেয়ার জন্য ভ্যাকসিন বা ওষুধ আবিষ্কারের জন্য বিশ্বব্যাপী নানা ধরণের গবেষণা চলছে। কিন্তু অর্থ বা ফান্ড ছাড়া তা চলতে পারে না। ১৯০০ সালের পর থেকে দেখা গেছে এ ধরণের গবেষণায় আমেরিকার অর্থায়ন থাকতো অন্যদের চেয়ে দ্বিগুন। আর নেতৃত্ব দিতো আমেরিকার সিডিসি, হার্ভার্ড, জন হপকিন্স ইন্সটিটিউট।

কিন্তু করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে ভিন্ন। এখানে আমেরিকা নয় বরং চাইনিজ সরকারি সংস্থা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ফান্ডিং করছে। অক্সফোর্ডের একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এমন খবর প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

ওই গবেষণায় বলা হয়, বিশ্বে করোনাভাইরাস গবেষণায় সবচেয়ে বেশি অনুদান প্রদান করছে একটি চীনা সরকারি সংস্থা। চীনের স্টেট কাউন্সিলের সাথে সম্পৃক্ত চীনের জাতীয় প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ফাউন্ডেশন এই অর্থায়ন করছে। উক্ত গবেষণা বলছে, ১৬ মে পর্যন্ত শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক জার্নালে ভাইরাস সম্পর্কিত প্রকাশিত ১২৪ টি গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে চীন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পেটার রাদানলিভ এবং সহকর্মীরা জানান, এসব গবেষণায় দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বৃহত্তম অর্থ-ব্যয়কারী সংস্থা ছিলো মার্কিন স্বাস্থ্য ও জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা (এনআইএইচ)।

তবে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ইউরোপের দেশশুলো এ গবেষণার জন্য তুলনামূলকভাবে খুব কম অর্থ ব্যয় করেছে। যদিও এ পর্যন্ত সর্বাধিক করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সেখানে।

মঙ্গলবার প্রিপ্রিন্ট ওয়েবসাইট arXiv.org পোস্ট করা একটি নন-পিয়ার রিভিউ পেপারে রাদানলিভ এবং সহযোগীরা জানিয়েছেন, ‘ইইউ তহবিল থেকে মাত্র ছয়টি ডেটা রেকর্ড রয়েছে।’

এছাড়া ডিসেম্বরে উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে স্বেচ্ছাসেবক বিজ্ঞানীদের কয়েক হাজার গবেষণা পত্র অনলাইনে পোস্ট করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো- চিকিৎসা এবং ভ্যাকসিন, পর্যাপ্ত তহবিল ছাড়া এটা করা সম্ভব নয়।

অক্সফোর্ডের গবেষক দলটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক শাখার কেবল শীর্ষ জার্নালগুলোর একটি ডাটাবেস, ওয়েব অফ সায়েন্স কোর কালেকশন থেকে ৩০০০ এর বেশি পিয়ার-রিভিউ পেপারগুলো দেখে তাদের এই মতামত তুলে ধরেছেন।

দেখা গেছে, গবেষণার সাথে জড়িত ১০টি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে সাতটিই চীনের। একদম শীর্ষে আছে হুয়াজং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি এবং হুয়ান ইউনিভার্সিটি। শীর্ষ দশের মধ্যে একমাত্র হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। অন্যান্য চীনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়, ঝিজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়, হংকংয়ের চীনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফুদান বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অক্সফোর্ড গবেষকরা জানান, ‘বিশ্বব্যাপী কোভিড -১৯ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সাড়া দিতে সকলেই ধীরে চলেছে।’ তারা বলেছে, গবেষণার ফলাফলগুলো এমন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে যেমন- ‘চীনারা হয়ত আগে থেকেই কিছু জানত যা পৃথিবীর বাকি দেশগুলো জানতো না’ বা ‘বিশ্ব কোভিড -১৯ কে প্রথমে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেনি।’ যদিও এটা অনেকটাই জল্পনা কল্পনা।

তবে, চীন এ মহামারীকে বিশেষত প্রাদুর্ভাবের প্রথম পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে এখন অবধি আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, ‘আমরা নিশ্চিতভাবে যা বলতে পারি তা হলো চীনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো মহামারী ও মহামারী সম্পর্কিত শীর্ষস্থানীয় গবেষণা সংস্থাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক দ্রুত কাজ করেছে।’

যেহেতু উহানতে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছিল, তাই হয়ত চীনা বিজ্ঞানীরা এটা নিয়ে আগেই কাজ করতে শুরু করেছিল। তবে গবেষণা প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়, এখন পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত মার্কিন গবেষকরা শীর্ষ জার্নালে ৭০০টি করোনাভাইরাস সম্পর্কিত গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। আর চীন করেছে এ পর্যন্ত ৬৫৮টি।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0777 seconds.