• বিদেশ ডেস্ক
  • ২২ মে ২০২০ ২৩:৩৩:৪৩
  • ২২ মে ২০২০ ২৩:৩৩:৪৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

হার্ড ইমিউনিটির হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠলো সুইডেনে

ছবি : সংগৃহিত

হার্ড (Herd) ইমিউনিটি তত্ত্বের আশায় অন্যান্য নরডিক দেশগুলোর মতো সুইডেনও করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনে যায় নি কখনোই। স্কুল, কলেজ, বার, রেস্তোরা সবই খোলা রেখেছিলো। উদ্দেশ্য ছিলো হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা। কিন্তু সুইডেনে প্রকাশিত ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে করোনভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য ঢিলেঢালা পদক্ষেপ গ্রহণ করা সত্ত্বেও এপ্রিলের শেষের দিকে স্টকহোমের মাত্র ৭.৩% লোকের দেহে এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছিলো।

সুইডেনের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সিএনএন-কে দেয়া এই ফলাফলের চিত্রটি অন্যান্য দেশের মতো প্রায় একই রকম। অথচ হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে মোট জনসংখ্যার ৭০-৯০% এর দেহে প্রয়োজনীয় এন্টিবডি তৈরি হতে হয়।

এজন্য চলমান জীবনে খুব হালকা বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশের মধ্যে করোনভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করার একটি আলাদা কৌশল।

সুইডেনের প্রধান মহামারী বিশেষজ্ঞ এন্ডার্স টগনেল বলছিলেন যে এই সংখ্যাটি প্রত্যাশার চেয়ে "কিছুটা কম" তবে উল্লেখযোগ্যভাবে কম নয়, সম্ভবত এক বা দুই ধাপ কম। "

সুইডেনের জনস্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক করা এই সমীক্ষাটির লক্ষ্য ছিলো জনগণের সম্ভাব্য হার্ড ইমিউনিটির অবস্থা পর্যবেক্ষন করা। এক সপ্তাহে ১১১৮ জনের উপর এ পরীক্ষা চালানো হয়। এভাবে আগামী আট সপ্তাহ সময়কাল ধরে এটি পরিচালিত হবে। জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, স্টকহোমের বাইরে অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত ফলাফল পরে প্রকাশ করা হবে।

প্রথম দিকেই এই কৌশলটি নিয়ে সুইডিশ গবেষকরা সমালোচনা করেছিলেন। তারা বলেছিলেন যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরির চেষ্টা করার পক্ষে কম সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা তাদের লক্ষ্য ছিল বলে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেনি।

এদিকে কঠোর লকডাউন দেয়া বা না দেয়ার মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের মাঝে তেমন কোনো ফারাক নেই। যেমন মে মাসের মাঝামাঝি স্পেনে মাত্র ৫% মানুষের দেহে এন্টিবডি পাওয়া গেছে ; যা হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের থেকে বহুদূরে রয়েছে।

হার্ড ইমিউনিটিতে তখনই পৌঁছানো যায় যখন প্রদত্ত জনগোষ্ঠীর ৭০ থেকে ৯০% একটি সংক্রামক রোগের প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। এটা তখনই অর্জিত হতে পারে যখন উক্ত সংখ্যক মানুষ সংক্রামিত হয়, সুস্থ হয় বা ভ্যাকসিনের মাধ্যমে ইমিউনিটি অর্জিত হয়। যখন হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয় তখন রোগটি কম ইমিউনিটির লোকদের মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। কারণ এসব লোকের কাছে রোগটি পৌঁছানোর মতো তখন পর্যাপ্ত সংখ্যক সংক্রামক বাহক আর থাকে না।

জন হপকিন্স এর তথ্য অনুযায়ী সুইডেনে এ যাবৎকালে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৭২ জনে। মোট মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৮৭১ জনের।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0920 seconds.