• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৩ মে ২০২০ ০৯:০৩:৩৭
  • ২৩ মে ২০২০ ১০:৪৭:১৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

হালদা থেকে এক যুগের সর্বোচ্চ ডিম সংগ্রহ

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের হালদা নদী থেকে এক যুগের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ মাছের ডিম সংগ্রহ করেছেন সংগ্রহকারীরা। দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক এই মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রে গত ২১ মে, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ডিম দেয়া শুরু করে কার্প জাতীয় মা মাছ।

পরে গতকাল ২২ মে, শুক্রবার সকাল থেকেই ২৮০টি নৌকায় করে ডিম সংগ্রহে নামেন ৬১৫ জন সংগ্রহকারী। তারা প্রায় ২৫ হাজার ৫৩৫ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছেন, যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে হালদার দুই  তীরে যেন এখন ঈদের আনন্দ। এবার মা মাছ রক্ষায় হালদা নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করায় ডিম সংগ্রহ গতবারের চেয়ে বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অমাবশ্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে প্রবল পাহাড়ি ঢল ও শীতল আবহাওয়ায় নদীতে ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মা মাছ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরিয়া এ বিষয়ে জানান, সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে হালদা স্বরূপে ফিরছে। গত ৪ বছর ধরে হালদায় ডিম আহরণের পরিমাণ বাড়ছে।

এবার ২৮০টি নৌকায় ৬১৫ জন ডিম সংগ্রহকারী মাছের ডিম সংগ্রহ করেছেন উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, সব মিলিয়ে তারা এবার ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি মাছের ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন। যা গত ১০-১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

হালদা থেকে গত কয়েক বছরের ডিম সংগ্রহের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছর ১০ হাজার ২০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছিলেন সংগ্রহকারীরা। এর আগে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করেন তারা।

জানা যায়, অনুকূল পরিবেশ পেলে পরীক্ষামূলকভাবে নমুনা ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মা মাছ। এরপর থেকেই হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম আহরণের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। সাইক্লোন আম্পানের প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবার রাতেই নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ। সে রাত থেকেই নদীর দুপাড়ে শুরু হয় অপেক্ষা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ২৮০টি নৌকায় করে ৬১৫ জন সংগ্রহকারী ডিম আহরণ শুরু করেন। তারা হালদা নদীর গড়দুয়ারা, কান্তার আলী চৌধুরী ঘাট, সত্তার ঘাট, অংকুরী ঘোনা, মদুনাঘাট, নাপিতের ঘোনা ও মার্দাশাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে টানা কয়েক ঘন্টা ডিম আহরণ করেন।

একেক জন ডিম সংগ্রহকারী ৩০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত ডিম আহরণ করেছেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে এবার হালদা থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ডিম আহরণ।

এদিকে হালদাকে আগের রূপে ফেরাতে গত এক বছরে ১০৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন।

তিনি জানান, সেজন্য ড্রেজার, ঘেরা জাল, বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা পাইপ ও নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। সবার সম্বিলিত প্রচেষ্টায় হালদা পুরনো রূপ ফিরে পাচ্ছে।

ডিম ছাড়ার পর মা মাছগুলো খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, এ সময় যাতে কেউ মাছশিকার করতে না পারে সে লক্ষ্যে প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।

হালদা নদী থেকে সংগ্রহ করা কার্প জাতীয় মাছের ডিম দিয়ে এক সময় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মাছ চাষীদের পোনার চাহিদা পূরণ হতো। হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীসহ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনাবৃষ্টি, মা মাছের মৃত্যু, দূষণ, চলমান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজে ড্রেজার ও নৌযান চলাচল বৃদ্ধি এবং ‘কুম’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গতবছর ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে এবার প্রকৃতি ‘সদয়’ থাকলে আরো বেশি ডিম ও রেণু মিলত বলে তাদের ধারণা।

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0813 seconds.