evaly
  • বিদেশ ডেস্ক
  • ২৩ মে ২০২০ ১৫:৩০:৫৯
  • ২৩ মে ২০২০ ১৫:৩০:৫৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনার ভ্যাকসিন তৈরির তড়িৎ পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত

সব জল্পনা কল্পনার অবসান হতে যাচ্ছে বলে মনে হয়। কারণ করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালের মধ্যে নিরাপদ ও কার্যকর একটি ভ্যাকসিন তৈরি ও সরবরাহ করার লক্ষ্যে তড়িৎ গতিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা মানুষের উপরে বৃহত্তর পরিসরে প্রয়োগ করে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও নিরাপদ অবস্থা বোঝার জন্য কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। সম্ভাব্য সর্বাধিক প্রতিশ্রুতিশীল ৬ টি ভ্যাকসিন ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের উপরে পরীক্ষা করার একটা বিশাল প্রচেষ্টার পরিকল্পনা শুরু করতে যাচ্ছে বলে প্রোগ্রামটির শীর্ষস্থানীয় মার্কিন বিজ্ঞানীরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

আর এর ফলে একটি ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়ায় ১০ ​​বছর ধরে যা যা করা হয় তা মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভবপর হবে। এই দ্রততর প্রচেষ্টার কারণ হচ্ছে, করোনা ভাইরাস আচমকা বিশ্বব্যাপী ৫০ লাখের বেশি লোককে সংক্রামিত করেছে এবং প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজারের এরও বেশি মানুষ তাতে মারা গেছে। আর এটি সারাবিশ্বের অর্থনীতিকে একদম বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

একটা কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরির জন্য শীর্ষস্থানীয় ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজ নিজ ভ্যাকসিন ট্রায়ালে গিয়ে ব্যর্থ হলে সে সংক্রান্ত সকল তথ্য ক্লিনিকাল ট্রায়াল নেটওয়ার্কগুলোর অন্য প্রতিযোগীদের কাছে ভাগাভাগি করে নেয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছেন বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষের এক একটা গ্রুপে এক একটা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে তার কার্যকারিতা ও সুরক্ষার বিষয়গুলো পরীক্ষা করা হবে। আর তা সামনের জুলাইয়েই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিয়াটেলের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার সেন্টারের ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ ডঃ ল্যারি কোরি বলেছেন, যিনি এই পরীক্ষার ডিজাইন তৈরিতে সহায়তা করছেন তিনি বলেছেন "যদি ( ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরে) আপনি সুরক্ষাজনিত কোন সমস্যা না দেখেন তাহলে আপনি এ পরীক্ষার কাজটি চালিয়ে যাবেন।" ভ্যাকসিন ট্রায়ালের এ কাজটি শুরু হচ্ছে সরকারি- বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে।

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করার জন্য হোয়াইট হাউস ঘোষিত "অপারেশন ইয়ার্প স্পিড" এর সাথে এ গবেষণা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া পুরো পুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর আগে ভ্যাকসিনগুলোর পশুর উপরে পরীক্ষার কাজটি সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।

ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়ায় পশুর উপরে প্রয়োগের পরের ধাপে অল্প সংখ্যক নীরোগ স্বেচ্ছাসেবীদের উপরে এটি প্রয়োগ করার মাধ্যমে মানব দেহে এর পরীক্ষার কাজ শুরু হয়। তারপরে আসে সঠিক ডোজ বের করা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এর পরীক্ষা করার কাজটা শুরু করা।

চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে হাজার হাজার লোকের মধ্যে বৃহত্তর পরিসরে পরীক্ষার কাজ শুরু করা হয়। এসব পরীক্ষা সফল হলেই কেবল কোন ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ঐ ভ্যাকসিন উৎপাদনে যেতে পারে।

ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে এই যে ধাপগুলো অনুসরণ করা হয় করোনার ক্ষেত্রে সেসবই করা হবে। তবে করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময়ে এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ওভারল্যাপ হয়ে যাবে। বিশেষত মাঝের ধাপ এবং শেষ ধাপের ট্রায়ালগুলো- কলিনস এবং কোরি বলেছিলেন।

ভ্যাকসিনের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিলিয়ন ডলার সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অন্যদিকে,অ্যান্টনি ফৌসি যিনি এনআইএইচ-এর জাতীয় অ্যালার্জি এবং সংক্রামক রোগের ইনস্টিটিউটগুলোর পরিচালক তিনি বলছিলেন, ‘সমস্ত পদক্ষেপ এবং প্রক্রিয়া যদি জায়গা মতো পড়ে তবে আপনি অবশ্যই ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যে একটি ভ্যাকসিন পেয়ে যেতে পারেন।’

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0666 seconds.