• অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • ২৩ মে ২০২০ ১৯:২৭:১৬
  • ২৩ মে ২০২০ ১৯:২৭:১৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনায় নিঃস্ব খামারি, নিরব স্থানীয় প্রশাসন

ছবি : সংগৃহীত

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) লকডাউনের কবলে পুরো দেশ। এতে করে দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। এ পরিস্থিতির ঠাকুরগাঁওয়ের বন্ধ হয়ে গেছে শতাধিক মুরগির খামার। নিঃস্ব হওয়ার পথে উদ্যোগতারা। এরপরও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ।

মূলত ঠাকুরগাঁও কৃষি নির্ভর জেলা। তাই এই অঞ্চলের কৃষকরা হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল পালন করে থাকেন। বিশেষ করে মুরগির খামার গড়ে তুলেছে শত শত কৃষক। নানা কারণে কখনো লাভের মুখ দেখে আবার কখনো লোকসান গুনেন তারা। কিন্তু করোনা এবার খামারিদের একবারে নিঃস্ব করে দেয়ার পথে।

করোনার শুরুতে সারা দেশে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পরেন তারা। বাধ্য হয়ে ব্রয়লার মুরগি ৫৫-৬০, পাকিস্তানি মুরগি ১০০ ও দেশি মুরগি ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। ডিম বিক্রি করতে হয়েছে ২০ টাকা হালি দরে। এভাবে খামারিরা ধীরে ধীরে মুরগি শূন্য হয়ে গেছেন। নতুন করে আর খামারে মুরগি পালন করতে পারেননি।

সদর উপজেলার গড়েয়া, চিলারং ও সালন্দর এলাকার জয়নাল আলী, সফিকুল ইসলাম ও কিসমত আলীসহ বেশ কয়েকজন খামারি জানান, ঋণ করে মুরগি পালন করেন। খামারের পেছনে প্রতিদিন শ্রমিকরাও কাজ করেন। ফলে খরচ অনেক বেশি। কিন্তু এখন এত কম দামে মুরগি ও ডিম বিক্রি করে খামার চালানো সম্ভব নয়।

তারা আরো জানান, অনেক খামার মালিক এখন পথে বসেছেন। তারা আবার খামার চালু করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। অর্থের অভাবের কারণেও তাদের পক্ষে নতুন করে দাঁড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কোনো লোক তাদের খোঁজ নিতে আসেননি। আগে থেকেই তারা মাঠে আসতেন না। খামারিরা কোনো পরামর্শ পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে জেলায় বর্তমানে ৭০০ অধিক মুরগির খামার রয়েছে। বার্ষিক মুরগি উৎপাদন হয় ৪০ লাখ ২২ হাজার ৯৯১টি। ডিম উৎপাদন হয় প্রায় ১৮ কোটি। তবে কতগুলো খামার বন্ধ হয়েছে তার হিসাব এ মুহূর্তে আমাদের কাছে নেই বলেও জানান তিনি।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0756 seconds.