• ২৪ মে ২০২০ ০০:৪০:৪৪
  • ২৪ মে ২০২০ ০০:৪০:৪৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এবারের ঈদুল ফিতরে কুরবানীসম ত্যাগ

আমিনা সুলতানা সানজানা। ছবি : সংগৃহিত


আমিনা সুলতানা সানজানা :


ছোট বেলায় আম্মার কাছে শুনেছিলাম ঈদুল আজহা অথবা কুরবানী ঈদের ইতিহাস। আল্লাহ তায়ালা হযরত ইব্রাহীম (আ:) কে স্বপ্নে আদেশ করেন তার সবচেয়ে প্রিয় প্রাণী কুরবানী দেয়ার জন্য। তিনি পরদিন ১০ টি উট কুরবানী দেন। কিন্তু আবার একই স্বপ্ন দেখেন। অতঃপর তিনি ১০০ টি উট কুরবানী দেন। কিন্তু সেই একই স্বপ্ন আবার দেখেন। তিনি তখন বিচলিত হয়ে পড়েন। এবং চিন্তা করে বের করেন ওনার কাছে অধিক প্রিয় প্রানী হচ্ছে তার পুত্র ইসমাইল। তখন তিনি স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে চোখের পানি ফেলে তার প্রাণ প্রিয় পুত্রকে কুরবানী দিতে তৈরি হোন।

কিন্তু কি আশ্চর্য! হটাৎ করেই পুত্র ইসমাইলের জায়গায় অন্য একটি প্রাণী কুরবানী হয়ে গেল! এর থেকে আমরা শিক্ষা পাই আল্লাহর আদেশ পালন করার জন্য কিভাবে হযরত ইব্রাহীম (আ:) তার নিজ পুত্রকে কুরবানী দিতে প্রস্তুত হয়ে যান। অতএব কুরবানী হচ্ছে আমাদের কাছে অতি প্রিয় কিছুর ত্যাগ।

বড় হয়ে বুঝতে পেরেছি গরু, ছাগল যেটাই আমরা কুরবানী দেই না কেন ওটা আমাদের পালা নয়। তাই অতি প্রিয়ও নয়। আমরা আসলে কুরবানী দেই আমাদের অর্থের। সারা বছর কষ্ট করে উপার্জন করা অর্থের একটা অংশ আমরা কুরবানী দেই। আরো বড় হতে হতে দেখলাম, আসলে আর্থিকভাবে যারা সামর্থ্যবান তাদের কাছে এটা তেমন একটা বড় বিষয় নয়। চাকরিজীবীরাও বোনাসের টাকা থেকে কুরবানী দেন। আসলে কুরবানীর সেই ত্যাগ খুঁজে পাইনি শুধু গরিব দুঃখীদের সামান্য মাংস বিতরণ করা ছাড়া।

কিন্তু এ বছর করোনার কারণে যেন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি ত্যাগ কাকে বলে। শুধু মুসলিম উম্মাহ নয়, এই ত্যাগ সমস্ত বিশ্ববাসীর। করোনার এই ভয়াবহ সময়ে এবার রমজানের ঈদেই কুরবানীর স্বাদ গ্রহণ করছি আমরা।

প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে কত ডাক্তার আজ ঘর ছাড়া। কত পুলিশ আজ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে গিয়ে নিজেরাই আক্রান্ত। কতো সাংবাদিক, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ল্যাব কর্মী আক্রান্ত হয়ে গেছেন। কত আপনজনদের আমরা হারিয়ে ফেলেছি। কত সন্তানের মাথার উপর থেকে উঠে গেছে পিতার হাত। মায়ের মমতা আর পাবে না। কত নারী ছেঁড়া ধন অকালে চলে গেল।

পৃথিবী জোড়া কোটি মানুষের চাকরি নেই, ব্যবসা নেই, বাড়ি ভাড়া দেওয়ার টাকা নেই, নেই কারো কারো দু বেলা দু মুঠো খাবার!

আমার যে রাজধানী রমজান মাসে মুখর ছিল এক সময় জমকালো সাজে, সেখানে নেই আলোর মাতামাতি। ধনী লোকেরা অনেক কেনাকাটা করেছে গত রমজানেও। তাদের হাত ধরে কিছু রোজগার হতো প্রান্তিক শ্রমিকদেরও। কম হোক তাও তো হাসি ফুটতো কিছুটা সবার মুখে। আজ যেন পুরো নগরীতে, ঘরে ঘরে ত্যাগের মাতম। আনন্দের জায়গায় বাসা বেঁধেছে হতাশা। মসজিদে যাবে না কোটি মুসলিম, নামাজ শেষে ছোটরা ঘুরে বেড়াবে না এ বাড়ি ও বাড়ি। রমনীরা প্রিয় খাবার রান্না করে অপেক্ষা করবে না আত্মীয় স্বজনের। দেশের, পরিবারের, নিজের নিরাপত্তার জন্য কত সন্তানের সাথে দেখা হবে না বাবা-মা'র! তার মধ্যে আমিও এক হতভাগী সন্তান। বাবা-মা'য়ের সাথে এই ঈদে আর একত্রিত হতে পারব না। এই যে আনন্দ থেকে আমরা এবার বঞ্চিত হলাম- এটাই এবারের ঈদ-উল-ফিতরে আমাদের জন্য অনেকটাই কুরবানীসম।

জানি না পরম করুণায় আমাদের ডাক শুনতে পাচ্ছেন কিনা। আমি শুধু বলতে চাই, হে করুণাময়, এই ঈদ-উল-ফিতরে তোমার বান্দার কুরবানী কবুল করো। কবুল করো লাখো কোটি বান্দার এমন ত্যাগ। আমাদের এবার ক্ষমা করো প্রভু।

লেখক : উদ্যোক্তা

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0834 seconds.