• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৫ মে ২০২০ ১২:৫৭:২৫
  • ২৫ মে ২০২০ ১৫:২৬:২৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে ‘নিরানন্দ’ ঈদ!

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানে প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের জামাতে লাখো মানুষ সমবেত হলেও এবার নিরাপত্তাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া কেউই ছিলেন। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই ‘বিরল’ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে মুসলিম সম্প্রদায়। বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশে আজ ২৫ মে, সোমবার ঈদ উদযাপিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যসহ বহু দেশেই গতকাল তা উদযাপন করা হয়েছে।

ঈদ প্রতিবছর আনন্দের বার্তা বয়ে আনলেও বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর কারণে নিরানন্দভাবে এবার তা সারাদেশে উদযাপন হচ্ছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে খোলা মাঠে সরকারি নির্দেশনা মেনে খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়নি ঈদের জামাত। স্ব স্ব এলাকার মসজিদের ভেতরেই সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসুল্লিরা। এমনকি ঈদের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কোলাকুলিও এবার ‘নিষিদ্ধ’। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগেই জামাতের পর কোলাকুলি ও হাত মেলাতে বিরত থাকার অনুরোধ জানায়।

এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহেও অনুষ্ঠিত হয়নি ঈদের জামাত। প্রতিবছর এতে রাষ্ট্রপতিসহ সরকার ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকলেও এবার জাতীয় ঈদগাহ জনহীন।

শতাধিক বছর ধরে কিশোরগঞ্জের যে শোলাকিয়া ময়দানের লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, এবার সেখানেও গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া আর কোনো মুসুল্লি আসেননি।

তবে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ৭টায় এখানে প্রথম জামাতটি অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের পর খুতবা শেষে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া ও মোনাজাত। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ কারী কাজী মাসুদুর রহমান।

এখানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। এ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। এছাড়া তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় এবং সর্বশেষ ও পঞ্চম জামাত পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় জামাতে ইমামতি করেন পেশ ইমাম হাফেয মাওলানা এহসানুল হক। চতুর্থ জামাতে পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান ইমামতি করেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা ঈদে শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর অপার খুশি আর আনন্দের বারতা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। দিনটি বড়ই আনন্দের, খুশির।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঈদ সবার মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন। ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ-এ প্রত্যাশা করি।’

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা দেয়। হিংসা ও হানাহানি ভুলে মানুষ সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ঈদ ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকলের জীবনে আনন্দের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে। ঈদের আনন্দ আমাদের সবার।’

অস্বাভাবিক পরিবেশে এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এক অদৃশ্য ভাইরাস মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’

বাণীতে সকলকে গণজমায়েত এড়িয়ে চলার অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যথাসম্ভব গণজমায়েত এড়িয়ে আমরা যেন ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি এবং আল্লাহ্তায়ালার দরবারে বিশেষ দোয়া করি যে এই সংক্রমণ থেকে আমরা সবাই দ্রুত মুক্তি পাই।’

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0763 seconds.