• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৮ মে ২০২০ ১৯:২৩:৫১
  • ২৮ মে ২০২০ ১৯:২৩:৫১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রান্না খারপ হওয়ায় স্ত্রীকে গরম রডের ছেঁকা

ছবি : প্রতিকী

জয়পুরহাটের রান্না খারাপ হওয়ায় এক গৃহবধূকে গাছের সাথে বেঁধে গরম লোহার রডের ছেঁকা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই নারীর শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সামনে ছিলেন। এ ঘটনায় ২৮ বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী শাকিল হোসেন ও তার বড় ভাই আসলাম হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে ২৭ মে, বুধবার রাতের আক্কেলপুর পৌর এলাকার শ্রীকৃষ্টপুর স্কুলপাড়া মহল্লায় এই ঘটনা ঘটেছে।

তবে নিজের দোষ স্বীকার করে শাকিল হোসেন বলেন, ‘দুদিন আগে আমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে এক ছেলে আমার বউয়ের সাথে কথা বলতে চেয়েছিল। আজকে আবার ওই নম্বর থেকে মিসড কল এসেছিল। এ কারণে বউকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নিড়ানি গরম করে ছ্যাঁকা দিয়েছি।’

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বলেন, ‘প্রায় তিন বছর আগে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে সহ্য করতে পারছিলেন না। আর তাদের কারণে আমার স্বামী বিভিন্ন সময় আমাকে মারধর করতেন। বুধবার রাতে বাড়িতে ফিরে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রান্না খারাপ হয়েছে বলে আমাকে মারধর করে। আমাকে বাড়ির আঙিনায় লিচু গাছের সঙ্গে পিটমোড়া দিয়ে আমার হাত বেঁধে ফেলে। তখন আমার শ্বশুর-শাশুড়ি উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরে আমার স্বামী লোহার রড গরম করে আমার দুই গালে, দুই হাতে, পায়ে ছ্যাঁকা দেয়। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’

এ বিষয়ে পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গৃহবধূকে তার স্বামী প্রায় নির্যাতন করতো বলে শুনেছি। বুধবার রাতে বাড়ির দরজা বন্ধ করে গৃহবধুকে লিচুর গাছে বেঁধে রেখে শরীরে ছ্যাঁকা দিয়েছে তার স্বামী। গৃহবধুর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাটি জানতে পারেন। এ সময় তারা মহল্লার লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভেঙে ভেতরে ঢুকে গৃহবধূকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান বলে জানান তিনি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নির্যাতিত গৃহবধুর বাবা আইয়ুব আলী বাদি হয়ে স্বামী শাকিল হোসেন, তার ভাই আসলাম হোসেন, শশুর আব্দুস সালাম ও শাশুড়ী শেলিনা বেগমকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ তার স্বামী শাকিল ও তার ভাই আসলামকে গেপ্তার করে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0742 seconds.