• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৯ মে ২০২০ ১৮:০০:৪৭
  • ২৯ মে ২০২০ ১৯:৫৯:০৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

২৬ বাংলাদেশি হত্যায় জড়িতদের শাস্তি-ক্ষতিপূরণের দাবি

ড. একে আবদুল মোমেন। ফাইল ছবি

লিবিয়ায় গুলি করে হত্যা করা ২৬ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। এছাড়াও ঘটনার তদন্তসহ জড়িতদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবিও করা হয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) ও লিবিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

একই সঙ্গে লিবিয়ায় মানবপাচারে জড়িতদের সন্ধান করা এবং মানবপাচার ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের যথাযথ শাস্তির দাবি জানায় বাংলাদেশ। ২৯ মে, শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এসব তথ্য জানান।

ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, এ ঘটনায় আহত ১১ বাংলাদেশি এখন সম্পূর্ণ ভালো আছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিশদ বিবরণসহ নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা।

এর আগে ২৮ মে, বৃহস্পতিবার লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহে’তে কিছু মানবপাচারকারীর বন্দুক হামলায় কমপক্ষে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। ওই রাতেই ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এবং লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এসকে সেকেন্দার আলী।

এ ঘটনার পর লিবিয়ার একটি পরিবারে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশির কাছ থেকে ফোনে ঘটনাটি জানতে পারে দূতাবাস।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেন,  বেঁচে যাওয়া ওই বাংলাদেশির সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে তিনি একজন লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপনে আছেন বলে জানান। তিনি দূতাবাসকে আরও জানান, ১৫ দিন আগে বেনগাজি থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে মানবপাচারকারীরা এসব বাংলাদেশিকে ত্রিপোলিতে নিয়ে আসার পথে মোট ৩৮ বাংলাদেশি মিজদাহ শহরের নিকট লিবিয়ান মিলিশিয়া বাহিনীর একদল দুষ্কৃতকারীর হাতে জিম্মি হন। মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে জিম্মিকারীদের অমানবিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিদের হাতে মূল অপহরণকারী লিবিয়ান নিহত হন। এর প্রতিশোধ নিতে লিবিয়ান মিলিশিয়া বাহিনী তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে আনুমানিক ২৬ বাংলাদেশি নিহত হয়। এ ঘটনায় আরো ১১ বাংলাদেশি হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হন।

তিনি আরো বলেন, মরদেহগুলো মিজদাহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আহতদের পরবর্তীতে দূতাবাসের সহায়তায় উন্নততর চিকিৎসার জন্য ত্রিপোলির বিভিন্ন হাসপাতালে আনা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনের শরীর হতে গুলি বের করার জন্য অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণে দূতাবাসকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ঘটনায় লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজদাহের সুরক্ষা বিভাগকে অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, মানবপাচারে জড়িতদের বিবরণ এবং লিবিয়ান সরকারের এ ঘটনায় নেয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে বাংলাদেশ দূতাবাস।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0677 seconds.