• বিদেশ ডেস্ক
  • ৩০ মে ২০২০ ০১:১৪:৩৩
  • ৩০ মে ২০২০ ০১:১৪:৩৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনা সংকটে জাপানে আত্মহত্যার গভীর শঙ্কা প্রকাশ

ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের এই মহামারীর সময়ে সকল দেশই অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত। জাপানও তার বাইরে নয়। বছরের প্রথম ৪ মাসে অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হয়েছে ২২% ।আর এতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে যে এমনিতেই আত্মহত্যা প্রবণ জাপানিদের মাঝে অর্থনীতির এমন মন্দাভাব সেখানে আত্মহত্যাপ্রবণতা ব্যাপক বাড়িয়ে দিতে পারে।

টোকিওর সুইসাইড হটলাইনে আসা ফোনগুলো তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ সপ্তাহে একবার সারারাত ধরে কাউন্সিলিং সেশনের জন্য কলসেন্টারটি খোলা মাত্রই সেন্টারের ফোন বাজতে শুরু করে। দেখা যায় পরের দিন ভোর পর্যন্তও লক্ষ লক্ষ লোক কথা বলার আকাঙ্খা প্রকাশ করে ফোন করতে থাকে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে স্বেচ্ছাসেবক-পরিচালিত টোকিও বিফ্রেন্ডারার্স কল সেন্টারে অপারেটিং দিন এবং স্বেচ্ছাসেবক উভয়ই সংখ্যায় কমিয়ে দেয়া হয়েছে। যদিও এর প্রয়োজন এখনও ব্যাপকভাবে রয়ে গেছে।

কেন্দ্রের পরিচালক মাচিকো নাকায়মা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এমন অনেক লোক রয়েছে যারা কারো সাথে সংযোগ স্থাপন করে কথা বলতে চান, তবে আসল বিষয়টি হ'ল আমরা তাদের সবার ফোন নিতে পারিনি।’

এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীরা আশঙ্কা করছেন যে মহামারীটির অর্থনৈতিক ধাক্কা ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু হওয়া পরের ১৪ টি অন্ধকার বছরে ফিরিয়ে নিতে পারে; যখন প্রতি বছর ৩০,০০০ এরও বেশি লোক সে সময়ে আত্মহত্যা করতো। জি ৭ দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ আত্মহত্যার দেশ জাপান নানা ধরণের আইনী ও কর্পোরেট পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সংখ্যা কমিয়ে ২০,০০০ এর কাছাকাছি আনতে পেরেছিলো।

তবে বর্তমান সঙ্কট আত্মহত্যার সেই নিম্নমুখী প্রবণতাটিকে পাল্টে দিতে পারে। এ কারণে ফ্রন্টলাইনের কর্মীরা সরকারকে আর্থিক এবং ব্যবহারিক সহায়তা উভয়ই দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।

গত এপ্রিল মাসে জাপানের জাতীয় আত্মহত্যার হার ২০% হ্রাস পেয়েছিল।এ সময়ে সেখানে লকডাউন শুরু হয়েছিলো। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে এটা সম্ভবত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিষয় যা সংকটের শুরুতে আত্মহত্যা কম থাকলেও পরে তা বেড়ে যায়।

সাতো বলেছিলেন, ‘এটি ঝড় শুরুর আগে শান্ত অবস্থার মতো তবে মেঘ আমাদের উপরে কিন্তু রয়েছেই।’

জাপানের অতীত ইতিহাস বলছে, ১৯৯৯ সাল যখন বিক্রয় কর বৃদ্ধি এবং এশীয় অর্থনৈতিক সঙ্কট শুরু হয়েছিলো তখন প্রথমে বার্ষিক আত্মহত্যা ৩০ হাজার ছিলো। পরে ২০০৩ সালে তা প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজারে পৌঁছেছিল।

স্বাস্থ্যের পরেই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি হলো আত্মহত্যার পিছনে দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ। ২০১৯ সালে পুলিশের তথ্য অনুসারে দেখা গেছে আত্মহত্যায় পুরুষরা মহিলাদের চেয়ে প্রায় তিনগুণ এগিয়ে। বেশিরভাগের বয়স ৪০-৬০ বছর।

করোনাভাইরাসের এমন সময়ে যখন অর্থনীতি সঙ্কটাপন্ন তখন জাপানীদের মাঝে আবার আত্মহত্যাপ্রবণতা বাড়তে পারে বলে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা ঠেকাতে বিশেষজ্ঞরা সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0665 seconds.