• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০২ জুন ২০২০ ২১:১৮:১৬
  • ০২ জুন ২০২০ ২১:১৮:১৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে পেটালেন যুবলীগ নেতা

ছবি : সংগৃহীত

এক সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধের পরনের লুঙ্গি, গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, কিল-ঘুষি মারত মারতে অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। আর কয়েকজন যুবক তা মোবাইলে ভিডিও করছে, আর কেউ দেখছে। তবে কেউ এগিয়ে আসেনি ওই বৃদ্ধকে বাঁচাতে। এভাবেই হেনস্থা করা হয়েছে বয়োবৃদ্ধ নুরুল আলমকে।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর নজরে আসে সবার। গত মাসের ২৪ মে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।

নির্যাতনের শিকার মো. নুরুল আলম উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ার মৃত আলী মিয়ার ছেলে। আর এ ঘটনায় জড়িত যুবলীগ নেতার নাম আনছুর আলম (৩৫)। সে একই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি এবং মৃত মনির উল্লাহর ছেলে।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দির কছির বলেন, ‘দলে ঢুকে সুযোগ নেয়ার জন্য নানা উপায়ে ইউনিয়ন যুবলীগের মাধ্যমে আনছুর আলম ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি হয়েছে। বিষয়টি এতদিন জানা যায়নি। তবে এ ঘটনার পর আনছুর আলম একজন ডাকাত ও বিভিন্ন মামলার আসামি বলে শুনেছি। তাই চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সভাপতির পদসহ সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার করার জন্য ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

এ ঘটনার পর গত ৩১ মে রাতে বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন বাদি হয়ে চকরিয়া থানা একটি এজাহার দায়ের করেন। তবে, এজাহারটি এখনো তদন্তধীন বলে জানা গেছে। এতে আসামি করা হয়েছে ওই এলাকার মৃত মনির উল্লাহর ছেলে বদিউল আলম (৫৫), আনছুর আলম (৩৫), শাহ আলম (৫২), শাহ আলমের স্ত্রী আরেজ খাতুন (৪৮), বদিউল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান (২৮), আবদুল জাব্বারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৩২), জয়নাল আবেদিন (৩০) এবং মনজুর আলমের ছেলে মো. রুবেল (২৮)।

এজাহারে বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে বাদি আশরাফ হোসাইন দাবি করেন, গত ২৪ এপ্রিল আমার বৃদ্ধ বাবা নুরুল আলম ঈদের বাজার করে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে টমটম গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টমটম থেকে আমার বাবাকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পরনে থাকা লুঙ্গি, গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলে। পাশাপাশি মারধর ও অসভ্য গালিগালাজও করে। কয়েকজন যুবক এসব ঘটনা মোবাইলের ক্যামেরাতে ধারণ করে। এ সময় আমার বাবা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে। পরে ঘটনাটি শোনার পর আমার ছোট ভাই সিএনজি চালক সালাহউদ্দিন স্থানীয় লোকজনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার বাবাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করান।

ঘটনার বিষয়ে যুবলীগ নেতা আনছুর আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত মূল ব্যক্তিকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।’

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

কক্সবাজার যুবলীগ

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0889 seconds.