• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৩ জুন ২০২০ ০৮:৪৫:১৯
  • ০৩ জুন ২০২০ ০৮:৪৫:১৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এক মাসেই দেশে প্রায় ৫শ’ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৯ হাজারের বেশি

ছবি : সংগৃহীত

দেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই যেন আগের দিনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। গত মে মাসে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহরূপে হাজির হয়েছে। এ মাসে প্রায় ৫শ’ মানুষের প্রাণ কেড়েছে কোভিড-১৯ নামের ভাইরাসটি। সেই সাথে একই সময়ে ৩৯ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে ধরা পড়ে এর উপস্থিতি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মে মাসে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে মোট ৪৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেইসাথে এ ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আরো কয়েকশ’ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ হাজার ৩৮৬ জন।

চীনের উহানে প্রথম করোনারোগী শনাক্ত হওয়ার দুই মাসের বেশি সময় পর দেশে প্রথম ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো দেশে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব , রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর তথ্য জানায় সরকার।

এর পরপরই টনক নড়ে সরকারের। বন্ধ করে দেয়া হয় গণপরিবহন চলাচল। জনসাধারণের চলাচলে আরোপ করা হয় বিধিনিষেধ। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় সাধারণ ছুটি। এ সময়ে জরুরি পরিবহন ছাড়া সকল ধরণের গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। একে একে দেশের বিভিন্ন স্থান লকডাউন ঘোষণা করা হয়। সারা দেশ ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপিত হয়। হাটবাজারে চলাচল সীমিত করা হয়।

তবে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ধীরে ধীরে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে সরকার। সাত দফায় সাধারণ ছুটি বাড়ানোর পর অবশেষে ৩০ মে’র পর আর নতুন করে ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। ৩১ মে থেকে শুরু হয়  সরকারি-বেসরকারি অফিস। এরও আগে চালু হয়ে যায় গার্মেন্টসহ কয়েক ধরনের কারখানা। ঈদের আগেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিংমল ও কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেয় সরকার। যদিও বেশিরভাগ শপিংমল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি এড়াতে বন্ধই থাকে।

জুন মাসের প্রথম দিন থেকেই শর্তসাপেক্ষে বাস চলাচল শুরু হয়। তবে এসময় ৬০% বাসভাড়া বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। এছাড়া ট্রেন, লঞ্চ ও বিমানও সীমিত আকারে চালু করা হয়।

এদিকে আগের ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে দেশে আরো ৩৭ জনের মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল ২ জুন, মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়ে নতুন করে আরো ২ হাজার ৯১১ জন করোনারোগী শনাক্ত করার কথাও জানায় তারা। এ নিয়ে দেশে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭০৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সেই সাথে আক্রান্ত বেড়ে এখন ৫২ হাজার ৪৪৫ জন।

মার্চ মাসের ২২ দিনে দেশে মোট ৫১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিলো। এদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়। এপ্রিলে মোট ৭ হাজার ৬১৬ জন করোনায় আক্রান্ত হন, এদের মধ্যে মারা যান ১৬০ জন।

তবে মে মাসে এ সংখ্যা বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে। এ মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা প্রথমবারের মতো  এক হাজার ও দুই হাজার ছাড়ায়। মাস শেষে দেশে করোনায় আক্রান্ত ৪৮২ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ হাজার ৩৮৬ জন।

১ মে ৫৭১ জন, ২ মে ৫৫২ জন, ৩ মে ৬৬৫ জন, ৪ মে ৬৮৮ জন, ৫ মে ৭৮৬ জন, ৬ মে ৭৯০ জন, ৭ মে ৭০৬ জন, ৮ মে ৭০৯ জন, ৯ মে ৬৩৬ জন, ১০ মে ৮৮৭ জনের শরীরে ধরা করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ১১ মে প্রথমবারের মতো দেশে একদিনে সহস্রাধিক করোনারোগী শনাক্ত হয়। সেদিন ১ হাজার ৩৪ জনের শরীরে ভাইরাসটি ধরা পড়ে। এরপর ১২ মে ৯৬৯ জন, ১৩ মে ১ হাজার ১৬২ জন, ১৪ মে ১ হাজার ১৪১ জন, ১৫ মে ১ হাজার ২০২ জন, ১৬ মে ৯৩০ জন, ১৭ মে ১ হাজার ২৭৪ জন, ১৮ মে ১ হাজার ৬০২ জন, ১৯ মে ১ হাজার ২৫১ জন, ২০ মে ১ হাজার ৬১৭ জন, ২১ মে ১ হাজার ৭৭২ জন, ২২ মে ১ হাজার ৬৯৪ জন, ২৩ মে ১ হাজার ৮৭৩ জন, ২৪ মে ১ হাজার ৫৩২ জন, ২৫ মে ১ হাজার ৯৭৫ জন, ২৬ মে ১ হাজার ১৬৩ জন, ২৭ মে ১ হাজার ৫৪১ জন এতে আক্রান্ত হন। ২৮ মে দেশে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়ায়। এদিন ২ হাজার ২৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ২৯ মে ২ হাজার ৫২৩ জন, ৩০ মে ১ হাজার ৭৬৪ জন ও ৩১ মে ২ হাজার ৫৪৫ জনের এতে আক্রান্ত হন।

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0871 seconds.