• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৬ জুন ২০২০ ১৬:০৬:৫৬
  • ০৬ জুন ২০২০ ১৬:০৬:৫৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন সুরক্ষা দিতে পারে না: যৌথ গবেষণা

ছবি : সংগৃহীত

হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়মিত খেলে করোনোভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলেও ভাইরাস ঐসব ব্যক্তিদেরকে সংক্রামিত করতে পারে না বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য যে ভুল তা যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় পরিচালিত যৌথ গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতদিন বিশ্বকে বলে আসছিলেন যে তিনি তার চিকিৎসকের পরামর্শে করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করতে প্রতিদিন একটি করে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন বড়ি খাচ্ছেন। তবে ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’ এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভাইরাসে আক্রান্ত লোকদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের সুরক্ষায় এ ওষুধ মোটেই কার্যকর নয়।

৬ জুন, শনিবার দি গার্ডিয়ান এই গবেষণা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

কোভিড -১৯ সংক্রমণের মধ্যম থেকে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা লোকদেরকে ইউএস ও কানাডায় পরিচালিত এই গবেষণার জন্য বেছে নেয়া হয়েছিল। বস্তত এরা বেশিরভাগই করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে ছিলেন। কারণ তারা কোনও ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম না পরে ১০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ২ মিটার (৬ ফুট) এর ভেতরে ছিলেন।

এ গবেষণাটি বিচারহীন নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার (রেন্ডমাইজড কন্ট্রোল ট্রায়াল) আওতায় করা হয়েছে। কথিত ‘সর্বোচ্চ মান’ এবং রোগীর সংস্পর্শে আসা লোকদের চার দিনের মধ্যে হাইড্রোক্সািক্লোরোকুইন দেয়ার পরে কী ঘটেছিল এবং একই সাথে যাদের শুধু 'ডামি বড়ি' খেতে দেয়া হয়েছিল তাদের ক্ষেত্রে কি হয়েছিলো- তার তুলনামূলক ফল দেখার জন্য এ গবেষণা করা হয়েছিল।

গবেষকরা ৪০ বছর বয়সী এবং স্বাস্থ্যকর প্রাপ্তবয়স্কদেরকে একটি করে বড়ি পাঁচ দিনের জন্য দেয়া হয়েছিলো। যদিও প্রথম দিনে এটির একটি শক্তিশালী ডোজ দিয়ে শুরু করা হয়েছিল।

দেখা গেছে, এ গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আট জনের মধ্যে একজন (৮২১এর মধ্যে ১০৭) ১৪ দিনের ফলোআপ পিরিয়ডের মধ্যে কোভিড -১৯ এর লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

ফলাফল বলছে, যারা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন পেয়েছেন তাদের মধ্যে ৪৯ জনের কোভিড -১৯ (বা জ্বর বা কাশির মতো সামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গ) সংক্রমনের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ৫৮ জন যারা এ সময়ে ‘ডামি বড়ি’ খেয়েছিলেন তারা আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে এই সামান্য পার্থক্য গবেষণাক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয় না।

এর মধ্যে দু'জন রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা করতে হয়েছিল। এ দুই গ্রুপের প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন করে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তবে কেউ মারা যাননি।

ডা. টড লি, মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক, কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিভাগ এবং এ গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক বলছেন, ‘আমাদের পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার চার দিনের মধ্যে যখন ‘পোস্ট এক্সপোজার প্রফাইল্যাক্সিস’ হিসেবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা হলো তা প্লাসিবো (ডামি ওষুধ) এর চেয়ে ভাল কোন ফল দেয় নি।" অর্থাৎ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার পরে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন খেলে তা এ রোগ থেকে কাউকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিতে পারে না।

রাজনীতিমুক্ত এবং অন্য কোন কিছুর প্রভাবমুক্ত থেকে এ গবেষণা চালানো হয়েছে বলে গবেসণা প্রবন্ধে দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0573 seconds.