• ফিচার প্রতিবেদক
  • ১১ জুন ২০২০ ২১:৩৭:১৫
  • ১২ জুন ২০২০ ০১:০৮:৫০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনার বর্তমান অবস্থা ও আমাদের করণীয়

ছবি : প্রতিকী


ডা. পলাশ বসু :


আমাদের দেশে এ অবধি যতদূর জানি করোনার ৩২টা জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে। দেখা গেছে এরই মাঝে ২২ বার নাকি ভাইরাসটি তার অবস্থা পরিবর্তন করেছে। এর ফলে এটি দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ফলে সকলেই সতর্কতা থাকুন। হেলাফেলা করবেন না। কারণ সতর্কতার বিকল্প এখন আরো বেশি সতর্ক থাকা।

আমাদের দেশে এখন দিন দিন আক্রান্তের হার বাড়ছে। মৃত্যুও বাড়ছে। হাসপাতালে এখন ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ অবস্থা। আইসিইউ তো বহুত দূরের বিষয়। অক্সিজেনেরও ঘাটতি শুরু হয়েছে এখন থেকেই। তাই চোখ- কান খোলা রাখুন। সতর্ক থাকুন। সাবধানে থাকুন।

এ অবস্থায় যা করা যেতে পারে :

এখন নিজে নিজেকে সুরক্ষার দিকে নজর দিন। পরিবারের সবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দিকে খেয়াল করুন। বাসার যিনি সবচেয়ে সুস্থ মানুষ তিনি বাসার জিনিসপত্র যা লাগে কেনাকাটা করবেন। অথবা অফিস থেকে ফেরার সময় আপনি কিনে বাসায় আনুন। তারপর সেগুলো সুন্দরমতো পরিষ্কার করে নিন। বাইরে থেকে বাসায় ফিরে প্রথমে কী করবেন সেটা উল্লেখ করেছি।

অন্যরা ঘরেই থাকুন। কারণ বাসার লোকজন যত কম বের হবেন তত বেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। আর আপনি আক্রান্ত না হলে মনে রাখবেন পরিবারের সবাই তখন নিরাপদে থাকতে পারবে। তাই এখন আমাদের করণীয় হচ্ছে-

১. ব্যক্তিগত সুরক্ষার দিকে নজর দিতে হবে।

২. মাস্ক পরতেই হবে। মাস্ক পরার বিকল্প নেই। কাপড়ের মাস্ক হলে বাসায় ফিরে রোজ ভালো করে সাবান দিয়ে ধুঁয়ে ফেলুন। অন্তত ৩ পর্দা কাপড়ের মাস্ক হলে ভালো হয়। ওয়ান টাইম মাস্ক হলে পলিথিনের ব্যাগে ভরে মুখ আটকে তারপর নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন। মাস্ক একবার পরার পরে তা খুলবেন না। মাস্কে হাতও দিবেন না।

৩. চোখে চশমা দিন।

৪. সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়ার অভ্যাস করতে হবে। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না। আর মনে রাখবেন হাত কোনোভাবেই চোখে-মুখে লাগানো যাবে না।

৫. হ্যান্ডশেক, কোলাকুলি করবেন না।

৬. বাইরে বের হলে বাইরের খাবার, পানি, চা, সিগারেট না খাওয়াটাই বুদ্ধিদীপ্ত কাজ হবে। খেতে হলে নিজে সাথে করে এসব নিয়ে যাবেন। কারণ কাপ, পিরিচ, গ্লাস এসব থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। সিগারেট ১ টা কিনলে দোকানদার তার হাত দিয়ে বের করে আপনাকে দিবে। তাতে আপনি আক্রান্ত হতে পারেন।

৭. ভিড় এড়িয়ে চলুন। খোশগল্প, আড্ডা এসব বাদ দিন।

৮. লিফ্ট বাদ দিয়ে হেঁটে উঠতে পারলে হেঁটেই উঠুন। তবে তখন কিন্তু সিড়ির রেলিং এ হাত দিবেন না।

৯. পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। দিনে অন্তত ১ টা ডিম খান। অন্যান্য আমিষ জাতীয় খাবার মাছ, মাংস, ডাল খাবেন। দুধ খান সম্ভব হলে। মসলা, তেল ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খান।

১০. ফল ভালো করে ধুঁয়ে নিয়ে তারপর খাবেন। ভালো হয় ফল কিনে এনে ধুঁয়ে ১ দিন রেখে দিন। তারপর খান।

১১. টক জাতীয় ফল যেমন লেবু খাবেন প্রতিদিন। টক দই খেতে পারেন- বাসায় তৈরি করে। আদা, লবঙ্গ দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন নিয়মিত।

১২. প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা ব্যায়াম করুন। বাইরে না গিয়ে ঘরে চাইলেও করতে পারেন। বাইরে গেলে ভীড় এড়িয়ে মুখে মাস্ক লাগিয়ে ব্যায়াম করতে পারেন।

১৩. ঘুমটাও দরকার খুব।

১৪. যারা ডায়াবেটিস, প্রেশার, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তারা নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যাবেন। বাইরে চেষ্টা করবেন বাইরে বের না হওয়ার। আর বের হতে হলে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিয়ে তবে বের হবেন।

১৫. পরিবারের যে সদস্য নিয়মিত অফিসে যাচ্ছেন বা বাইরে কাজে বের হচ্ছেন তিনি বাসায় ফিরেই সোজা বাথরুমে চলে যান। হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। তার আগে বাসার কোন জিনিসে হাত দিবেন না। ডিটারজেন্টে পরিধেয় জামাকাপড় আধাঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। গোসল করে ফেলুন সম্ভব হলে। আর বাসার সিনিয়র সদস্য বা উপরে বর্নিত রোগগুলো যাদের আছে আপনি সে রুমে যাবেন না। তাদেরকে আলাদা রাখুন। তাদের সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে দূর থেকে বলুন।

হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা :

হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন। কারণ আপনি যদি ভেবে থাকেন হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহার করলে আপনি করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকবেন, তাহলে ভুল ভাবছেন। কারণ হ্যান্ডগ্লাভস পরলে হাতে সরাসরি জীবাণু লাগার সম্ভাবনা নেই ঠিকই, কিন্তু গ্লাভসে তো জীবাণু লাগবেই। আর সেই হাত যদি আপনি আপনার নাকে, মুখে, চোখে লাগান তাহলে করোনা থেকে কিন্তু রেহাই পাবেন না।

এ কারণে আমি বলবো অহেতুক গ্লাভস না পরে আপনি হাত খোলা রাখুন। সুযোগ পেলেই হাত সাবান দিয়ে ধুঁয়ে নিন। না হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজ করে নিন বা হেক্সিসল দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিন। স্যানিটাইজার বা হেক্সিসলের বোতলও এগুলো দিয়ে মুছে নিন। এসব কিছু না করতে পারলে হাত অন্তত চোখে মুখে লাগাবেন না।

মোবাইল ফোনের ব্যবহার :

অল্প সময়ের জন্য বাসার বাইরে গেলে মোবাইল বাসায় রেখে যান। সাথে নিয়ে বের হলে মোবাইল যত্রতত্র রাখবেন না৷ বাইরে বেরিয়ে পকেট থেকে পারতপক্ষে বের করবেন না। কথা বলার প্রয়োজন হলে বের করে প্রয়োজনীয় কথা বলে পকেটে বা ব্যাগে রেখে দিন। চাইলে হেডফোন ব্যবহার করতে পারেন। আপনার মোবাইল হেক্সিসল দিয়ে পরিষ্কার করুন বা স্যানিটাইজ করে নিন আপনার হাতের মতোই। কারণ করোনার জীবানু ছড়ানোর সহজ পথ হচ্ছে এই মোবাইল।ফলে মোবাইল ব্যবহারে সতর্ক হোন।

যা করে কোন লাভ নেই :

১. অহেতুক টেনশান।

২. অগ্রিম ভেষজ বা করোনা প্রতিরোধের ওষুধ খাওয়া।

৩. গুজবে কান দিয়ে সে অনুসারে কাজ না করা।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস করণীয়

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0909 seconds.