• ক্রীড়া ডেস্ক
  • ২৫ জুন ২০২০ ১৩:৫৮:৩০
  • ২৫ জুন ২০২০ ১৩:৫৮:৩০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

জুয়ারিদের প্রস্তাব হালকাভাবে নেয়ায় ‘শিক্ষা’ মিলেছে সাকিবের

ছবি : সংগৃহীত

তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের আইকন। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানে ছিলেন তিনি। কিন্তু এক ভুলে গোটা ক্যারিয়ারে কালিমা লেগে যায় সাকিব আল হাসানের। জুয়ারিদের প্রস্তাব গোপন করায় তাকে এক বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। তবে ওইসব প্রস্তাবকে হালকাভাবে নেয়াই এমন শিক্ষা পেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই ক্রিকেটার।

ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের ফেসবুক লাইভে ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলের সাথে আলাপে এমন তথ্যই জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এমনকি জুয়াড়িদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার বিষয়টি আইসিসির কাছে স্বীকার না করলে এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার ৫-১০ বছর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারতেন বলেও জানান তিনি।

সাকিব জানান, জুয়াড়িদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি তিনি হালকাভাবে নিয়েছিলেন। তবে এখান থেকেই শিক্ষা পেয়েছেন একসময়ের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তবে এখন ক্যারিয়ারও আরো লম্বা করতে চান তিনি, সেইসাথে সমর্থকদের প্রতিদান দেওয়ার কথাও ভাবছেন তিনি।

আইসিসির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করার প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘বিষয়টা তখন হালকাভাবে নিয়েছিলাম। দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর সব বললাম। খুঁটিনাটি প্রমাণ দিলাম। তারাও সব জানে, এ কারণেই মাত্র এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছি। তা না হলে ৫-১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারতাম।’

একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী অনেক ক্লাসই করেছেন সাকিব। এরপরই অতীতের এই ভুলের কথা ভেবে আফসোস হয় তার।

এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘বোকার মতো ভুল করেছিলাম। আমি অভিজ্ঞ, অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলেছি এবং দুর্নীতি দমন ধারা নিয়ে অনেক ক্লাসও করেছি, এ ভুল করা উচিত হয়নি।’ সেটা নিয়ে তিনি অনুতপ্ত বলেও জানান সাকিব।

তিনি বলেন, “অনেক ফোনকল, বার্তা আসে আমাদের কাছে। ওই লোকটি (জুয়াড়ি) যখন শেষবার ম্যাসেজ পাঠিয়েছিল, জবাব দিয়েছিলাম, ‘সরি, কার সঙ্গে কথা বলছি?’ সে কে মনেই ছিল না। তার সঙ্গে আগে কথা বলেছি দুই-তিন বছর আগে। জানতামও না লোকটা কে, তার নম্বরও আমার কাছে ছিল না।’

যা হোক নিরাপদে থাকতে হলে দুর্নীতি দমন কর্তাদের বিষয়টি জানানো উচিত ছিলো বলেও মনে করেন তিনি। সাকিবের ভাষ্য, ‘এই শিক্ষা পেয়েছি, বড় শিক্ষা এটি।’

অতি আত্মবিশ্বাসের কারণেই এই ভুল হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তার ভাবনা ছিলো  কিছুই হবে না।

এদিকে আগামী ২৯ অক্টোবর শেষ হবে সাকিবের এক বছরের নিষেধাজ্ঞা। এরই মধ্যে করোনাভাইরাসে কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্রিকেটাঙ্গনও স্থবির। এখনকার পরিস্থিতিতে নিজের স্বপ্নকে আরো বিস্তৃতি করছেন সাকিব। আর মাত্র দুই-তিন বছর পরই ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিলো তার, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সেই ভাবনা  পাল্টে গেছে।

সাকিব বলেন, ‘আরো কিছু বছর বাকি আছে আমার। (এই) নিষেধাজ্ঞা অনেক আশা  বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিবার ও অন্য সবকিছু মিলিয়ে একটা সময় ভাবছিলাম, হয়তো আর বছরদুয়েক খেলব। এখন মনে হচ্ছে অন্তত আরো তিন থেকে পাঁচ বছর খেলতে পারি।’

তবে এটি যে পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের ওপর নির্ভর করছে তা জানাতেও ভুলেননি তিনি। যতদিন উপভোগ করবেন, ততদিনই ক্রিকেট খেলে যাওয়ার কথাও জানান সাকিব।

সেই সাথে তার নিষেধাজ্ঞার খবরে হতাশ সমর্থকদের প্রতিদানও দিতে চান তিনি। সাকিব বলেন, ‘এখন ভাবি সমর্থকদের প্রতিদান কীভাবে দেব। গত ১২-১৫ বছর যে মানুষগুলো আমাকে সমর্থন দিয়েছেন আমার এই কাণ্ডে তারা হতাশ হয়েছেন। এখন তাদের শুধু প্রতিদান দেয়ার কথাই ভাবি।’

অস্ট্রেলিয়ায় আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ১৮ অক্টোবর। আর সাকিবের নিষেধাজ্ঞ শেষ হচ্ছে ওই মাসেরই ২৯ তারিখ। সেক্ষেত্রে হয়তো প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো মিস করবেন সাকিব। বাংলাদেশ যদি বাছাই পর্ব পেরিয়ে ‘সুপার-টুয়েলভ’ রাউন্ডে যায়, সেক্ষেত্রেও প্রথম ম্যাচটি মিস করবেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

তবে শঙ্কার কথা হলো, করোনা পরিস্থিতিতে এই বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে এখনো খুব একটা আশার আলো দেখছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। আগামী মাসেই এ টুর্নামেন্টের ভবিষ্যত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1663 seconds.