• ২৫ জুন ২০২০ ১৭:০৭:১৮
  • ২৫ জুন ২০২০ ১৭:০৭:১৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘খয়রাতি’ মানুষের হৃদস্পন্দন ও সম্পর্কের জটিলতা

কাকন রেজা। ফাইল ছবি


কাকন রেজা :


আনন্দবাজারের ‘খয়রাতি’ শব্দ বিষয়ে কিছু লোকের প্রতিবাদে বিস্মিত হবার কিছু নেই। এদের ‘ইউ টার্ন’ আদর্শ ভিত্তিক নয়, উদ্দেশ্য ভিত্তিক। ভারতের দশ লাখ মানুষ বাংলাদেশে কাজ করছে, যার বেশির ভাগ অবৈধ। তাদের রেমিটেন্সের বাংলাদেশ অষ্টম যোগানদাতা। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ চোখে পড়েনি। নদীর বুক চিরে ভারতের জন্য রাস্তা বানানো হয়েছে তা তাদের ‍দৃষ্টিগোচর হয়নি। অনেকটা বিনে-মাগনা ট্রানজিট ব্যবহারে তারা বিস্মৃত ছিলো। সীমান্ত-হত্যা, কাঁটাতারে ফেলানির দেহ তাদের চোখে দৃশ্যমান হয়নি। শুধু ঝামেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি শব্দ ‘খয়রাতি’। এতদিনের বানিজ্যিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক বলাৎকার, হত্যা সব পেড়িয়ে দৃষ্টি আটকালো ‘খয়রাতি’তে! যেন এর জন্যে ক্ষমা চাইলেই শেষ হয়ে যাবে সকল অর্থনৈতিক বৈষম্য, অপকর্ম, সীমান্ত-হত্যা, ফেলানির বিচার! বলিহারি এদের।

যারা এতদিন নিরবে এসব কর্মকান্ড সহ্য করেছেন তাদের আসলে একটি শব্দ নিয়ে আস্ফালন অর্থহীন। করোনাকালীন এবং পরবর্তীতে বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে অনেক পরিবর্তনই ঘটবে। আর সেই পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। চীন আর ভারতের ঠোকাঠুকি তারই প্রাসঙ্গিক অবস্থা। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন শুরু হয়েছে অবশ্য করোনাকালের আগেই। এটার শুরু ‍মূলত ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চুক্তির পর থেকেই। তখনি লিখেছিলাম সম্ভাব্য পরিবর্তন বিষয়ে। সেই আভাসের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চুক্তির পর চীন সঙ্গতই দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের মিত্র বাড়ানোর চেষ্টা করবে এবং তাই করেছে।

সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অবস্থায় সেটা সফল না হবার তেমন কোনো কারণ নেই। তারোপর শাপে-বর হয়েছে করোনার সংক্রমন। লকডাউনজনিত ধাক্কায় এমনিতেই সারা বিশ্বের অর্থনীতি চরম মন্দার মধ্যে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, ধারণার চেয়েও অবস্থা খারাপ। আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ বলেছেন, বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন বা আড়াই লাখ কোটি ডলারের বেশি বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। এ অবস্থার সুযোগ না নেয়াটা চীনের জন্য বোকামি, সেই বোকামি তারা নিশ্চিত করতে চাইবে না। বাংলাদেশের জন্য ৯৭ শতাংশ শুল্কমূল্য প্রবেশাধিকার তারই ধারাবাহিকতা।

দক্ষিণ এশিয়ায় এমনিতেই চীনের অবস্থান ক্রমেই সংহত হয়ে উঠছে। গণমাধ্যম ‘সাউথ এশিয়ান মনিটর’ জানালো, ‘এবার ভুটানও ভারতীয় চাষীদের পানি দেয়া বন্ধ করেছে।’ নেপালের অবস্থাতো জানাই। হারাধনের শেষ ছানাটি ছিলো বাংলাদেশ। যাকে ভারতের অকৃত্রিম বন্ধু আখ্যায়িত করা হয়। ‘খয়রাতি’ শব্দের বাহুল্যে সেই বন্ধুত্বও সংশয়ের মুখে। কলকাতার আনন্দবাজারের সেই ‘খয়রাতি’ অমনোযোগ কিংবা উপেক্ষার ফসল হলেও কাজ সেরেছে সুচারুরুপে। ফলে জন্ম হয়েছে ‘আপাত বিভীষণে’র। মূলত মানুষ সুযোগ বুঝে এতদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ওই একটি শব্দের ওপর। মানুষের পালস’টা বুঝিয়ে দিয়েছে ওই একটা শব্দই। ‘আপাত বিভীষণ’রা ভোল পাল্টেছে বাধ্য হয়েই। না, ভুল বোঝার কোনো কারণ নেই, তারা মানুষের পালস বুঝে ভোল পাল্টাননি। তাদের ‘আপাত বিভীষণ’ হওয়ার বাধ্যতার বধ্যভূমি অন্যখানে।

যাহোক, আনন্দবাজারের এই কাজটি তাদের জন্যও কুশলের হবে যদি তারা সত্যিকার অর্থেই এ দেশের মানুষের হৃদস্পন্দন বুঝতে পারেন। এতে নিজেদেরও শুধরে নিতে পারবেন। বড় দেশ হলেই ছোটকে উপেক্ষা করা, তার উপর চাপিয়ে দেয়ার জবরদস্তি যে কখনো বুমেরাং হতে পারে তা বুঝে নেয়ার সময়ের শুরু এখন থেকেই। সে আনন্দবাজার হোক কিংবা হোক ভারতের নীতি-নির্ধারণী মহল।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0758 seconds.