• ৩০ জুন ২০২০ ১৩:০০:৫৩
  • ৩০ জুন ২০২০ ১৩:০০:৫৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বিভ্রান্ত কিছু মানুষ, করোনাকালের বাস্তবতা এবং ফেসবুক

কাকন রেজা। ফাইল ছবি


কাকন রেজা:


আমার একটা লিখা নিয়ে আপত্তির কারণে ফেসবুক তা তুলে নিয়েছে। আর তুলে নেয়া নিয়ে গতানুগতিক ধারায় যথারীতি বয়ানও দিয়েছে সামাজিকমাধ্যমটি। লিখাটির শিরোনাম ছিলো, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোভিডের চিকিৎসা বিল এবং আমাদের ম্যাজিক রিয়েলিটি’। লিখাটির মূল বক্তব্য ছিলো, যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা খরচ তুলনামূলক আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তবে আমাদের সাথে পার্থক্য হলো যত টাকাই লাগুক চিকিৎসায় তা দেয় বীমা কর্তৃপক্ষ, পরোক্ষে সরকার। আমাদের ক্ষেত্রে তার জো নেই।

এই করোনার মহামারীতেও মানুষকে চিকিৎসার জন্য দিতে হচ্ছে সাধ্যের বাইরের খরচ। সুতরাং এই অবস্থায় যারা বলেন, আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুব ভালো তারা ম্যাজিক রিয়েলিটি মানে জাদু বাস্তবতায় বাস করছেন। যেটা কিনা বিভ্রমের। আমাদের এই জাদু বাস্তবতার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনার। হ্যাঁ, লিখাটিতে এর বাইরে আর কিছু নেই। আর সামান্য এটুকুতেই তাদের আপত্তি!

স্বয়ং সরকারের ভেতর থেকে কথা উঠেছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে। গণমাধ্যমে খবর হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অপসারণ বিষয়ে। সরকার দলীয় এমপি স্বয়ং স্বাস্থ্য বিভাগকে দোষারোপ করছেন, ‘মহা আজগুবি বিভাগ’ বলে। শাসকদলের দ্বিতীয় ব্যক্তিও উষ্মা প্রকাশ করছেন। খবর হয়েছে দুই মন্ত্রণালয়ের রশি টানাটানিতে করোনা পরীক্ষার কিট আমদানি নিয়ে সংকটের বিষয়ে। অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে স্বাস্থ্যখাতকে ঘিরে। সরকার বিব্রত এই স্বাস্থ্যখাতকে নিয়ে, খবরে এমনটাও বলা হয়েছে। তাদের যা ভালো কিছু অর্জন তা এই করোনাকালে জলাঞ্জলি যেতে বসেছে শুধু এই খাতের কারণে। এই অবস্থায় করোনার চিকিৎসা যেনো সঠিকভাবে হয় সে প্রয়াসেই ছিলো আমার সেই লিখা। যা প্রকাশ পেয়েছিল দেশের পরিচিত গণমাধ্যমে। তা তুলে নিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। না এতে ফেসবুকের কোনো হাত নেই, হাত যারা রিপোর্ট করেছেন তাদের।

আশ্চর্য হই, সারাবিশ্ব যখন দুর্যোগের মুখোমুখি। মানুষ ভুগছে বেঁচে থাকার সংকটে। একটু অক্সিজেনের জন্য পাগলের মতন দিকবিদিক দৌড়াচ্ছেন আক্রান্তরা। আমরা চেষ্টা করছি যে যার জায়গা থেকে মানুষকে সহায়তার। চাচ্ছি দায়িত্বশীলদের ভুলগুলো শুধরে দিতে। যেনো স্বাস্থ্যখাতটি তার দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারে। কথার খোঁচায় তারা অন্তত জেগে উঠতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ পর্যন্ত সমালোচনা করছেন স্বাস্থ্যখাতের কিছু বিষয়ে। তিনিও চাচ্ছেন মানুষ যেন চিকিৎসা পায়। আমরা যারা লিখি তাদেরও চাওয়া তাই। আমাদের অনেকেই আক্রান্ত। আমরা বুঝতে পারছি প্রকৃত চিত্রটা। বিপরীতে কেউ কেউ সত্যিকার অর্থেই রয়েছেন জাদু বাস্তবতায়। তারা মনে করছেন, লিখলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সরকার। নারে ভাই, বরং এ অবস্থায় সরকারের ভালো হবে। সমালোচনার কারণেই ইতোমধ্যে পজিটিভ কিছু পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। পরীক্ষার আওতা বেড়েছে, আরো বাড়বে। ল্যাবের সংখ্যা বেড়েছে। আইসোলেশন ইউনিট বেড়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সুরক্ষা সরঞ্জাম পাচ্ছেন আগের থেকে বেশি পরিমানে। সমস্যা না দেখিয়ে দিলে সমাধান হবে কী করে! অন্ধ হলে তো প্রলয় বন্ধ থাকে না, এটা খুবই জানা কথা।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুলনার কারণটা আবার বলি। গণমাধ্যম একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিলের হিসাব দিয়েছে, যেখানে আধ ঘন্টার অক্সিজেনের বিল দেখানো হয়েছে ৮৬ হাজার টাকা। ঘটনার ভুক্তভোগী আমাদের দেশের এক বীর সন্তান, একজন মুক্তিযোদ্ধা। বিশ্বাস হয়, না হলেও উপায় নেই, এটাই সত্যি! বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কোভিড আ্ক্রান্তদের জন্য কেবিনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। বিল হাকছে যা ইচ্ছে তাই, এমন অসংখ্য অভিযোগের নজির রয়েছে। হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে এম্বুলেন্সেই সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক কিংবা তাদের স্বজনের মৃত্যুর খবরও প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমগুলো। ফেসবুকেই রয়েছে অসংখ্য এমন করুণ ঘটনার ব্যক্তিগত বিবরণ। রয়েছে মৃতের মা-বাবা, পুত্র-কন্যা, স্বজনদের আহাজারি। রয়েছে চিকিৎসাহীনতার অসংখ্য করুণ চিত্র। স্বয়ং চিকিৎসকরা অভিযোগ করছেন অব্যবস্থাপনার।

যার ফলেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ফৌজদারি অপরাধের সামিল। কেন একথা বলেছেন তার ব্যাখ্যাও রয়েছে সেই বলার সাথে। তারপরেও মানুষের চিকিৎসা পাবার অধিকার নিয়ে লিখলে দোষের হয়ে যায়! কেউ কেউ তাতে আপত্তি করেন! ভাবি, তারা কি করোনার আওতার বাইরে! অর্থ-বিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তি কোনো কিছুই কি ঠেকাতে পারছে করোনা কে! তারাও কি পারবেন? সত্যিই বিচিত্র এই দেশ। বিচিত্র কিছু মানুষের চিন্তা। এরা সত্যিই রয়েছেন ম্যাজিক রিয়েলিটির বিভ্রমে। বিভ্রান্ত হয়েছেন জাদু বাস্তবতায়।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1056 seconds.