• বার্তা ডেস্ক
  • ৩০ জুন ২০২০ ২২:০৩:২৭
  • ৩০ জুন ২০২০ ২২:০৩:২৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ফোনই কাল হলো এমপি পাপুলের

ছবি : সংগৃহীত

হাতের উন্নত স্মার্টফোন আমাদের প্রতি মুহূর্তের কর্মকাণ্ডের সাক্ষী। এবার কুয়েতে অর্থ ও মানব পাচারের দায়ে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি এমপি কাজী শহীদ পাপুলের অপকর্মের অনেক গোমরই ফাঁস করে দিয়েছে তার হাতের স্মার্টফোন। এই স্মার্টফোন থেকেই তার অপকর্মের কুয়েতি সহযোগীদের নামের তালিকা খুঁজে পেয়েছে অপরাধ তদন্ত সংস্থা।

মঙ্গলবার এ খবর দিয়েছে কুয়েতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দৈনিক আরব টাইমস। এ দিকে কুয়েতের আরবি দৈনিক আল কাবাস খবর দিয়েছে- গ্রেপ্তার বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর পাপুলের প্রতিষ্ঠনের সঙ্গে এবার সরকারি কাজের চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ মারাফি কুয়েতির সঙ্গে পচ্ছিন্নতা কাজের জন্য যে দু’টি চুক্তি নবায়ন করেছিল, তার একটি বাতিল করতে যাচ্ছে।

আরব টাইমসের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও আইন প্রণেতা কাজী শহিদ পাপুলের ব্যবহার করা স্মার্টফোনটি জব্দ করেছে অপরাধ তদন্ত সংস্থা। এই স্মার্টফোনের সূত্র ধরেই এমপি পাপুলের অপকর্মের সহযোগী সাবেক ও বর্তমান পাঁচ জন সাংসদ, স্বরাষ্ট্র ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্তৃপক্ষের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং কয়েকজন ব্যবসায়ীর পরিচয় উদঘাটন করতে পেরেছে সংস্থা। এরা সবাই এমপি পাপুলেল কাছ থেকে নগদ অর্থ ও চেকের মাধ্যমে ঘুষ এবং উপহার নিয়ে তাকে নানাভাবে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং প্রমাণের প্রাথমিক তথ্যের উৎস এমপি পাপুলের স্মার্টফোন।

আরব টাইমসের খবরে আরও বলা হয়, তদন্ত সংস্থা এমপি পাপুলের অফিসের সিসিটিভি, দলিলপত্র এবং চেকবই থেকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই ‘অভিযুক্ত’ কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তার সচিব শহিদ ইসলামের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে নগদ টাকা নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নিজের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে একটি হিসাবে ঘুষের টাকা নগদ ও চেকের মাধ্যমে জমা দেওয়া হতো। ওই কর্মকর্তার সচিব তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে নগদ ও চেকের মাধ্যমে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাবে এমপি পাপুলের কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ঘুষ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা কাজী শহিদ পাপুলের জন্য ২৩ হাজারের বেশি কর্মীর এন্ট্রি ভিসার অনুমোদনে সহায়তা করেছিলেন। যদিও সরকারি নির্দেশনায় অনুযায়ী এই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের সময় বাংলাদেশের কর্মীদের নামে এন্ট্রি ভিসা অনুমোদন করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ছিলেন না।

এ দিকে আল কাবাসের খবরে বলা হয়, গ্রেপ্তার বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর পাপুলের প্রতিষ্ঠনের সঙ্গে এবার সরকারি কাজের চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে  কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ শহিদ ইসলামের প্রতিষ্ঠান মারাফি কুয়েতির সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কাজের যে দু’টি চুক্তি নবায়ন করেছিল, তার একটি বাতিল করতে যাচ্ছে। কাজটি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। গত এপ্রিলে অন্য আরেকটি কাজের মেয়াদ বাড়ানো আর একটি কাজের  চুক্তির বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষেল অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।

বাংলাদেশের এমপি ও কুয়েতের রেসিডেন্ট পারমিটধারী ব্যবসায়ী কাজী শহিদ পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েত সিটির মুশরিফ এলাকার বাসা থেকে আটক করে সেদেশের সিআইডি। আগামী ৬ জুলাই এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে শুনানীর কথা রয়েছে। কুয়েত প্রবাসী সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে তিন বার জামিনের আবেদন করে ব্যর্থ হলেও পাপুলের আইনজীবীরা ৬ জুলাই আবারও তার জামিনের জন্য চেষ্টা করবেন বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0757 seconds.