• ০২ জুলাই ২০২০ ২১:৫০:৫১
  • ০২ জুলাই ২০২০ ২১:৫০:৫১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নিজের জীবন দিয়ে নাতিকে বাঁচালেন বৃদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

গুলিতে ঝাঁঝরা একটি বৃদ্ধের দেহ রাস্তায় পড়ে। আর একটি ছোট্ট ছেলেটা দেহটির বুকের উপরে বসে অঝোরে কেঁদে চলেছে। রক্তে ভেজা ওই দেহটি শিশুটির নানা। শিশুটির কান্নার এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দ্রুতই। ভারতের কাশ্মীরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহত ওই বৃদ্ধার নাম বশির আর শিশুটির নাম আয়াদ। শ্রীনগরের বাসিন্দা বশির ছিলেন নির্মাণ সংস্থার ঠিকাদার। ১ জুলাই, বুধবার কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে গুলিতে মৃত্যু হয় বশিরের। এমন খবর প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সকালে ব্যবসার কাজে গাড়ি চালিয়ে সোপোরে যাচ্ছিলেন বশির। ঘণ্টা দুয়েকের পথ। তাই তিন বছরের নাতিকেও সঙ্গে নিয়েছিলেন। উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা জেলায় ‘আপেলের শহর’ সোপোর। সেখানেই সিআরপি’র সঙ্গে জঙ্গিদের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যা জানতেন না বশির।

পুলিশের সূত্র জানায়, সকাল ৮টা নাগাদ সোপোরে সিআরপি’র টহলরত সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয় একটি মসজিদের চিলেকোঠা থেকে। এরপরই সংঘর্ষ শুরু হয়। আর এর মধ্যেই এসে পড়ে বশিরের গাড়ি। প্রথমে গাড়ি ঘোরাতে চেয়েছিলেন বশির। কিন্তু পারেননি। তাই নাতিকে আঁকড়ে গাড়ি থেকে নেমে আড়াল হতে যাচ্ছিলেন তিনি। তখনই ঠিক কোন দিক থেকে গুলির ঝাঁক ছুটে এসে বশিরের শরীর লাগে। মরতে মরতেও আয়াদকে জড়িয়ে রেখেছিলেন বশির। একটু আঁচড়ও লাগেনি তার গায়ে।

তবে বশিরের ছেলে অভিযোগ করেন, তার বাবাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গুলি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। কিন্তু বিবৃতি দিয়ে সিআরপি’র এডিজি জুলফিকার হাসান বলেন, ‘ওই ব্যক্তিকে জঙ্গিরা মেরেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সীমান্তের ওপার থেকে এ সব কথা ছড়ানো হচ্ছে। কেউ ভাবেনি জঙ্গিরা ধর্মস্থানেও ঘাঁটি গাড়বে।’

সিআরপি’র দাবি, গুলির লড়াইয়ের মধ্যেই কয়েক জন সেনা আয়াদকে উদ্ধার করেন। সহকর্মীরা তখন গুলি চালিয়ে ‘কভার’ দেন তাদের।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আয়াদকে কোলে নিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছেন এক সেনা। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ির মধ্যে পুলিশকর্মীরা চকলেট আর বিস্কুট দিয়ে ভোলাচ্ছেন তাকে। কেঁদেই চলেছে আয়াদ। চোখ মুছছে আর একটাই কথা বলছে— ‘বে গাচে গারে (আমি বাড়ি ফিরতে চাই)’।

পুলিশ বলেছে, ৬৫ বছরের বশির আহমেদ খান আজ বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলি-বিনিময়ের মধ্যে পড়ে মারা গিয়েছেন। ওই সংঘর্ষেই নিহত হয়েছেন সিআরপি-র হেড কনস্টেবল দীপচন্দ বর্মা।

এদিকে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ তাকে উদ্ধারের খবর জানাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তিনি বলেছিলেন, ‘রক্তাক্ত কাশ্মীরের প্রতিটি ঘটনাই আজ প্রচারের হাতিয়ার। তিন বছরের শিশুও।’

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

নানা নাতি কাশ্মীর ভারত

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0808 seconds.