• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৮ জুলাই ২০২০ ১৭:১৪:৪৫
  • ০৮ জুলাই ২০২০ ১৭:১৪:৪৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ভারতে লকডাউনে দেহব্যবসায় বাধ্য হচ্ছে কিশোরীরা

ছবি: সংগৃহীত

ভারত স্বাধীন হওয়ার সাত দশক পরেও দেশটিতে দারিদ্র্যহার অনেক। এর মধ্যে করোনা মহামারী যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে এসব মানুষ। ঠিক মতো জুটছে না দু’বেলা খাবার। তাই ক্ষুধা জ্বালা মেটাতে এই পরিবারের কিশোরীরা বেছে নিয়েছে দেহব্যবসা।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে এমন ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের হাল ধরতে কিশোর-কিশোরীকে দিনমজুরির কাজে পাঠাতে হয়। আর সেখানে তারা মহাজনের যৌন লালসার শিকার হলেও চুপ করে থাকে পরিবার। দেশটির র্শীষ গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে সংবাদ প্রতিদিন।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনৌ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে বুন্দেলখণ্ডের পাথরখাদান অঞ্চলের চিত্রকূট এলাকায় এমন দৃশ্য ধরা পড়ে। এমনিতেই দারিদ্র্য অঞ্চল চিত্রকূট। লকডাউনের কারণে কাজ হারিয়ে বাড়িতে বসে পরিবারের পুরুষরা। ফলে পরিবারের হাল ধরতে পথে নেমেছেন বাড়ির মেয়ে-বউরা। বাদ পড়েনি কিশোর-কিশোরীরাও। আর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে কিছু ধান্ধাবাজ মানুষ। তাদের এসব কিশোর-কিশোরীদের কম মজুরিতে পাথর খাদানের কাজে নিয়োগ করেছেন। যেখানে দৈনিক ৩০০-৪০০ টাকা মজুরি হওয়ার কথা, সেখানে মাত্র ১০০ টাকা মজুরি দিচ্ছেন খাদান মালিকরা। কপাল ভাল থাকলে কখনো ১৫০ টাকা দেয়া হয়। তবে তা মেলে খাদান মালিক বা উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের যৌন চাহিদা মেটালে। বাড়ি ফিরে এ বিষয়ে বাবা-মাকে অভিযোগ করেও লাভ হয় না বলে জানায় ভুক্তভোগীরা। কারণ, ওই টাকার উপর নির্ভর করে চলে ওই পরিবার। ফলে মুখ বুজে মেয়ের সেই অপমান সহ্য করে নেয় বাবা-মা। তাই প্রশাসনের কাছে অভিযোগও দায়ের করা হয় না।

করভি গ্রামের এমনই এক খাদান কর্মী বলেন, ‘মালিকের কাছে কাজ চাইতে গেলে শর্তসাপেক্ষে কাজ মেনে। বলা হয়, খাদানে কাজ করার পাশাপাশি দেব ব্যবসায়ও করতে হবে। উপায় না থাকায়, তাতেই রাজি হয় আমরা।’

দাফরি গ্রামের আরেক এক কিশোরী বলেন, ‘মালিকরা তাদের আসল নাম-পরিচয় আমাদের বলে না। আমাদের আসল নামও খাদানের খাতায় লেখা হয় না। কাজে ঢোকার আগে যা মজুরি দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন, তার অর্ধেক হাতে আসে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শেষমণি পাণ্ডে বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এলে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হয়।’

চিত্রকূটের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আর এস পাণ্ডে জানান, আমাদের কাছে এরকম কোনো ঘটনার খবর নেই। গ্রামের পাহারাদারদের সতর্ক থাকতে বলেছি। গ্রামে-গ্রামে ঘুরে আমারা খবর নিই। এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

এদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তদন্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিশেষ গুপ্তা।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0570 seconds.