• ০৯ জুলাই ২০২০ ১৭:০৭:২৭
  • ০৯ জুলাই ২০২০ ১৭:০৭:২৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সাহেদরা প্রডাক্ট, আলোচনা প্রয়োজন তৈরি-প্রক্রিয়া ও মেশিনারি নিয়ে

কাকন রেজা। ফাইল ছবি


কাকন রেজা:


রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদকে সবাই পেড়ে ধরেছেন। অনেকের লেখাই দেখছি। অনেক ক্ষেত্রেই চুম্বকের সূত্র খেটে যাচ্ছে। ওই যে, সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে, সেই সূত্র। এক বাটপারের বিরুদ্ধাচারণ করে অন্য বাটপারদের খড়্গহস্ত হওয়া। করোনাকালীন দুঃসময়ে এমন কারবার কিছুটা আনন্দ জোগায় বৈকি। তবে মুশকিল হলো এ ধরণের আনন্দ আমাদের মূল বিষয়টিকে ‘আউট অব ফোকাস’ করে দেয়। আড়ালে পড়ে যায় প্রয়োজনীয় আলোচনা। যা হলো কথিত এসব বাটপারদের তৈরি প্রক্রিয়া। তৈরির মেশিনারি’র কথা। অথচ সাহেদদের ঘিরে এমন আলোচনাই মূখ্য হওয়া উচিত ছিলো এমন সময়ে। 

সাহেদ একটি প্রডাক্ট। এমন প্রডাক্ট আরো রয়েছে। পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দেয়ার বিষয়ে কদিন আগেই ধরা খেয়েছেন আরেকজন। ক্যাসিনোকাণ্ডে ধৃতরাও তাই। একই মেশিনে তৈরি জিনিস। কাজেই এসব প্রডাক্ট নিয়ে না মেতে ফোকাস করা উচিত প্রডাক্ট তৈরির মেশিনারি বিষয়ে। সিস্টেমের গলদ নিয়ে। প্রডাক্টের পেছনে দৌড়ে তো আর প্রডাক্ট তৈরি রোধ করা যাচ্ছে না। রোধ করতে হলে ভাবতে হবে মেশিনারি নিয়ে। আলোচনায় আনতে হবে গলদ প্রডাক্ট তৈরির কারণ ও প্রক্রিয়াটিকে।  

অথচ হচ্ছে এর উল্টো। কিছু একটা হলেই আমাদের আরেক শ্রেণির বাটপার হামলে পড়েন প্রডাক্টগুলোর উপর। সে সাহেদ হোক বা জিকে শামিম হোক। তাদের এজেন্ডাই থাকে প্রডাক্ট নির্ভর। ধরা পড়লেই সাহেদ-শামিমরা মহাপাতক হয়ে উঠেন আর বাকি সব সাধু। গলায় গলায় ভাব আর ফটো থাকলেও সাহেদরা হয়ে উঠেন অপরিচিত। উল্টো পারলে সাহেদদের ক্রসফায়ারে দিয়ে দেয়ার দাবি উঠে। যেন সাহেদের সাথে পুরো বিষয়টিই ‘ফায়ার্ড’ হয়ে যায়। বেঁচে যায় সাহেদদের তৈরি করার মেশিনারি। আর তা থেকে ক্রমাগত তৈরি হতে থাকে অসংখ্য সাহেদ। এরাই ডুবে যাওয়া লঞ্চের ৩৪ জন মৃতকে টপকে জীবিত থাকার বাটপারি গল্প তৈরি করে। যে গল্পের মোহে ‘আউট অব ফোকাস’ হয়ে যায় ৩৪টি মৃতদেহ। ৩৪টি পরিবারের আহাজারি। করোনাকালে এমন অসংখ্য আহাজারির গাথা আজ দেশের ঘরে ঘরে।

ইতালিতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বিমানকে ভাইরাসবাহী বোমার সাথে তুলনা করা হয়েছে। ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে বিমান। বিষয়টি এইখানেই থেমে থাকেনি। ইতালির গণমাধ্যমে প্রধান শিরোনাম হয়েছে মিথ্যা করোনা সনদপত্রের খবরটি। ইতালি আপাত নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশিদের। খবরের সংস্থা এপি লিখেছে, ‘ইতালি ক্র্যাকস ডাউন অন বাংলাদেশ অ্যামিড ভাইরাস কনসার্নস’। ইউরোপে শেনজেন ভিসা বন্ধ। বুঝুন অবস্থা। এই পুরোটা বিষয় কি শুধুমাত্র একটা বা দুটি সাহেদের জন্য? না, এটা পুরো সিস্টেমের উপর আস্থাহীনতা। ইতালি সাহেদকে চেনে না, চেনে বাংলাদেশকে। এই বিষয়টা আমাদের অনেকে বুঝতে চান না কিংবা না বোঝার ভান করেন। তার ফলই হলো এপি’র খবরের শিরোনাম। যার সোজা অর্থ আস্থাহীনতা। এই যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হলো এটা অনেকদিন ভোগাবে আমাদের।

চরম দুর্যোগের সময় নাকি বাঘে-ছাগলে এক ঘাটে পানি খায়। আমাদের এখন চরম দুর্যোগ চলছে। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। তার সাথে অর্থনৈতিক সংকট। আমাদের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় ঐক্যের। এখন সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থের উঠাটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু তা হচ্ছে কি! না হচ্ছে না। এমন অবস্থাতেও দুর্নীতিবাজি থেমে থাকেনি। এই ‘আয়নাবাজি’ চলছে সগৌরবে। আর আমরা আছি কুমির আর শেয়ালের গল্পের মতন ঠ্যাং ছেড়ে লাঠি নিয়ে আত্মতৃপ্তির মহোৎসবে।

লেখক: সাংবদিক ও কলামিস্ট।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1947 seconds.