• ১৪ জুলাই ২০২০ ২০:৫৪:৫২
  • ১৪ জুলাই ২০২০ ২০:৫৪:৫২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

টনসিলাইটিসের কারণ ও প্রতিকার

মো. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন। ছবি: সংগৃহীত


মো. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন :


টনসিল শব্দটির সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। টনসিলের সংক্রমণের কারণে গলাব্যথা আমাদের দেশে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বেশী দেখা যায়। তবে বড়দের মধ্যেও টনসিলাইটিসের প্রবণতা কম নয়।

টনসিল কি?

প্রত্যেক মানুষের মুখগহ্বরের একেবারে পেছনে আলজিহ্বার নিচে দুপাশে অবস্থিত দুটি লিম্ফয়েড বা লসিকা গ্রন্থিকে প্যালাটাইন টনসিল বলা হয়। এছাড়াও আমাদের গলায় এবং আশেপাশে আরো কিছু টনসিল রয়েছে। এই টনসিলগুলো আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অংশ। মুখগহ্বর থেকে প্রবেশকৃত খাদ্যে থাকা জীবাণু ধ্বংসেও টনসিলের ভূমিকা রয়েছে।

টনসিলাইটিস কি?

টনসিলাইটিস বলতে টনসিলের প্রদাহ বা সংক্রমণকে বোঝায়। টনসিলাইটিসের অন্যতম প্রধান কারণ ভাইরাস অথবা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। বিটা হেমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া দিয়ে মূলত ব্যাকটেরিয়াল টনসিলাইটিস হয়ে থাকে। অন্যদিকে আইসক্রিম, ফ্রিজের ঠান্ডা পানি বা খাবার, ঋতু পরিবর্তন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, অপুষ্টি ইত্যাদি কারণেও টনসিলে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

লক্ষণ :

টনসিলাইটিসে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায় সেগুলো হল- গলা ব্যথা, খাবার গিলতে ব্যথা, গলা খুসখুস করা, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, কন্ঠস্বর পরিবর্তন হওয়া, মুখে দূর্গন্ধ, গলার লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া ইত্যাদি। কারো কারো ক্ষেত্রে টনসিলের উপরে সাদা বা হলুদ দাগ অথবা সাদাটে রঙয়ের আবরণও দেখা যেতে পারে। এসব উপসর্গ তিন চারদিন থেকে শুরু করে দুইসপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

প্রতিকার :

টনসিলের প্রদাহে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে, সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে, কুসুম গরম লবন পানি দিয়ে গড়গড়া করতে হবে নিয়মিত, মুখগহ্বর পরিস্কার রাখতে হবে, ঠান্ডা পানীয় এবং আইসক্রিম পরিহার করতে হবে, প্রয়োজনে জ্বর ও গলাব্যথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। তবে জ্বর বা গলাব্যথা যদি তিন দিনের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

টনসিলাইটিস হলেই অপারেশন নয় :

টনসিলের প্রদাহের কারণে গলা ব্যথা হলেই অপারেশনের প্রয়োজন নেই। বেশীরভাগ রোগী সাধারণ চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে টনসিলের অপারেশন করা জরুরি। যেমন- কারো বার বার টনসিলের প্রদাহ হলে, দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক টনসিলাইটিস হলে, টনসিল বড় হয়ে শ্বাসনালী ছোট হয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা খাবার গিলতে অসুবিধা হলে, বছরে সাত বা তার অধিকবার গলাব্যথার সমস্যা হলে, অথবা টনসিলাইটিসের কারণে অন্য কোন জটিলতার সৃষ্টি হলে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ওনুযায়ী অপারেশান করে ফেলা ভালো।

কখন অপারেশন করা যাবে না?

টনসিলে একিউট ইনফেকশন থাকলে অর্থাৎ জ্বর বা ব্যথা থাকা অবস্থায় অপারেশন করা যাবে না। এছাড়াও কারো রক্তে হিমেগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকলে, হিমোফিলিয়া, লিউকেমিয়া ইত্যাদি রক্তরোগ থাকলে, মাসিক চলাকালীন অবস্থায়, তিন বছরের কম বয়স্ক বাচ্চাদের, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রোগীদের টনসিলের ওপারেশন করা যাবে না। অ্যাজমা, উচ্চরক্তচাপ ও হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

লেখক : নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 1.5035 seconds.