• ১৯ জুলাই ২০২০ ১৭:২১:৪৯
  • ১৯ জুলাই ২০২০ ১৭:২১:৪৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনা আক্রান্তের নতুন মাইলফলক এবং আসন্ন ঈদ

ফাইল ছবি


ডা. পলাশ বসু :


করোনা আক্রমণের ১৩৩ দিন পার হয়ে গেলো। এ অবধি মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়ালো। আক্রান্তের দিনের হিসেবে আমাদের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। তবে হার কিন্তু রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। টেস্টের সংখ্যা যেখানে দিন দিন বাড়ার কথা সেখানে আমাদের কমছে।

এ সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি প্রস্তাব দিয়েছিলো যে টেস্টের সংখ্যা প্রতিদিন ৩০ হাজারে উন্নীত করতে। কিন্তু কোথায় কী! টেস্টের সংখ্যা কমেছে। প্রতিনিয়ত কমছেই। প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে টেকনিক্যাল কমিটির সাজেশান নেয়ার দরকারই বা কী?

সংক্রামক রোগ নিরাময়ের সবচেয়ে কমন থিওরি হচ্ছে একে প্রতিরোধ করা। চিকিৎসা করাটা প্রধানতম বিবেচ্য নয় এখানে। করোনার ক্ষেত্রেও এই একই কথা প্রযোজ্য। এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে। এজন্য টেস্ট, আইসোলেশান, কোয়ারেন্টাইন এবং কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং করতে হবে। তাহলে এটি এক ব্যক্তি হতে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়বে না। ফলে এর বিস্তার বন্ধ হবে। সেই সাথে শারীরিক ফিটনেস বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এ সময়ে দিনে অন্তত ১ টি ডিম খান। সবুজ শাকসব্জি খান। দেশীয় ফলমুল পেয়ারা, লেবু, লটকান খেতে হবে। এতে শরীরের ইমিউনিটি (রোগ প্রতিরোধ) বাড়বে। আর মাস্ক পরতেই হবে। অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মানতে হবে।

আর যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদেরকে সকলের থেকে আলাদা করে আইসোলেশান করতে হবে। উনার সংস্পর্শে আসা লোকদেরকে কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। আমরা এসব এখন আর করছি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। সব কিছু গড়ে হরিবোল অবস্থা।  

যাই হোক, করোনায় মারা যাওয়ার বড় কারণ কিন্তু অক্সিজেনের অভাব। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অক্সিজেন থেরাপির ব্যবস্থা রাখতে হবে। এজন্য মূলত প্রয়োজন হবে হাই ফ্লো অক্সিজেনের। সেটা  সাপ্লাই দিতে পারলে অধিকাংশ রোগীই ভালো হয়ে যাবে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই ছাড়া এই হাই ফ্লো অক্সিজেন দেয়া সম্ভব নয়।

সামনে কোরবানির ঈদ আসছে। এ সময়ে মানুষ গ্রামে গেলে সেখানে এটা ছড়াবে। তবে, উপজেলা পর্যায়ে বা অধিকাংশ জেলা পর্যায়ে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই না থাকায় হাই ফ্লো অক্সিজেন দেয়ার কোন সুযোগ থাকে না। সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়ে রোগীর অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ করাটা সম্ভবপর নয়। ফলে অক্সিজেনের অভাবে অনেকের মৃত্যু হতে পারে।

এবারের ঈদে তাই সবচেয়ে ভালো হয়  শহর থেকে গ্রামে যাওয়া কঠোরভাবে বন্ধ করতে পারলে। বেঁচে থাকলে সব করা যাবে আগামীতে। জীবন চলে গেলে তা কি আর ফেরত পাওয়া সম্ভবপর হবে? এ ক্ষতি কি ঐ পরিবার কেনদিন পুষিয়ে উঠতে পারবে? নিশ্চয় না।

তাই আসুন আমরা করোনা প্রতিরোধের উপায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জানমালের ক্ষতি রোধ করি। ঈদে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কোরবানি দিই। অহেতুক দল বেঁধে গ্রামে যেন আমরা না যাই। গ্রামের পরিস্থিতিকে যেন জটিল করে না তুলি।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস ডা. পলাশ বসু

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0775 seconds.