• ফিচার ডেস্ক
  • ২২ জুলাই ২০২০ ১৭:৪৬:০৯
  • ২২ জুলাই ২০২০ ১৭:৪৬:০৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বাড়াচ্ছে করোনা ঝুঁকি : গবেষণা

ছবি : প্রতিকী

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নেই এমন লোক মেলা দায়। সকালে ও রাতে খাবারের আগে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে করোনা মহামারীকালে প্যান্টোপ্রাজোল জাতীয় ওষুধ সেবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভাইরোলজিস্টরা। এই ওষুধ খেলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি ২.৫০ থেকে ৩.৭ গুণ বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সিডার্স সিনাই মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাবিজ্ঞানী ব্রেনান স্পিগেল ৮৬ হাজার মানুষের ওপর এক জরিপ করার পর সম্প্রতি এই গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। মার্কিন ‘জার্নাল অফ গ্যাসট্রো এন্টেরোলজি’র বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে লাইভসাইন্স।

ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮৬ হাজার জনের মধ্যে ৫৩ হাজার জনের বেশি মানুষ পেটে অস্বস্তি, ব্যথা, অ্যাসিডিটি, গলা বুক জ্বালা ও হার্ট বার্নের সমস্যার কারণে নিয়মিত প্যান্টোপ্রাজোল জাতীয় ওষুধ খান। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

ওই গবেষণায় বলা হয়, অনেকে নিজেদের ইচ্ছায় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দিনে দুইবার পর্যন্ত পিপিআই জাতীয় ওষুধ খান। এতে পেটের অ্যাসিড প্রশমিত হলেও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর এই মহামারীকালে পিপিআই গ্রহণকারীদের সার্স কোভ-২ ভাইরাস সংক্রমণ তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি। মূলত পাকস্থলী ও অন্ত্র শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অন্ত্রে অ্যাসিডের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে করোনায় সংক্রমণের সুযোগ তৈরি হয়। 

এ বিষয়ে গ্যাসট্রো এন্টেরোলজিস্ট সুনীলবরণ দাস চক্রবর্তী জানান, পাকস্থলীতে নানা ধরনের অ্যাসিড থাকে। এর মধ্যে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড অন্যতম। এছাড়াও পটাসিয়াম ক্লোরাইড ও সোডিয়াম ক্লোরাইড রয়েছে। এসব অ্যাসিড খাবার পরিপাকে সাহায্য করে। হজমের জন্য পাকস্থলীর অ্যাসিড ক্ষরণ বেড়ে যায়। মূলত গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থির পেরিয়েটাল কোষ থেকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিঃসৃত হয়।

তিনি আরো জানান, ত্রুটিপূর্ণ খাবারের অভ্যাস ও অতিরিক্ত মানসিক চাপসহ নানা কারণে অ্যাসিড নিঃসরণ বেড়ে যেতে পারে। পাকস্থলীতে একটি নির্দিষ্ট পিএইচ ভারসাম্য থাকে, তা হলো ১.৫ থেকে ৩.৫। খাবার হজম করা ছাড়াও এই পিএইচ ভারসাম্য বজায় থাকলে নানা ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া এই অ্যাসিডিক পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে না। এর কারণে আমরা সুরক্ষিত থাকি। আর যারা কারণে-অকারণে এ জাতীয় ওষুধ নিয়মিত খান, তাদের পাকস্থলীর স্বাভাবিক সুরক্ষা করার পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে পেটের নানা সংক্রমণের ঝুঁকি দ্রুতই বেড়ে যায়।

সুনীলবরণ দাস আরো জানান, বিভিন্ন দেশের মানুষদের মধ্যে একটানা প্যান্টোপ্রাজোল জাতীয় ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা আছে। তাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক অনেক বেশি। এর আগে ২০০২-২০০৩ সালে সার্স মহামারীকালে করা সমীক্ষায় জানা যায়, যারা প্রতিনিয়ত পিপিই খান তাদের মধ্যে সার্স কোভ’র সংক্রমণের হার অনেক বেশি ছিলো। একইভাবে করোনা সংক্রমণের হারও বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এছাড়াও নিয়মিত প্যান্টোপ্রাজোল খেলে কিডনির সমস্যা, ডিমেনশিয়া অর্থাৎ ভুলে যাওয়া, অস্টিওপোরোসিস ও তার কারণে অল্প চোট আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়া এবং পেটের অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে ইন্টারনাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ অর্পণ চৌধুরী জানান, কোনো অবস্থাতেই এক মাসের বেশি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর খাওয়া ঠিক নয়। করোনাকালে এই ওষুধটি দেয়া বন্ধ রাখাই ভালো। যাদের অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণের জন্য এই ওষুধ সেবন করেন, তাদের করোনা সন্দেহ হলেই দ্রুতই ওই ওষুধ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে এমন সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0878 seconds.