• ২৫ জুলাই ২০২০ ১৭:৪৫:৫৯
  • ২৫ জুলাই ২০২০ ১৮:৪১:০৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা ও বেনিফিসিয়ারিরাও সমূলে উৎপাটিত হোক

ফাইল ছবি


ডা. পলাশ বসু :


এতদিন আমরা প্রশ্নফাঁসের কথা শুনতাম। মাঝেমধ্যে ২/৪ টে পরীক্ষা বাদ দিয়ে আবার নতুন করে নিতেও দেখেছি। এ সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের খবরও আমরা যে দেখিনি এমন নয়। তবে, এটা নিয়ে সেভাবে ফলোআপ না থাকায় এ ফাঁসচক্র জাতির গলায় নিয়মিতই ফাঁস চালিয়ে গিয়েছে। সেই সাথে তদ্বির ও ঘুষবানিজ্য করে দেশটাকে রীতিমতো ফোকলা করে দিয়েছে।

সম্প্রতি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের কয়েকজনকে ডিবি পাকড়াও করেছে। একটা টিভি চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ডিজি হেলথের প্রেস থেকে কিভাবে মেশিনম্যানের সহায়তায় মধ্যরাতে প্রশ্নফাঁস হতো তা তুলে ধরা হয়েছে। এসেছে অধিদপ্তরের সাবেক পলাতক দুর্নীতিবাজ কর্মচারী আফজালের যোগসাজশের কথাও। আফজালের নামে টেন্ডারবানিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে পাচার ও তার পলায়নের কথাও এর আগে আমরা জেনেছি। সরকারের উচিত আফজালকে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে ফেরত এনে আইনের মুখোমুখি করা। সেই সাথে আফজালের সাথে জড়িত রাঘববোয়ালদেরকেও ধরে আইনের আওতায় আনতে হবে।

শুধু মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা নয়; বিশ্ববিদ্যালয়েে প্রশ্ন ফাঁস, জালিয়াতি করে ভর্তি, সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার কথাও আমরা জানি। বিসিএসের মতো পরীক্ষায়ও প্রশ্নফাঁস একসময় ছিলো নিয়মিত ঘটনা। ২৭ তম বিসিএসে এ কারণে ২ য় বার ভায়বা নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যদিও সে বিসিএসে প্রিলিমিনারীতেই প্রশ্নফাঁস হয়েছিলো।

এভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়েছে বছর বছর। ডিজিটাল পদ্ধতি শুরুর আগে শুনেছি নাকি একজনের হয়ে আর একজন ভর্তি পরীক্ষা দিতো। এডমিট কার্ডে প্রার্থীর ছবি সরিয়ে টাকার বিনিময়ে যে পরীক্ষা দিবে তার ছবি লাগিয়ে দেয়া হতো। বিসিএসেও এভাবে পরীক্ষা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে- টাকার চুক্তিতে। পরে যখন হলে উপস্থিতির স্বাক্ষরশিটে নামের সাথে ছবি দেয়ার প্রচলন শুরু হলো তখন এ প্রক্রিয়ার অবসন ঘটে। তখন নতুন উদ্যমে শুরু হয় প্রশ্নফাঁস। তারপর কেন্দ্রে মোবাইলে উত্তর পাঠানোর ঘটনাসহ টাকা দিয়ে হল ফ্রি করে নিয়ে উত্তর পত্র পূরণ করার ঘটনাও ঘটেছে। এসবই চাকরিপ্রার্থী তরুণদের মুখেই একসময় শুনেছি।

পিইসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি তেও প্রশ্নফাঁসের কথা আমরা জানি। এটা রীতিমতো একটা ব্যধি হয়ে দাঁঠিয়েছিলো।এখন মনে হচ্ছে এতে কিছুটা হলেও লাগাম পড়েছে। ১৯৯৭ সালে আমরা যখন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম তখনও ইংরেজি পরীক্ষা দ্বিতীয়বার নেয়ার ঘটনা ঘটেছিলো। কারণ ছিলো এই প্রশ্নফাঁস। এভাবেই এসব চক্র আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পেরেছে বলেই দিনে দিনে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

আমার প্রস্তাবনা :

কথায় আছে, শুরু না হওয়ার চাইতে দেরীতে শুরু হওয়াও ভালো। তাই-

(১) আমার মনে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী অন্ততপক্ষে গত এক দশকে মেডিকেল, বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, সরকারি চাকরি পরীক্ষায় জালিয়াতির সাথে জড়িতদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করুক।

(২) জালিয়াতি করে চান্স পাওয়াদের ব্যাপারেও একই সাথে খোঁজ নিতে হবে। নিবিড় তদন্ত করে জালিয়াতি চক্রকে ধরতে পারলেই এদের মাধ্যমে কারা কারা কোথায় চান্স পেয়ে পড়ালেখা করছে বা চাকরিতে ঢুকেছে বা পাশ করে চাকরিতে ঢোকার প্রক্রিয়ায় আছে তাদেরকে চিহ্নিত করা সহজ হবে।

(৩)এসব ফাঁসকৃত প্রশ্নে যারা চান্স পেলো তাদের ভর্তি, সনদ বাতিল, চাকরিচ্যুতিসহ জেলে পাঠাতে হবে। তাদের ছবিসহ গণমাধ্যমে পরিচয় প্রকাশ করতে হবে।

(৪) এসব কাজে জড়িত বাবা-মাকেও আইনের আওতায় নিয়ে তাদের সম্পদের অনুসন্ধান করা দরকার।তাদেরও ছবিসহ পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। সেই সাথে আইনগতভাবে তাদেরকেও কঠিনতম শাস্তি দিতে হবে।

তাহলে অন্যায় করে যে আসলেই পার পাওয়া যায় না-সেটা জনমনে প্রতিষ্ঠিত হবে। কারণ প্রশ্নফাঁস করে যারা উচ্চশিক্ষায় ঢুকেছে, চাকরিতে ঢুকেছে সেসব ছেলেমেয়েরা পেশাগত ও চাকরি জীবনেও দু'নাম্বারিই করবে। এদের দিয়ে নৈতিকতা আশা করা যায় না। এরা হবে মূলতঃ ক্ষমতার পূজারী, ধান্দাবাজ এবং দুর্নীতিবাজ।এরা দেশের স্বার্থবিরোধী কাজে জড়িত হতে বিন্দুমাত্রও ভাববে না। নিজের অযোগ্যতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বলে নানাধরণের ক্ষমতাবানদের ছত্রছায়াকে পুঁজি করে অনৈতিকতা পেলেপুষে বড় করার চেষ্টা করবে। কারণ নৈতিকতা, দক্ষতা, যোগ্যতাকেই এরা ভয় পায়। এসব অনৈতিক লোকেরাই আজ দুর্নীতিকেই নীতি বানিয়েছে। দেশটাকে রসাতলে নিয়ে যাবে।

দেশ ও জাতিকে বাঁচাতেই এ ব্যাপারে তাই কঠিনতম ব্যবস্থা নিতে হবে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ডা. পলাশ বসু প্রশ্নফাঁস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0887 seconds.