• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৫ জুলাই ২০২০ ২২:৪৩:৩৪
  • ২৫ জুলাই ২০২০ ২২:৪৩:৩৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নকল মাস্কের দায় নিচ্ছেন না শারমিন

শারমিন জাহান। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত শারমিন জাহানকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ২৫ জুলাই, শনিবার দুপুরে তাকে হাজির করা হলে আদালত এই রিমান্ড দেন। তবে ওই নকল মাস্ক সরবরাহের দায় নিচ্ছেন না শারমিন।

আদালতে শুনানি ও ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে নিজেকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন শারমিন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যাচাই করার পরই মাস্কের চালান গ্রহণ করেছে। কোনো ত্রুটি থাকলে তখন তা ফেরত দেওয়া হয়নি কেন?’ এদিকে স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় তার ব্যবসায় জড়ানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আদালত।

এ বিষয়ে ডিবির রমনা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মিশু বিশ্বাস বলেন, বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের মামলায় গ্রেপ্তার শারমিন জাহানকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য যাচাই করে দেখা হবে। পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ মাস্ক সরবরাহের বিষয়ে নিশ্চিত হতে বিএসএমএমইউ থেকে মাস্কের নমুনা সংগ্রহ করে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করানো হবে। অভিযোগ ওঠা মাস্কগুলো তিনিই সরবরাহ করেন কিনা তাও তদন্তের আওতায় আসবে।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, নিম্নমানের মাস্কগুলো স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে ত্রুটিপূর্ণ মাস্কগুলো কোথায় তৈরি, এগুলো ‘আসল’ হিসেবে সরবরাহের সঙ্গে কারা যুক্ত এবং বিএসএমএমইউয়ের কেউ জেনেবুঝে এসব মাস্ক নেওয়ার প্রক্রিয়ার যুক্ত ও সুবিধাভোগী কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুনানির সময় বিচারকের অনুমতি নিয়ে শারমিন বলেন, ‘প্রথম দুই দফায় মাস্ক দিলাম, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু বলেনি। তৃতীয়বার মাস্ক দেওয়ার পর বলা হচ্ছে নকল মাস্ক। যদি নকল মাস্ক দিয়ে থাকি তাহলে তারা সেটা ফেরত দেবে। সেটা না করে মামলা দেওয়া হলো। মূলত আমাকে ফাঁসানোর জন্য এটা করা হয়েছে।’

এ সময় বিচারক শারমিনের কাছে জানতে চান, সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করে তিনি কীভাবে, কোন নিয়মে, কোন ক্ষমতায় মাস্কের ব্যবসায় নিয়োজিত হলেন- এর জবাবে শারমিন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মতো অনেকেই নানারকম ব্যবসায় যুক্ত। তাহলে শুধু তার ওপর কেন দোষ চাপানো হচ্ছে?

এ বিষয়ে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়, শারমিনের সরবরাহ করা প্রথম দুই দফার মাস্ক নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে পরের দুই দফায় তিনি ত্রুটিযুক্ত নকল মাস্ক দিয়েছেন। এ কারণেই প্রথমে আপত্তি জানানো হয়নি। তাছাড়া এ ব্যাপারে তাকে না জানানোর কথাও ঠিক নয়। গত ১৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ২০ জুলাই দেওয়া জবাবে শারমিন দুঃখ প্রকাশ করেন, যা দোষ স্বীকারের শামিল।

এর আগে ২৪ জুলাই, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে শারমিন জাহানকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর একদিন আগে ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শারমিন জাহানের বিরুদ্ধে বিএসএমএমইউ’র প্রক্টর বাদী হয়ে ওই মামলা করেন।

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করা শারমিন জাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদকও ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে তিনি স্কলারশিপ নিয়ে চীনের উহানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি উহানে লকডাউন শুরু হলে দেশে ফিরে আসেন। তার শিক্ষা ছুটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে চীনে থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের মার্চে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন তিনি।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1673 seconds.