• ২৬ জুলাই ২০২০ ০৯:৩৫:১৯
  • ২৬ জুলাই ২০২০ ০৯:৩৫:১৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

৭শ’ টাকা বনাম ২৩শ’ এবং কিট বনাম কীট

ছবি : প্রতীকী

৭শ’ টাকার কিট ২৩শ টাকায় কিনছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আর এখন পর্যন্ত ১৫ লাখের মতন কিট কেনা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। অঙ্কটা কষার দায়িত্ব আপনাদেরই দিলাম। আপনারা ইচ্ছা করলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতাতেও যোগফলটা যোগ করতে পারেন। উন্নয়ন এক অর্থে উর্ধ্বগতির সূচক। দুর্নীতির সূচক যখন ঊর্ধ্বে থাকে সেটাও এক ধরনের উন্নয়ন। এর সাথে আরেকটা সম্পূরক প্রশ্ন নিতে পারেন। তা হলো, গণস্বাস্থ্যের কিট কেনো কীটে খায়। জবাবটা আপনাদের নিজ দায়িত্বেই দিতে হবে। না দিলেও অন্তত জবাবটা খোঁজার চেষ্টা করুন। বুঝতে চেষ্টা করুন পচনটা ধরেছে কোথা থেকে।

কিটের বেটা-কেনার এই যে তথ্য, তা দিয়েছে গণমাধ্যম। কেউ যদি আমাকে দায়ী করে গোস্বা হন তাহলে নিতান্তই ভুল করবেন। আমি আপনাদের মতই, সাতে-পাঁচে থাকি না। পানিতে ডোবা রাস্তা পেরিয়ে বাসায় যাই, কাউকে কিছু বলি না। মাঝে-মধ্যে ম্যানহোলে পা হড়কে যায়, তাও থাকি চুপচাপ, কিচ্ছু বলি না। মূলত আপনাদের মতই, সব সয়ে নিই, হুজ্জতি করি না। তাই হিসাবে দায়িত্বটা আপনাদের দিলাম, অঙ্কে কাঁচা বলে হুজ্জতের দায় আর নিলাম না। পরিবহন সংকটকালীন কিটের দাম বেড়ে হয়েছিলো সর্বোচ ১ হাজার টাকা। তখন দাম বাড়িয়ে কেনা হয়েছে ২৭শ’ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কিটে ১৭শ’ টাকা গচ্চা। এই অঙ্কও করে দেখিয়েছে গণমাধ্যম। নিজে করতে যাইনি। প্রশ্নও করিনি, গচ্চার টাকা খেয়েছে কোন কীটে।

২৩ থেকে ২৭শ’ টাকায় কিট কেনা হয়েছে। যা কিনা চীনের তৈরি। জার্মানির কিটের প্রকৃত দাম ১৪শ’ টাকার মতন। তা কেনা হয়নি। অথচ জার্মানির কিটে পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা অনেক বেশি। এই যে চীনা কিটের ফলস পজিটিভ, আর ফলস নেগেটিভের আধিক্য, জার্মানির কিট কেনা হলে সেই আধিক্য হ্রাস পেতো। কিট কেনার দায়িত্বের দায় কেটে দিয়েছিলো দেশি কীটেরা। তাই কিট কেনাতেই প্রায় ৫৯ কোটি টাকা বেশি দেয়া হয়েছে। বুঝুন ঠেলা। তাহলে কেনো গণস্বাস্থ্যের কিট আলোর মুখ দেখবে! ডা. জাফরুল্লাহ তো এক পয়সা এদিক-সেদিক করতে নারাজ।

গণমাধ্যম স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহাশয়ের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পিপিআরের গাইড লাইন ফলো করেই করার কথা। গাইডলাইনেও আছে বাজার যাচাই করেই দেওয়ার কথা। ... আমার জানা নেই। যারা কেনাকাটা করছে, প্রকৃত বাজার যাচাই-বাছাই করেই নিশ্চয় করছে।’ মন্ত্রী মহাশয়ের ভাববাচ্য ধরনের কথায় বোঝা যায় তিনিও এ ব্যাপারে শিওর নন। তাই শুভঙ্করের ফাঁকিটা সম্ভবত তার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। গণমাধ্যম অবশ্য প্রশ্ন করেনি, মন্ত্রী মহাশয় আসলে কোন ব্যাপারে শিওর, কোন ব্যাপারটা তার নজর এড়ায়নি। গণমাধ্যমের কাছে অতটা আশা করাও উচিত নয়। আমাদের গণমাধ্যমও খুব বেশি সাতে-পাঁচে থাকে না।

যাক গে, করোনায় আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা সাথে মৃত্যুর সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে। এটা আশার কথা। সাথে অবশ্য টেস্টও কমেছে। যত বেশি টেস্ট হবে তত বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হবে। কী দরকার মানুষকে আতঙ্কিত করে। সংখ্যা বৃদ্ধিতে মানুষ ভয় পাবে, ভয় পেলে ইমিউন সিস্টেম ক্র্যাশ করবে। সেটা তো করতে দেয়া যায় না। যেহেতু ইমিউন সিস্টেমই এখন আমাদের ভরসা। বিবিসি রিপোর্ট করেছে, মানুষ হাসপাতালমুখী হচ্ছে না। হাসপাতালের সিট খালি থাকছে। অর্থাৎ মানুষ আপনা বল মানে ইমিউনের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বাসাকেই হাসপাতালের চেয়ে শ্রেয়তর মনে করছে। এটাই ভালো। ‘নো টেস্ট মানেই নো করোনা’। কেন যে মাঝখানে টেস্ট বাড়াতে গেলো! সে কারণেই তো মানুষের ইমিউন সিস্টেম ক্র্যাশ করলো, আর হুটহাট কিছু মানুষ মরে গেলো!

অবশ্য এটাও এক দিক দিয়ে ভালো হয়েছে। মৃত্যু ব্যাপারটি মানুষ সয়ে নিয়েছে। এ ব্যাপারে এখন তারা মোটামুটি নির্লিপ্ত। তারা বুঝে গিয়েছে মৃত্যুর সাথেই যেহেতু বসবাস করতে হবে তাহলে অহেতুক কেনো আর রাখঢাক, সব খুল্লাম খুল্লা’ই চলুক। এমনিতেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেছেন, ‘আমাদের আর ওল্ড-নর্মাল লাইফে ফিরে যাওয়া হবে না। এখন থেকে নিউ-নর্মাল লাইফে অভ্যস্ত হতে হবে।’ আর আমাদের নিও-নর্মাল লাইফ মানে মৃত্যুর হাত ধরে চলা। সেটাই চলতে হবে যখন, তখন ‘নো চিন্তা ডু ফুর্তি’। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় থাকে না। উপায়হীন মানুষগুলো ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সব শঙ্কা সাথে নিয়েই।   

এই উপায়হীন মানুষদের ওয়াজ নছিহত করতে আবার একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী আছেন। ‘সব দোষ নন্দ ঘোষ’ সূত্রে তারা সব দোষ ঝাড়েন পাবলিকের উপর। এই যেমন, বাঙালদের অভ্যাস খারাপ যেখানে-সেখানে হাঁচি-কাশি দেয়, ময়লা ফেলে। তাদের যদি জিজ্ঞেস করেন, আপনাদের কারো কারো সেকেন্ড হোম কানাডায় গিয়েও কি বাঙালরা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলেন? সাথে সাথে উত্তর পাবেন, ওখানের সিস্টেমে তা সম্ভব নয়। এই সিস্টেম প্রশ্নে যদি তাদের মুখের উপর জিজ্ঞেস করেন, তবে দেশের সিস্টেমের কী হলো? তাহলেই বাঁধবে গেরোটা। সেক্ষেত্রে সেই ‘জীবী-বুদ্ধি’রা কী উত্তর দিবেন তা আন্দাজ করা খুব কঠিন নয়। সোজা কথা আপনি দেশ ও জাতির শত্রু হয়ে যাবেন। নিদেনপক্ষে ষড়যন্ত্রী।

অতএব ‘নো টেস্ট, নো করোনা’র মতন ‘নো কথা, নো শত্রু’ হয়ে থাকুন সেটাই ভালো। ভালো কথা বলতে যাবেন, উল্টো বুঝবে রাম। কী দরকাররে ভাই সাতে-পাঁচে থেকে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামনিস্ট।

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0678 seconds.