• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৩ আগস্ট ২০২০ ২২:০১:৩২
  • ০৩ আগস্ট ২০২০ ২২:০১:৩২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পাওনা না দেয়ায় ভাইয়ের বাসায় বিদেশফেরত বোনের আত্মহত্যা

ছবি : প্রতিকী

মৌলভীবাজারের বড় ভাইয়ের বাড়ির দরজার সামনে বিষপানে আত্মহত্যা করলেন বিদেশফেরত বোন। ভাইয়ের কাছে পাওনা টাকা না পাওয়ার কারণে ওই নারী আত্মহত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। মৃত নারীর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা এই তথ্য জানান।

মৃত নারীর নাম পারুল বেগম (৩৫)। তিনি তিন বছরের অধিক সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন। আর অভিযুক্ত ভাইয়ের নাম বাছিত মিয়া। ২ আগস্ট, রবিবার ১২টার দিকে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের বাদে সোনাপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

মৃত পারুল সোনাপুর গ্রামের মৃত বশির মিয়ার মেয়ে। তার ১২ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। স্বামী জোনাব আলীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ছেলেকে স্বামীর কাছে রেখে তিনি গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরব যান পারুল বেগম। পরে তিনি কাতার ও সবশেষ ওমানে ছিলেন। সম্প্রতি মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে দেশে আসেন তিনি। প্রবাসে থাকার সময় পারুল তার উপার্জনের টাকা ভাই বাছিত মিয়ার কাছে পাঠাতেন। টাকার পরিমাণ লাখের ওপরে। দেশে ফিরে সেই টাকা ফেরত চাইলে টাকা না দিয়ে উল্টো বোন পারুল নির্যাতন করেন বাছিত। এ বিষয়ে পারুল নিকট আত্মীয়দের কাছে বিচারও চেয়েছিলেন।

স্বজনেরা জানান, ঈদের সময় কেনাকাটার জন্য ভাইয়ের কাছে টাকা চেয়ে পাননি পারুল। এ অভিমানে ঈদের পরদিন গতকাল রাতে ভাইয়ের ঘরের দরজার সামনে বিষপান করেন তিনি। পারুলকে উদ্ধার করে রাতেই কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তারা আরো জানান, খবর পেয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে পারুলের লাশ উদ্ধার করে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আত্মীয় বলেন, ‘পারুলের টাকা বড় ভাই বাছিত আত্মসাৎ করেছেন। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করতো। এসব ঘটনার বিচার চেয়ে প্রতিকার না পেয়ে অভিমানে পারুল আত্মহত্যা করেছেন।’

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বাছিত মিয়া বলেন, ‘পারুল বিষপানে আত্মহত্যা করেছে, এটা সত্য। তবে তার টাকা আমি আত্মসাৎ করিনি। পারুল মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলো।’

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য পারুলের লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার মৃত্যু নিয়ে অনেক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তদন্তের সময় এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।’

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1698 seconds.