• বিনোদন ডেস্ক
  • ০৪ আগস্ট ২০২০ ১৩:২৪:৫৩
  • ০৪ আগস্ট ২০২০ ১৩:২৪:৫৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কলকাতার বাড়িতে যেতে না পেরে জয়ার আক্ষেপ!

ফাইল ছবি

সারা পৃথিবীর সকল স্বাভাবিকতা বদলে দিয়েছে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) মহামারী। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘নিউ নরম্যাল’ বা ‘নতুন বাস্তবতা’ হিসেবে। মানুষ এরকম দীর্ঘ বন্দিত্বের ফেরে কবে পড়েছিল তা-ও জানা নেই।

সাধারণ মানুষের মতোই একই ফাঁদে পড়ে রয়েছেন দুই বাংলার খ্যাতিমান অভিনয়শিল্পী জয়া আহসান। কলকাতার যোধপুর পার্কের বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরেই যেতে পারছেন না তিনি। এ বাড়িটি ঘিরে রয়েছে তার অজস্র স্মৃতি। সেখানে যেতে না পেরে নিজের ফেসবুক পেইজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন জয়া, যার প্রতিটি ছত্রে ছত্রে সেই বাড়ির প্রতি ভালো লাগা, ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে।

বাংলা’র পাঠকদের জন্য সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

‘কবে আবার যোধপুর পার্কের বাড়ির এই জানালাটার পাশে গিয়ে বসব? চোখে লেগে থাকবে অস্পষ্ট ঘুমের রেখা। হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ। বহুদূর পর্যন্ত আবছা হয়ে যাওয়া কলকাতার নগররেখা। ঝেঁপে ঝেঁপে বৃষ্টি এসে কখনো পর্দা টেনে দেবে প্রকৃতির।

জানালা তো যেকোনো বাড়ির চোখ। কলকাতার বাড়ির এই দীঘল চোখের জানালাটাই ছিল আমার মুক্তির দরজা। এর ভেতর দিয়ে বয়ে আসা হাওয়ার ঝাপট কোথায় উড়িয়ে নিয়ে যেত আমার ক্লান্তি, আমার অবসন্নতা। আহা, আমার মন–ভালোর জানালা!

এই জানালাগুলোর বুক অব্দি উঠে আসা গাছগুলো ছিল আমার প্রাণ। ওগুলোর জন্যই আমি লোভে পড়ে গিয়েছিলাম বাড়িটি নেওয়ার জন্য। গাছগুলোর চারপাশ ভরে থাকা পাখিগুলোই আমার নিত্য প্রতিবেশী। জানালার পাশে ওদের আপ্যায়নের জন্য খাওয়া রেখে দিতাম বলে ওদের সঙ্গে সখ্যও হয়েছিল গাঢ়। কাকও আসে প্রচুর। কী যে প্রিয় ছিল ওদের ম্যাগি নুডলস।

জানালার ওপারের দেবদারু গাছের কথাটা মনে ফিরে আসছে বারবার। একটা বড় বাজপাখি এসে বসত গাছটার ওপর। রোজ, একদম একা একা। অন্য কোনো পাখির সঙ্গে ওকে কখনো দেখিনি। আমার জন্যই ও আসে, এটা ভাবতেই আমার ভালো লাগত। আমার টোটেম হয়ে উঠেছিল যেন পাখিটা। দেবদারুর শিখরে বাজপাখি, এই প্রখর সৌন্দর্যের কোনো তুলনা হয়?

আরেক দিকের জানালায় দীর্ঘ কৃষ্ণচূড়া গাছ। ওতে মৌমাছিরা চাক বেঁধেছে। সেই মৌচাক দেখতাম শোয়ার ঘরের জানালা দিয়ে। বাঁধভাঙা সূর্যের আলোয় কৃষ্ণচূড়ার টকটকে লালে ডুবে যেত প্রতিদিনের মলিনতা। আম্পানের তাণ্ডবে ডালপালা নাকি ভেঙে গেছে গাছটার। খর্ব হয়ে পড়েছে। মৌচাকটাও তো আর থাকার কথা নয়। বুকটা ভেঙে গেছে শুনে। কবে গিয়ে আবার দেখতে পাব আহত ওই কৃষ্ণচূড়া গাছটা?

জানালাটা ছিল আমার ছন্নছাড়া স্বপ্নেরও এক অসম্ভব মুক্তি। দূরে বিরাট বিরাট পানির ট্যাংকি। পানির ট্যাংকি আমার ছোটবেলা থেকে প্রিয়। ওর মধ্যে কেমন যেন অজানার হাতছানি। সব সময় মনে হয়,  “city of angels”–এর দেবদূতগুলোর মতো মরে যাওয়ার পর আমিও ওই পানির ট্যাংকের ওপর পা ঝুলিয়ে বসে থাকব। কল্পনার কোন দিগন্তরে যে নিয়ে যেত আমার জানালা!

ওই অলৌকিক জানালাগুলো আমি ফিরে পাব কবে?’

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1382 seconds.