• ০৪ আগস্ট ২০২০ ১৮:৪৭:৩৩
  • ০৪ আগস্ট ২০২০ ১৮:৪৭:৩৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অপু’দের উত্থান, সাতে-পাঁচে না থাকাদের আক্ষেপ

ফাইল ছবি


কাকন রেজা :


কোন এক টিকটকার অপু’র গ্রেপ্তার নিয়ে চারিদিকে রীতিমত শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ থেকে শুরু করে সামাজিকমাধ্যমের হালকট, বাদ যাচ্ছে না কোনো কিছুই। কথা একটাই, এসব হচ্ছে কুমিরের ঠ্যাং ছেড়ে লাঠি কামড়ে ধরবার আলাপ। মূল আলাপে যেতে চান না বা চাচ্ছেন না কেউ। 

অপু’রা মূলত প্রডাক্ট। প্রডাক্টের উৎপাদন বন্ধ করতে চাইলে মেশিন নিয়ে কথা বলতে হবে। এর আগেও বলেছি, যেমন মেশিন প্রডাক্ট তেমনি হবে। বিনির্মাণ কতটা জরুরি রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামোর এটা কেনো যে বিদগ্ধজনরা বুঝতে পারছেন না, বুঝলাম না! জ্বর করোনার লক্ষণ। জ্বর করোনা নয়। প্যারাসিটামল জ্বর কমায়, করোনা সারায় না। 

অপু’রা মাস্তানি করবে, মারামারি করবে এটাই তো স্বাভাবিক। আপনারা নিজ সমাজে এদের বেড়ে উঠতে দিয়েছেন। এদের উত্থান পর্বে ‘আমি দাদা সাতে-পাঁচে থাকি না’ বলে কেটে পড়েছেন। এখন শেষ পর্বে এন্ট্রি নিয়ে বুলি কপচাচ্ছেন। এতদিন কোথায় ছিলেন। যে যার জায়গা থেকে প্রতিবাদ করেননি কেন! প্রায় চার বছর আগে কথা শুরু করেছিলাম ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে। তখন টিকটক আসেনি। বুঝতে পারছিলাম একটা ভুল প্রজন্ম গড়ে উঠছে। কেউ কান-মাথা নাড়াননি। বরং উল্টো ব্যঙ্গ করেছেন। ‘বেশি বুঝি’ বলে আমাদের তাচ্ছিল্য করেছেন। কেউ কেউ এড়িয়ে যাবার ভান করেছেন।

ক্যানিবাল সমাজ গড়ে উঠছে অনেক আগে থেকেই। আমরা হাতেগোনা কয়েকজন বলা শুরু করেছিলাম এমন কথা। বলছিলাম আমাজনের আদিম সমাজ ব্যবস্থা ভর করছে আমাদের উপর। আমরা ক্রমেই ক্যানিবাল হয়ে উঠছি। তারই ধারাবাহিকতা ‘তুমি কাঁদছো কেনো আব্বু’র মতন হৃদয় ছিড়ে যাওয়া সংলাপ। গণপিটুনিতে নিহত ‘রেনু’র অসহায় সন্তানদের মুখ। মেজর সিনহার মায়ের বিদারক কথা। 

মৃত্যু কোনো দৃষ্টান্ত নয়। মানুষ প্রতিদিন নানাভাবে মৃত্যুর সম্মুখিন হচ্ছে। তাই মৃত্যুদৃশ্য তাদের স্মৃতি বেশিদিন ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া স্মৃতিতে থাকে। ডা. ইকবাল আর খুকুমনির বিচার প্রক্রিয়া আজো মানুষের মনে আছে। আজো দৃষ্টান্ত হিসাবে উচ্চারিত হয় সে কথা। কিন্তু হারকিউলসের ঘটনা উদাহরণ হয় না। 

অপু’রা বিষবৃক্ষের বিষ ফল মাত্র। সমাজ ভেঙে পড়ছে বলা হচ্ছিল অনেক আগে থেকেই। জবাবদিহিতাহীন সমাজ ভেঙে পড়তে বাধ্য। আপনাদের চোখের সামনে অপু’রা বেড়ে উঠেছে। এই বেড়ে উঠার প্রক্রিয়ায় কোনো জবাবদিহিতা ছিলো না। না আপনার, না রাষ্ট্রের। শেষপর্বে এসে যখন এদের হাতে মার খেতে হয়, লাঞ্ছিত হতে হয় তখন উপসংহারে বোধোদয় ঘটে। সামাজিকমাধ্যমে উঠে আসে করুণ আর্তি। কেনো, এদের বেড়ে উঠার সময় কোথায় ছিলেন আপনারা! কোথায় ছিলো আপনাদের দায়িত্ববোধ! জানি, উত্তরে বলবেন, এটা তো আপনাদের কাজ নয়। রাষ্ট্রের কাজ। মহোদয় বলি, এই রাষ্ট্রটার জবাবদিহিতা ও গড়ে তোলার দায়িত্ব আপনারই। রাষ্ট্র আপনার প্রয়োজনেই সৃষ্টি, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আপনি নন। শুরুতে রুদ্রনীলের কাব্যের মত ‘মুখ ফুটে কোন কথা বলি না’ অবস্থান ধরে রাখবেন। শেষে আক্ষেপ করবেন। এমন বিপরীতমুখীতা শেষ বিচারে অর্থহীন। 

তাই বলি, এখনো সময় রয়েছে। রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের শেষ চেষ্টা করুন। অপু’দের তৈরি প্রক্রিয়াতে হাত দিন। প্রডাক্ট নয়, মেশিন নিয়ে কথা বলুন।   

লেখক : সাংবাদিক ও কলামনিস্ট। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

কাকন রেজা অপু টিকটক

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1159 seconds.