• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৪ আগস্ট ২০২০ ২০:০৬:১৩
  • ০৪ আগস্ট ২০২০ ২০:০৬:১৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ভারতে নেপালি সৈন্য, বাড়ছে বিতর্ক

ছবি: বিবিসি থেকে নেয়া

ভারতের সেনাবাহিনীতে বর্তমানে ৪০ হাজার গোর্খা সৈন্য রয়েছে। তারা সবাই নেপালের নাগরিক। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেন ও ভারতের সঙ্গে করা ত্রি-পক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতেই মূলত এই গোর্খাদের নিজ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেয় ভারত। তবে সেই চুক্তিটি ‘অপ্রয়োজনীয়’ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গাওয়ালি।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর ত্রি-পক্ষীয় চুক্তিটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাহলে কি এই চুক্তিটির অবসান হতে যাচ্ছে বা বাতিল করতে চাচ্ছে নেপাল। গত শুক্রবার দেশটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স আয়োজিত অনলাইনে এক আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

এ বিষয়ে প্রদীপ কুমার গাওয়ালি বলেন, ‘ভারত ও ব্রিটেনের সেনাবাহিনীতে গোর্খাদের নিয়োগের বিষয়টি ইতিহাসের অংশ হিসাবে নেপাল পেয়েছে। একসময় বিদেশ যাওয়ার জন্য নেপালি যুবকদের অন্যতম রাস্তা ছিলো এটি। কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ওই চুক্তির অনেক কিছু এখন অপ্রাসঙ্গিক এবং অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।’

গোর্খা সৈন্য নিয়োগের ৭০ বছরের পুরনো চুক্তিটি ব্যাপকভাবে সংশোধন করার একটি প্রস্তাব গত বছরই নেপাল আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটেনকে দিয়েছে, যাতে ব্রিটেন এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। এখন ভারতের সাথেও এ নিয়ে কথা বলার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কাঠমান্ডুতে সিনিয়র সাংবাদিক এবং নেপালের বৈদেশিক নীতির বিশ্লেষক কমল দেব ভট্টরাই বলেন, বিদেশি বাহিনীতে নেপালিদের নিয়োগ বেশ কিছুদিন ধরেই কম-বেশি বিতর্কিত একটি ইস্যু, কিন্তু ভারত-চীন সীমান্তে চলতি উত্তেজনায় সেই বিতর্ক নতুন করে চাঙ্গা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘যখনই চীন-ভারত বা ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধ হয়, রণাঙ্গনে গোর্খা সৈন্যদের নিয়ে নেপালিদের মধ্যে উদ্বেগ শুরু হয়। কথা শুরু হয় আদৌ আর নেপালিদের ভারতের সেনাবাহিনীতে পাঠানো বন্ধের সময় এসেছে কিনা। নিঃসন্দেহে এই আবেগের মাত্রা বেড়েছে।’

প্রসঙ্গত, ভারতের সেনাবাহিনীতে বর্তমানে ৪০,০০০ নেপালি গোর্খা সৈন্য রয়েছে। তাদের মধ্যে বাড়িতে এসে যারা ছুটি কাটাচ্ছিলেন, লাদাখ সীমান্তে সংকটের পর তাদের দ্রুত তলব করা হয়।

এরপর থেকেই নেপালি মিডিয়ায় লেখালেখিতে, আলোচনা-বিতর্কে এবং বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোলাখুলি প্রশ্ন তোলা হচ্ছে- চীনের মত একটি প্রতিবেশী দেশ যার সাথে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক দিন দিন ঘনিষ্ঠ হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে নেপালিদের ভাড়াটে সৈন্য হিসাবে অংশ নেওয়া নৈতিকভাবে উচিৎ কিনা।

এর আগে গত জুনে নেপালের মাওবাদী একটি দল বিবৃতি দিয়ে দাবি করে যে ভারত যেন এখন গোর্খা সৈন্যদের চীন সীমান্তে মোতায়েন না করে। একই সঙ্গে তিব্বত সীমান্তে কালাপানি এলাকার মালিকানা নিয়ে ভারত ও নেপালের দ্বন্দ্বের বিষয়টিও যোগ হয়েছে। যা নিয়ে নেপালে নজিরবিহীন ভারত-বিদ্বেষী মনোভাব তৈরি হয়েছে।

চাপের ফলে ভারতের সেনাবাহিনীতে গোর্খা নিয়োগ বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে কমল দেব ভট্টরাই বলেন, এখনো খুব বেশি চাপ তৈরি না হলেও চীন ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ যদি হয় তাহলে গোর্খা ইস্যু নিয়ে বিতর্ক আরো বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, চীন-ভারত দ্বন্দ্ব নিয়ে নেপালি সরকার এবং রাজনীতিকদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে, সন্দেহ নেই। তবে যত বিতর্কই হোক না কেন, ভারতের সেনাবাহিনীতে গোর্খা সৈন্য নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে দেখছেন না তিনি।

কমল দেব আরো বলেন, ‘অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ইস্যু এটি। ভারতের সাথে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ভারতের ওপর নির্ভরতা - এগুলো অগ্রাহ্য করা নেপালের জন্য কঠিন।’

কি চাইছে নেপালের সরকার

নেপালের ক্ষমতাসীন কম্যুনিস্ট পার্টি ঐতিহাসিকভাবে বিদেশি বাহিনীতে গোর্খা নিয়োগের বিরোধী। এ নিয়ে কমল দেব ভট্টরাই বলেন, নেপাল হয়ত ভারতে গোর্খা সৈন্য নিয়োগের শর্তে পরিবর্তন চায়, বিশেষ করে গোর্খাদের মোতায়েনের স্থান নিয়ে।

কমল আরো বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ একাডেমিকদের সাথে কথা বলে বোঝা যায়, ভারত যেন ভবিষ্যতে চীন সীমান্তে গোর্খা সৈন্যদের মোতায়েন না করে এমন কোনো শর্ত আরোপের কথা সরকার হয়ত ভাবছে।’

প্রসঙ্গত, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় লড়াইতে বিশেষ পারদর্শিতার জন্য চীন এবং পাকিস্তানের প্রতিটি লড়াইতে ভারত তাদের গোর্খা রেজিমেন্ট ব্যবহার করেছে।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ভারত বিতর্ক নেপাল

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1457 seconds.