• ১১ আগস্ট ২০২০ ১৭:৫১:৫৭
  • ১১ আগস্ট ২০২০ ১৭:৫১:৫৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অপরাধের রাজনৈতিক তুলনা এক ধরণের ভ্রান্তি বিলাস

কাকন রেজা। ফাইল ছবি

কাকন রেজা:

বিএনপি’র চারদলীয় জোট সরকার বিগত হয়েছে চৌদ্দ বছর। তাও তাদের অপকর্ম সবার চেয়ে বেশি এবং সব ছাপিয়ে এখনো তা তুল্য হচ্ছে। না হলে, খালেদা জিয়া পদক দিচ্ছেন ‘খ্যাত’ ওসি প্রদীপকে, এমন একটা ছবি কেনো ঘুরছে সামাজিকমাধ্যমে! এ ছবিটি নিয়ে কেউ কেউ বেশ উল্লসিত। যেন এই তো পাওয়া গেছে উত্তরণের সহজ উপায়। তার উপর সামাজিকমাধ্যমে সওয়ার হয়েছে আরেকটি পেপারকাটিংয়ের ছবি। কাটিংয়ের খবরটি হলো, ‘ওসি প্রদীপ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন’। আর যায় কোথা, সব দোষ গিয়ে পড়লো খালেদা জিয়া আর বিএনপির ঘাড়ে। খালেদা জিয়ার হাতে পদক পাওয়া এবং ছাত্রদলের কর্মী হওয়াতে সব দোষ বিএনপির। যেন, এই যে হালের দুশো চারটা খুন তার দায়ও বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার।

এই যে প্রতিটা ঘটনার পেছনে দোষমুক্তির উপায় খোঁজা এটা রীতিমত মানসিক অসুস্থতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতো বছর আগে প্রদীপের চাকরি হয়েছে কিনা কিংবা ছবিটি ফেইক কিনা সেটাও কেউ ভেবে দেখেনি। ভেবে দেখার ফুসরতই হয়নি, ‘ধর মুরগী কর জবেহ’ সারা হয়েছে। অন্তত কিছুটা যদি ডাইভার্শন ক্রিয়েট করা যায়। ভাগাভাগি করে নিলে দোষটা কম যায়। একটা জোক মনে পড়ে গেলো। ‘এক সুন্দরী বারবনিতা বাজারে গিয়েছে। তাকে দেখে এক গৃহস্থ বাড়ির বউ আরেক বউকে বলছে। ওই যে দেখ, ওই নটি মেয়েটির কাছেই তোর স্বামী গিয়েছিল। ওই বউ, সেও কম যায় না। মুখ ঝামটা দিয়ে বললো, তোর স্বামী না হয় এখন পারে না, কিন্তু দশ বছর আগেও তো সে নটি বাড়ির দরোজার কড়া পর্যন্ত ভেঙেছে।’

অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাই। এই যে দোষ কাটানোর জোশের খেলা, এতে হুশ হারাতে বসেছেন অনেকেই। সেই সময়ে প্রদীপের হাত খুনে পেকেছিল কিনা, কিংবা সে সময় কয়টা ক্রসফায়ার দিয়েছে তার সাথে হালের অবস্থা মিলিয়ে দেখতে চায়নি কেউ। অথচ তুলনাটা যখন উঠেছে তখন তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবেই হওয়াই উচিত ছিলো। এই চিন্তাটা মাথায় রাখা উচিত, রাজনীতির অপরাধ থাকতে পারে বিপরীতে অপরাধের কোনো রাজনীতি থাকে না। পরিবেশ-পরিস্থিতি মানুষকে বদলে দেয়। সব প্রযুক্তির বাইরে কোনো মানুষকে আদিম আমাজনে ফেলে দিলে, সেও আদিম হয়ে উঠবে। একজন সাধুও খুনি হয়ে উঠতে পারে, বাল্মিকিও হয়ে উঠতে পারে সাধু।

বিএনপি একটি অপকর্ম করেছে, সেই অপকর্ম অন্য কেউ করলে এবং তা শতগুণ বেশি হলেও তার দায় বিএনপির ঘাড়েই পড়বে এমন চিন্তা সিজোফ্রেনিক। আর বিএনপি অপকর্ম করলে সেই অপকর্ম অন্য কারো জন্য দোষের হবে না, এমন চিন্তাও বিকারগ্রস্ততা। বিএনপি তার অপকর্মের দায় মেটাচ্ছে। তাদের মেটানো দায় কতটা কম বা কতটা বেশি সেই আলাপটা বরং উঠা উচিত। তাদের অপকর্মের সাথে হালের অপকর্ম মিলিয়ে ‘ইনডেমনিটি’র চিন্তাটাও এক ধরনের ডগমাটিজম। ‘ডগমা’জনিত ভ্রান্তি-বিলাস। ভ্রান্তি বিপজ্জনক, সাথে বিলাস যোগ হলে তো কথাই নেই।

ইনডেমনিটি’র আভিধানিক অর্থ, ‘শাস্তি এড়ানোর চেষ্টা’। অপরাধের তুলনাটাও তাই। মজার ব্যাপার হলো, ‘ইনডেমনিটি’র নামে দায়মুক্তির এক সময় ঘোর বিরোধীতা করেছেন, তারাই এখন দায়মুক্তির নানা পথ খুঁজছেন। অর্থাৎ তাদের বিরোধীতাটা ছিলো উদ্দেশ্যের, আদর্শের নয়। মনে রাখতে হবে, সময় সব লিখে রাখে কালের খাতায়। ইতিহাস যাকে বলে। সময় বিএনপিকে ক্ষমা করেনি। সময় কাউকেই ক্ষমা করে না।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামনিস্ট।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1347 seconds.