• বাংলা ডেস্ক
  • ১৪ আগস্ট ২০২০ ১২:২৫:৩৬
  • ১৪ আগস্ট ২০২০ ১২:২৫:৩৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সিনহা হত্যা, লিয়াকত-নাজিমের রহস্যজনক ফোনালাপ

মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ফাইল ছবি

সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যার অন্যতম আসামি বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই লিয়াকত ও নাজিম উদ্দিন। মেজর সিনহাকে গুলি করার আগে ও পরে এই দু’জনের মধ্যে রহস্যজনক ফোনালাপের তথ্য পাওয়া গেছে।

মেজর সিনহাকে হত্যার পর পুলিশের মামলায় দেখানো তিন সাক্ষীর মধ্যে নাজিম উদ্দিন একজন। এর মধ্যে নাজিমসহ তিন সাক্ষীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। লিয়াকত-নাজিম ফোনালাপের মধ্যে খুনের মোটিভ লুকিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সোয়া ৯টার দিকে শামলাপুরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) চেকপোস্টে তল্লাশি করতে থাকে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম। এর ২০ মিনিট পর সিনহা ও সিফাতের সাদা প্রাইভেট কারটি সেখাসে আসে। এরপরই গুলির ঘটনা ঘটে।

তবে পরিদর্শক লিয়াকতের কললিস্ট যমুনা টেলিভিশনের হাতে এসেছে। সেই কললিস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উল্লিখিত সময়ের পুরোটা ফোনে কথা বলেছেন লিয়াকত। এই সময়টায় তিনি বেশি ব্যস্ত ছিলেন নাজিম উদ্দিন নামে একজনের সঙ্গে কথা বলতে। ওই রহস্যজনক যোগাযোগের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাই রহস্য উন্মোচন করতেই পুলিশের মামলার ওই তিন সাক্ষীকে আসামি দেখিয়ে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

ওই কললিস্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাত ৮টা ৪৭ মিনিটে একটি রবি নম্বর থেকে লিয়াকতের ফোনে কল আসে এবং ৬৪ সেকেন্ড কথা হয়। ওই নম্বরটি নাজিমের। এর ঠিক দশ মিনিট পর ৮টা ৫৭ মিনিটে নাজিম আবার ফোন দেন লিয়াকতকে। এরপর রাত নয়টা থেকে বাড়তে থাকে তাদের যোগাযোগ। এরপর নয়টা দুই মিনিটে লিয়াকত ফোন দেন তার ফাঁড়ির মুন্সি আরিফকে। এরপর ৯টা ৪ মিনিটে নাজিম আবার ফোন দেন লিয়াকতকে। ৯টা ১২ এবং ৯টা ১৮ মিনিটেও নাজিম ফোন দেন লিয়াকতকে।

এবার ৯টা ২৫ ও ২৬ মিনিটে লিয়াকত দু’বার ফোন দেন নাজিমকে। প্রতিবারই তারা এক থেকে দেড় মিনিট করে কথা বলেন। পরে রাত সাড়ে ৯টায় ওসি প্রদীপকে কল দেন লিয়াকত। এর তিন মিনিট পর ৯টা ৩৩ মিনিটে লিয়াকত আবার কল দেন তার ফাঁড়ির মুন্সি আরিফকে। মামলার এজাহার অনুযায়ী ঠিক এই সময়টায় গুলির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে মুন্সি আরিফ জানান, গুলি করার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এমনকি গুলির পর লিয়াকত তাকে ফোন দিয়ে কিছুই বলেননি।

তদন্তকারীদের কাছে এটা অবিশ্বাস্য যে, গুলির ঘটনার মুহূর্তে লিয়াকত নিজের মুন্সিকে ফোন দিয়ে ঝামেলার কথা উল্লেখই করেননি। আরিফের সঙ্গে কথা বলার পর ৯টা ৩৪ মিনিটে লিয়াকত ফোন দেন পুলিশ সুপার বিএম মাসুদকে।

মেজর সিনহাকে গুলি করার বিষয়ে লিয়াকত পুলিশ সুপারকে বলেন, ‘একজনকে ডাউন করেছি। আরেকজনকে ধরে ফেলেছি। আমার দিকে অস্ত্র তাক করা হয়েছিল। তাই আমি গুলি করেছি।’

এর জবাবে এসপি বলেন, ‘তোমাকে গুলি করা হয়েছিল। সেটি তোমার গায়ে লাগেনি। আর তুমি যে গুলি করেছ, সেটা তার গায়ে লেগেছে। ঠিক আছে।’ ৯টা ৩৯ মিনিটে আবার পুলিশ সুপার লিয়াকতকে ফোন দেন।

আর মধ্যরাত পর্যন্ত লিয়াকতের ফোন ব্যস্ত ছিলো পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ওসি প্রদীপ, জেলার ডিবির ওসির সঙ্গে কথোপকথনে। এর মধ্যেও সময়ে সময়ে লিয়াকত ও নাজিমের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে।

ওই দিন রাত ১০টা ১৩ মিনিট থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত তাদের মধ্যে পাঁচবার কথা হয়। এর মধ্যে ১০টা ৩৬ মিনিটে নাজিম ফোন দেন লিয়াকতকে, ১১টা ৭ মিনিটে লিয়াকত ফোন দেন নাজিমকে। এছাড়াও ১১টা ১১ মিনিট ও ১১টা ১৩ মিনিটে লিয়াকতকে দু’বার এসএমএস করেন নাজিম। এরপর ১১টা ৪২ মিনিটে নাজিম দু’বার লিয়াকতকে ফোন করেন। ১১টা ৪৫ মিনিটে লিয়াকত ফোন করেন নাজিমকে।

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করেছেন পুলিশের মামলায় তিন সাক্ষী সিনহা হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যেসব অভিযোগ এসেছে, সবই আমাদের নজরে রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড সংশ্লিষ্ট সব বিষয় সামনে রেখেই তদন্ত করছেন।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0919 seconds.