• ১৮ আগস্ট ২০২০ ২১:৪৭:০৭
  • ১৮ আগস্ট ২০২০ ২১:৪৭:০৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

আসুন জীবনাচরণে পরিবর্তন আনি

ফাইল ছবি


আমিনা সুলতানা সানজানা :


এখন রাস্তায় বের হলে আগের মতো জ্যাম দেখা যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদে প্রায় সব প্রতিষ্ঠান খুলে গেছে। মানুষ আগের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। কারণ মানুষ তার জীবন স্বাভাবিক করতে চাইছে।

আসলে আমরা একটা স্রোতের মধ্যে ছিলাম। যেখানে জীবনের প্রতিদিন অফিস করা, বাচ্চাদের স্কুল, ঘুরতে যাওয়া, বাইরে খাওয়া জীবনের একটা অংশ ছিল প্রায় প্রতিটি মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নিত্য রুটিন।
করোনার ছোবলে আমরা স্বাভাবিক সব কিছু বাদ দিয়ে ঘরের মধ্যে নিজেদের বন্দি করে রেখেছিলাম। কিন্তু সবাই অবশ্য না। কিছু মানুষ লক ডাউনের মধ্যেও স্বাভাবিক ভাবে ঘুরেছে। এর ফলও পেয়েছে অনেকেই করোনা আক্রান্ত হয়ে। অনেকের যুক্তি ছিল বস্তি বাসিরা তো এক সাথে গাদাগাদি করে থাকছে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবীধি মানছে না, সেই হিসেবে বস্তিতে বস্তিতে লাশের স্তুপ থাকার কথা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড: লেলিন করোনা সংক্রান্ত তার নিজের পর্যবেক্ষণ সম্পর্ক বলেন, ‘যারা মাটির সাথে সংযুক্ত থেকে খোলামেলা বাতাসে ও রোদে সরাসরি থেকে কাজ করেন, শারীরিক শ্রম বেশি দেন তাদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের প্রকোপ কম। এর নির্ণায়কগুলো হচ্ছে শারীরিক শ্রম, রোদে কাজ করা, খোলা বাতাসে থাকা। সাথে সাথে ফ্রিজে রাখা সংরক্ষিত খাবার কম খাওয়া। এই নির্ণায়কগুলোর কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। অপর দিকে যারা শারীরিক শ্রম কম করেন, খোলা বাতাসে ও রোদে কম থাকেন, কৃত্রিম আলোতে দিনের বেশি সময় কাটান ও ফ্রিজে রাখা খাবার খান তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তিনি জানান এটা শুধু কোভিড ১৯ এর ক্ষেত্রে নয় সকল ভাইরাসের জন্য প্রযোজ্য।’

আমরা জানি না এই কোভিড ১৯ কবে আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিবে অথবা আদৌ বিদায় নিবে কিনা! এও জানি না এর চাইতে শক্তিশালী অন্য কোন ভাইরাস বা ভ্যাকটেরিয়া আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে কিনা! এভাবে দিনের পর দিন গৃহ বন্দি হয়েও থাকা সম্ভব নয়। আবার করোনা ভাইরাসকে উপেক্ষা করারও কোন যুক্তি নেই। কারণ গতকালও সরকারি হিসেবে ৩৭ জন মারা গেছেন কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে। আমরা সবাই জানি বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা হয়তো আরও বেশি।

আক্রান্তের হারেরও সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই আমাদের কাছে। কারণ অপর্যাপ্ত টেস্ট। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের যেখানে দৈনিক ৭ লক্ষ টেস্ট করাচ্ছে, আমরা সেখানে মাত্র ১০ হাজার টেস্টেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছি। এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন কবে নাগাদ জনসাধারণের হাতে এসে পৌঁছাবে তার নিশ্চয়তাও আপাতত নেই। অতএব কোভিড ১৯ এখনও আমাদের জন্য যথেষ্ট ভিতির কারণ।

সরকারি কার্যক্রম, ভ্যাকসিন হালনাগাদ, করোনা ভাইরাসের বিদায়, জীবিকার নিশ্চয়তা এসব কিছুই আমাদের হাতে নেই। যা আছে তা হচ্ছে শুধু নিজেদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার কিছু কৌশল। যা আমরা বর্তমানে বস্তি বাসীদের জীবনাচরণ দেখে শিখতে পারি।

হ্যাঁ এতে লজ্জার বা সংকোচের কিছু নেই। যেটা আমাদের জন্য ভালো আমাদের সেটাই নিতে হবে। আমাদের এতো টাকা, বাড়ি, গাড়ি, শিক্ষা সার্টিফিকেট আমাদের করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচাতে পারছে না। চিকিৎসকদের দিনরাত যুদ্ধ চলছে জনগণকে বাঁচাতে, তবুও প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা কমছে না।

এখন সময় এসেছে আমরা নিজেদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নিজেদের কিছু অভ্যাস সামান্য পরিবর্তন করি। যেমন -

১. ঢাকা ও জেলা শহরগুলিতে অনেকের বাসাতেই পর্যাপ্ত আলো বাতাস ঢুকে না। কিন্তু আমরা যদি নিয়ম করে প্রতিদিন পরিবারের সবাই রোদে ও খোলা বাতাসে থাকি যেমন ছাদে বা বাড়ির সামনে হতে পারে, তাহলে আমাদের পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি হবে শরীরে। এটা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

২. শুধু ডায়াবেটিক ও হৃদ রোগের রোগীরা নয় আমাদের সকলেরই প্রতিদিন ঘন্টাখানেক হাটা উচিৎ। এতে শারীরিক শ্রম হবে। এই লক ডাউনে আমরা অনেকেই বুয়া বিদায় করে দিয়ে নিজেদের বাড়ির কাজ নিজেরাই করেছি এবং ভালো ভাবেই করেছি। এতেও শারীরিক শ্রম হয় প্রচুর এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

৩. ছুটির দিনে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা জায়গায় খালি পায়ে হাটা যায়, যাতে মাটির সংস্পর্শে আসা যায়।

৪. আমরা প্রচুর ফ্রিজিং খাবারের উপর নির্ভর বর্তমানে। এটা কোন ভাবেই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। ডাক্তাররা প্রায় নিষেধ করেন। আমরা যদি এদিকটা একটু খেয়াল করি, অল্প হোক কিন্তু প্রতিদিন বা এক দু দিন পর পর বাজার করে ফ্রেশ খাবারটা খেতে পারি তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হবে।

৫. দোকানের খাবার, প্রিসারভেটিভ দেয়া খাবার, কোমল পানীয় এর পরিবর্তে বাড়িতে তৈরি খাবার, ফলের রস, ডাবের পানি, লেবুর সরবতে নিজেদের ও বাচ্চাদের অভ্যস্ত করাতে হবে।

জীবন স্বাভাবিক করতে হবে শত মৃত্যুর উপর দিয়ে এটা যেমন সত্য, করোনা এখনও আমাদের সাথেই বাস করছে এটাও তেমনি সত্য। এখানে অবহেলার কোন সুযোগ নেই। আমাদের একটু অসতর্কতা আমাদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

অতএব করোনাকে সাথে নিয়ে চলতে আমাদের নিজেদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। তার জন্য চাই জীবনাচরণে সামান্য পরিবর্তন। এর মাধ্যমে আমরা একটি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী জাতিও তৈরি করতে পারি।

লেখক : উদ্যোক্তা

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0813 seconds.