• ২০ আগস্ট ২০২০ ১৯:২৯:৩০
  • ২০ আগস্ট ২০২০ ১৯:২৯:৩০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মেয়েদের পিরিয়ড, পরিবারকেই ভাঙতে হবে ট্যাবু


আমিনা সুলতানা সানজানা :


রিমঝিমের বয়স ৯ বছর দুই মাস। স্কুলে কেমন অস্বস্তি বোধ করায় সে বাথরুমে গিয়ে দেখে তার প্যান্টে রক্ত! এটা দেখে সে বাধরুমেই মাথা ঘুরে পড়ে যায়। পরবর্তী কিছুদিন সে একদম চুপচাপ হয়ে যায়। তাকে দেখে স্কুলের অন্য বাচ্চারাও মুখ টিপে হাসে। ফলে রিমঝিমের কাছে এখন স্কুল মানেই একটা পঁচা জায়গা। সে এখন স্কুলে যেতে খুবই বিরক্ত করে।

কিন্তু এই দৃশ্যটা পাল্টে যেতে পারতো যদি রিমঝিমসহ অন্য সকল বাচ্চাদের বয়ঃসন্ধিকাল সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকতো!

অন্য অনেক যৌন বিষয়ের মত বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক পরিবর্তনটাও আমাদের সমাজে একটি ট্যাবু। বিশেষ করে মেয়েদের পরিবর্তনটা যেহেতু বেশি বোঝা যায়, তাই এটা বিশাল লুকোচুরির একটা বিষয় এই সমাজে। অথচ আমরা যতই গোপন করি না কেন, শিশুর মানসিক চাহিদাতে যে জিজ্ঞাসা তৈরী হয়, তা তো ঠেকিয়ে রাখতে আমরা পারবো না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুল জানার জন্য বাচ্চারা তাদের এই স্পর্শকাতর সময়টাতে মানসিক চাপে থাকে। যা সাময়িক ভাবে বোঝা না গেলেও, পরবর্তীতে তার ব্যক্তিত্ব গঠনে সুদীর্ঘ প্রভাব পরে।

ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী Bertrand Russell এর মতে, শিশুদের এ বিষয় বলা উচিৎ তারা বয়ঃসন্ধিকালে আসার আগেই। সে ক্ষেত্রে যেসব শিশুর জানার আগ্রহ বেশি তাদেরকে আগে বলা উচিৎ। অর্থাৎ শিশুর জানবার আগ্রহের উপর এটা নির্ভর করে। তবে শিশু জানতে চাক বা না চাক সে বয়ঃসন্ধিতে আসার আগেই তাকে এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। তানাহলে তার মনে, বিভিন্ন ধরনের চিন্তা আসতে থাকবে, যা তাকে সহজেই বিপদগামী করবে। সেক্ষেত্রে বাবা মা, ঘরের মুরুব্বিরা অগ্রসর হতে হবে। গাছপালা, অথবা জীব জন্তুর প্রজনন নিয়ে হালকা ভাবে আলাপ করা যেতে পারে। এটা সকল প্রাণির জন্য খুব স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়া, এতে লজ্জার কিছু নেই।

আমরা শুধু মেয়েদের শারীরিক পরিবর্তন মূখ্য করে দেখি কারণ এটা দৃশ্যমান তাই। কিন্ত এ সময়ে ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই মানসিক একটা বিশাল পরিবর্তন হয়। যা আমরা অনেকেই এড়িয়ে যাই। এ সুযোগেই বাইরের মানুষ তাদের চিন্তা জগতে দখল করে নেয়।

আমরা বড়রা সবাই এ সময় পার করে এসেছি। কিন্তু এটা দিয়ে আমাদের বাচ্চাদের উদাহরণ দেয়া বা বকা দেয়া যাবে না যে, তোমার বয়সে আমি এটা করেছি বা ওটা করিনি। একবার চিন্তা করুন আমাদের বাচ্চারা পৃথিবীতে এসে যা দেখেছে আমরা কি তা পেয়েছিলাম? অতএব ওরা আমাদের চেয়ে আরেকটু এগিয়ে ভাববে এটাই স্বাভাবিক ভাবে নিতে হবে।

ওদের বয়ঃসন্ধিকালীন আবেগ, রাগ, দুঃখকে বুঝতে হবে। মেয়েদের পিরিয়ডের বিষয়টি আপনার ছেলেকেও বলুন। সে ছোট থেকেই তার মা, বোন, ক্লাসমেটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে এইভেবে, একটা মেয়ে প্রতি মাসে কি যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যায়! তাহলে ছোট থেকেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা গড়ে উঠবে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের।

এক্ষেত্রে বাবাদের অনেক বড় ভূমিকা আছে। বাবাদের উচিৎ এই সময় ছেলেদের শারীরিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে সন্তানের সাথে খোলামেলা কথা বলা। ওরা যেন পরিবারই ওদের সব প্রশ্নের উত্তর পেতে পারে। বুয়া, দারোয়ান, ড্রাইভার, ওমুকের বড় বোন, তমুকের বড় ভাইয়ের উপর যেন নির্ভর করতে না হয় ওদের মনের গোপন কথাটি জানবার জন্য।

তবে হ্যাঁ এই শ্রেণীদেরও সচেতন করানোটা খুব দরকার। এর জন্য সরকার নিজে, বিভিন্ন এনজিওদের মাধ্যমে তা করতে পারেন। 

আমাদের দেশের পাঠ্যপুস্তকেও মানব প্রজনন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় না। আবার আমি এও শুনেছি, অনেক শিক্ষক নিজেই এসকল বয়ঃসন্ধির নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে অস্বস্তি বোধ করেন। কিন্তু এসকল ট্যাবু ভাঙতে হবে। আমি আপনি সবাই এ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই বড় হয়েছি। এটা খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয় এবং এই সময়টাতে "আমি তোমার পাশে আছি", এই অনুভূতিটা আমাদের সন্তানদের ভিতরে ঢুকিয়ে দিতে হবে আমাদেরই।

পরিশেষে বলি বাবা মায়েই হতে পারে তার সন্তানের সব চেয়ে বড় আশ্রয়স্থল। অতএব আমাদের নিজের সন্তানকে বুঝতে শিখতে হবে।

আমার পরিবার আমার সুরক্ষা

লেখক : উদ্যোক্তা

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1448 seconds.