• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৭ আগস্ট ২০২০ ২১:৫৯:১৩
  • ২৭ আগস্ট ২০২০ ২৩:১৩:২৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

'জিরো থেকে হিরো' হয়ে ওঠার গল্প

কামরুল হাসান। ছবি : সংগৃহীত

খুবই মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার জন্ম। আমার বাবা ছিলেন একজন আর্মি রিটায়ার পারসন। বাবার শাসন নিয়মানুবর্তিতা, স্কুল, পড়াশোনা নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে আসলে আমার তেমন কিছু ছিল না। একটা ডিফারেন্ট প্রিন্সিপাল এর মধ্য দিয়ে আমার বড় হওয়া, তখন যেটা মনে হতো এটা একটা কঠিন জীবন। কারণ একটা মানুষ এত কঠিন কেন হয়। এখন আমি অনুভব করি যে উনি যদি তখন এমন কঠোর না হতেন আমি হয়তো আজকের এই অবস্থানে আসতে পারতাম না।

বাবার মতো মাও ছিলেন অসম্ভব মমতাময়ী একজন মানুষ। তিনি খুব শিক্ষিত নারী ছিলেন না কিন্তু তার দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, তার মেধা অসম্ভব তীক্ষ্ণ ছিল। এভাবেই আসলে আমার পথচলা শুরু। এইচএসসি কমপ্লিট করার পরে আসলে আমি ঢাকায় আসি। ঢাকায় এসে মতিঝিল একটি সাবলেটে থাকতাম আমি আর আমার মেজো ভাই থাকতাম। আমি মনে করতে পারি আমাদের একটি মশারি ছিল মশারিতে অনেকগুলা ফুটা ছিল, মাঝরাতে উঠে আমি আমার আর আমার ভাই মশা মারতাম। তখন থেকে আমার বাস্তব জীবন শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমার প্রকৃত যুদ্ধটা শুরু হয় যেহেতু আমার বাবার সামর্থ্য কম ছিল আমার ভাই বোনেরা সবাই আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট করেছেন। যদি মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় আমি খুব আড্ডা দিয়েছি মোটেও না, কারণ যে সময়টাতে আড্ডা দেয়ার সেই সময়টাতে আমি একটি এনজিওতে কাজ করতাম। বলতে কোনো দ্বিধা নাই কখনো কখনো এমন হয়েছে আমার পকেটে এক টাকাও ছিল না। আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করতে থাকি যদি আমি কাজের ভালো সুযোগ পাই অন্য কিছুতে জয়েন করব।

হঠাৎ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে একটি সার্কুলার দেখলাম এবং নেসলে নামে বিশাল একটি কোম্পানিতে জয়েন করলাম।

নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডের সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার শাহাদাত হোসাইন বলেন, আমরা প্রথম যখন নেসলেতে জয়েন করি আমরা আমাদের ছোট্ট একটা অপারেশন বাংলাদেশের শুরু করি, সেই অপারেশনে কামরুল একদিন আমাদের এখানে ইন্টারভিউ দিতে আসে। ৩০ দিন পর ওর অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার আসার কথা ছিল কিন্তু কেন জানি দেখলাম তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারটা আর আসছে না।

কামরুল ইসলাম বলেন, আসলে অনেক মানুষের ভিড়ে ইন্টারভিউ দিয়ে আমি চান্স পেলাম এরপর ট্রেনিং এ জয়েন করলাম। ওই সময় আমি খুব খুশি ছিলাম আমাকে বলা হয়েছিল ৩০ দিন পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার হাতে পাবে। হঠাৎ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার আসছিল না। এর মাঝে আমার এক বস বললেন হে কামরুল কয়েকদিন পর সেলস কনফারেন্স তোমার কোন সুট সুট আছে কি? আমি বললাম না। তিনি বললেন, বানিয়ে ফেলো।

যথারীতি আমি একজনের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা ধার করে একটি শুট বানাতে দিলাম। শুট রিলিজ নেওয়ার আগে আমার চাকরিটা চলে যায়। অফিস থেকে আমার হাতে পনেরশো টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলা হয়, ইউ আর নট ফিট ফর দা নেসলে; জাস্ট লিভ। কাল থেকে তোমার আর আসার দরকার নাই।
এটা আমার জন্য আমার জীবনের জন্য একটি কালো অধ্যায়। জীবনের প্রথম চাকরি প্রথম প্রত্যাখ্যাত হলাম অনেকটা ঘাড় ধরে বের করে দেয়ার মত। আজ স্পষ্ট মনে আছে, মতিঝিল ফিফটি টু চারতলা আমার কাছে সিঁড়িটা অনেক দীর্ঘ মনে হয়। ধীরেসুস্থে আস্তে আস্তে নামলাম সিঁড়ি বেয়ে, বাসায় ফিরলাম। ওই দিন সারারাত আমি কেঁদে কেঁদে কাটিয়েছি। 

যথারীতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আমি থাকি। রাতের বেলায় আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলাম। তারা বলল, তোর সঙ্গে তো অন্যায় করা হয়েছে, এক কাজ কর ইউ শুড ফেস ইট। আমি অনেক খুঁজে নিউজিল্যান্ডের নেসলের সিইও এর অ্যাড্রেস বের করলাম এবং তাকে একটি চিঠি লিখলাম, জিপিওতে চিঠিটা ড্রপ করলাম।

কামরুল হাসান বলেন, নেসলে থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আমি আসলে পড়াশোনা শুরু করি। আমি ব্যাচ করে স্টুডেন্ট পড়াতে শুরু করলাম। মাথার ভেতর সারাক্ষন ঘুরে বেড়ায় আমাকে বের করে দেয়া হয়েছে। ছয় মাসে ব্যাচ থেকে আমি ৭২ হাজার টাকা আয় করি। তখন আমার মনে হলো আমার বন্ধুরা সবাই মোটরসাইকেল চালায় আমার একটা মোটরসাইকেল কেনা উচিৎ। তখন আমি একটি সেকেন্ড হ্যান্ড মোটরসাইকেল কিনি এবং নিজেকে বলি, কামরুল তুমি নিজে কিছু করতে পারবে।

এরই ধারাবাহিকতায় একদিন আমি শাহবাগের দিকে যাচ্ছিলাম। ওই সময় নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডের সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার শাহাদাত হোসাইন ডাক দেন।

শাহাদাত হোসাইন বলেন, আমি তখন কামরুলকে পেছন থেকে ডাকি, তাকে বলি তুমি কি আবার নেসলেতে জয়েন করবা? আসলে ওই সময় মনে হয় তার কোন কাজ ছিল না। ও বলল, আপনি কি আমাকে আবার নিবেন? আমি তাকে বললাম, তাহলে কাল তুমি অবশ্যই আসো।

কামরুল হাসান বলেন, শাহাদাত ভাই যখন আমাকে বললেন আমি সত্যিই বিস্মিত হয়েছিলাম। আমি গিয়েছিলাম। তারা আমাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিলেন। বললেন, আগামীকাল আগামীকাল সকাল ৯ টায় তুমি আসো।

আমি যথা সময়ে গেলাম উনি (বস) আমাকে দেখে বললেন, ইউ!  শুনে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। মনে হলো, আমি কি করলাম অন্য কোন ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছি কিনা! তিনি বললেন, সুইজারল্যান্ডে চিঠি লিখেছিলে। আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ভবিষ্যতে কী হতে চাও?

আমি বললাম, আপনাদের বড় পজিশন কি? তিনি বললেন সিইও। আমি বললাম একদিন আমি সিইও হতে চাই। সেই দিনই তিনি আমার মুখে হাসি দেখেছিলেন আমি বিস্মিত হয়েছিলাম এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারটি পেয়েছিলাম। এটা ছিল ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসের ২ তারিখ।

চাকরিতে যোগ দেয়ার পরেই আমাকে প্রথম যে জায়গাটাতে পাঠানো হয় সেটা হচ্ছে একজন ডক্টর ভিজিট করতে। আমাকে বলা হয়েছিল তুমি যখন ওখানে যাবে যখন বিজনেস কার্ড অফার করবে যতক্ষণ তোমাকে না ডাকা হয় তুমি অপেক্ষা করবে। তুমি তাকে ডিস্টার্ব করতে পারবে না।

আমি ডাক্তারকে ছয়টার সময় বিজনেস কার্ড দিই, তিনি আমাকে পৌনে একটার সময় কল করেন। আমার জন্য এটা অত্যন্ত ধৈর্যের একটি ব্যাপার ছিল, এই যে চার পাঁচ ঘণ্টা একটা চেম্বার এ ছোট্ট একটি টুলে বসে ছিলাম আমি। এই যে লেগে থাকা, আরেকটা যুদ্ধের মানসিকতা এটা আমাকে গঠন করে। ট্রেনিং থেকে আমার ইচ্ছে ছিল ব্র্যান্ডের কাজ করব এবং এক সময় ব্র্যান্ড ম্যানেজার হই। কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন তোমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট কোনটি  মুভিং ইন টু দ্য নেসলে ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট। 

আমি যখন মোটরসাইকেল ড্রাইভ করতাম একদিন এক্সিডেন্ট এ আমার হাত ভেঙে যায়। এরপর অফিস থেকে ৪৫ দিনের জন্য ছুটি পাই। কিন্তু অলস সময় কাটানোর মতো মানুষ আমি না, তাই হাতের ব্যান্ডেজ অবস্থায় আমি এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করি। ভাইয়ের অফিসে দেখলাম অনেক চাদর তিনি আমাকে বললেন তুমি এগুলো সেল করতে পারো। আমি বললাম, আমি তো বসেই আছি চেষ্টা করতে পারি বসে থাকা থেকে কাজ করা অনেক ভালো। ভাইয়ার কাছ থেকে আমি চাদর নিই এবং আমাদের নেসলে অফিসে যায় অফিসে রিসিপশনে যে আপু বসে থাকেন তাকে বললাম এবং নিউমার্কেট, বঙ্গবাজারসহ বিভিন্ন মার্কেটে ৪০ দিন আমি ঘুরলাম কীভাবে আয় করা যায় সেজন্য। 

এরপর আমি স্টারলেট রিফ্লেক্ট একটা গাড়ি কিনলাম। বাসায় নিয়ে আব্বাকে যখন দেখালাম। মনে আছে বাবার হাসি দেখে আমার মনে হয়েছিল তিনি ভাবছেন, আমার ছেলেকে নিয়ে আর চিন্তা করার কিছু নাই তার কিছুদিন পরেই আমার বাবা মারা যান। 

২০০৭ সালে কোনো একটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে আমি নেসলে ত্যাগ করি। আমি তখন বাবা হতে যাচ্ছি হাতে টাকা নাই, ব্যাংকে তখন মাত্র ২৩ হাজার টাকা! 

কামরুল হাসান বলেন, একদিকে আমি বাবা হতে যাচ্ছি অন্যদিকে আমার হাতে জব নাই। আমার মনে হয়েছিল যখন আমি নেসলে ছেড়ে আসি আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা বলেছিল কামরুল ইজ ফেইল্ড। আমার ওয়াইফ আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট দিলো। পরের দিন আমি অনেককে কল করলাম কেউই আমার কল রিসিভ করেননি আমি শুনেছিলাম কামরুল শেষ হয়ে গেছে। তারপর আমি এক জায়গায় ইন্টারভিউ দিলাম সাত দিনের মধ্যে জয়নিং লেটার দেয়া হলো। নেসলে থেকে আমি ডাবল বেতনে জয়েন করলাম।

কামরুল হাসান বলেন, ইগলুতে আমি হেড অব সেলস মার্কেটিং হিসেবে জয়েন করি। ওইখানে প্রথম ছয় মাস ভালো ছিল। আমি যে অর্গানাইজেশনে কাজ করেছি যেভাবে কালচারালি বেড়ে ওঠা আমি ওখানে এসে এমনটা পাইনি।

এরপর আমি জব খুঁজতে থাকি। কী করা যায়, কী করা যায় ভাবতে ভাবতে আমি রহিম আফরোজে চাকরি পাই। রহিম আফরোজ থেকে চাকরি নিয়ে বের হই। আমার জীবনে আশীর্বাদের মতো মির্জা ভাই আমাকে কল করেন। বললেন, তুই কই? আমি বললাম, মির্জা ভাই আমিতো শুটিং ক্লাবের সামনে। তিনি বললেন, বাজারে চাকরি আরেকটা আছে। আমি বললাম, তাই নাকি!

তিনি বললেন, তোকে একটা নাম্বার দিচ্ছি কল কর। নিউজিল্যান্ড ডেইরির ডিরেক্টর মিস্টার মল্লিক সাহেবকে কল করলাম। উনি আমাকে একটি ইন্টারভিউ নিলেন জব অফার করলেন। আব্দুল মোনেম লিমিটেডে যা পেতাম তার চেয়ে উনি আমাকে কম অফার করলেন। আমি আবার মির্জা ভাইকে কল করলাম। বললাম, এখন যা পাই তার থেকে ৪৫০০০ হাজার টাকা কম বলে।

এরপর আমি নিউজিল্যান্ড ডেইরিতে জয়েন করি। নিউজিল্যান্ড ডেইরি তখন মেলামাইন ইস্যু নিয়ে দুধ বিক্রি করতে পারছিল না, আমি চেষ্টা করছিলাম। নতুন কৌশল নিয়ে কাজ করছিলাম। সফল হই। মিস্টার মল্লিক তখন ডিরেক্টর। তখন তিনি আমার প্রতি খুশি হন, তিন মাসের মধ্যে তিনি আমাকে মার্কেটিং ম্যানেজার বানান। ছয় মাসের মধ্যে আমাকে হেড অব মার্কেটিং হিসেবে নিয়োগ দেন। 

আমার একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে আমি ফেরত যেতে চেয়েছিলাম। এরপর আমি বড় হয়েছি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জয়েন করি, যার নাম ফন্টেরা। আমি তখন ছিলাম সিঙ্গাপুরে দায়িত্বরত। তখন আমি আমার বাচ্চাদের খুব মিস করতাম। হোটেলে একলা একলা নিঃসঙ্গ জীবন। আমার ভেতরে সবসময় কাজ করতো আবার কিভাবে বাংলাদেশে ব্যাক করা যায়।

এরপর হঠাৎ আমার সঙ্গে পরিচয় হয় বাংলাদেশের পরিচিত মুখ মিস্টার হাসান খান সানির সঙ্গে। উনি আমাকে বলেন আপনি প্রাণে আসেন দ্বিতীয় কোনো চিন্তা না করে আমি ওনার অফারটা গ্রহণ করলাম। 
কামরুল হাসান বলেন, আমি প্রাণকে কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ দে অ্যালাউড মি টু আন্ডারস্ট্যান্ড হাউ টু ম্যানেজ পিপল হাউ এপ্রিশিয়েট দ্য টাফ টাইম ইন সাচ ওয়ে বিকজ পার হ্যাভ আই ডিডেন্ট ফেস দ্য টাফ অর টাইম আই উড নেভার কমপোজ মাইসেলফ।

যাই হোক, আমার সঙ্গে বাই দা বাই দেখা হয় আলমগীর সাহেবের সঙ্গে। তিনি বললেন, আসো আমার সঙ্গে। এরপর উনি আমাকে  বসিয়ে রেখে সাথে সাথে সাথে একটা জব অফার লেটার ধরিয়ে দিলেন। আমি অফার লেটার নিয়ে নিচে নামলাম সঙ্গে সঙ্গে আমাকে আব্দুল মনেম লিমিটেডের বর্তমান এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর উনি তখন গ্রুপের এডমিনের হেড, উনি আমাকে কল দিলেন। বললেন, অমুক বলছি আপনার সঙ্গে একটু মোনেম সাহেব দেখা করতে চান।

আমি যথারীতি পরেরদিন গেলাম জেন্টলম্যানের সঙ্গে দেখা হয়। উনি বসেছিলেন আমাকে আইসক্রিম খেতে দিলেন। বললেন, আপনি কি আমাদের এখানে আসবেন? তখন আমি এসিআইতে জয়েন করব, মানসিকভাবে প্রস্তুতি ছিল। যেহেতু মাত্র একটি চাকরি পেলাম পরের দিন নতুন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক কঠিন ছিল। এত বড় ব্যক্তিত্বকে আসলে সরাসরি তো না করা যায় না, পরদিন ওনার রুমে আবার গেলাম। উনি বললেন না তুমি এখানে জয়েন করো। 

মন্ত্রমুগ্ধের মতো কখন যে আমি ওনার অফার লেটার নিলাম সাইন করলাম, অফার লেটার নিয়ে গাড়িতে বসে আমি বুঝলাম আসলে আমি আবদুল মোনেম লিমিটেডের থেকে একটি অফার লেটার নিয়েছি। 

এখানে যখন আমি জয়েন করলাম প্রথম দিন যখন অফিস করতে আসি আমার মনে আছে ৮ অক্টোবর ২০১৫ সালে উনি আমার সঙ্গে নামাজ পড়লেন। তারপর হাত ধরে ধরে আমাকে অফিসে নিয়ে আসলেন, চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে বললেন, তোমাকে আমি ইগ্লু দিয়ে গেলাম, আমার জীবদ্দশায় কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করবা না শুধু দেখভাল করবা; তোমাকে এর চেয়ে আর বেশি কিছু বলার নাই।

এই পাঁচ বছর প্রায় হয়ে যাচ্ছে এরমধ্যে আমি যারা দুর্নীতিতে জড়িত না হয়েছেন পারফরমেন্সের জন্য আমি কাউকে ফায়ার করিনি। এরমধ্যে আমি অনেককেই সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যাদের মার্কেটে চাকরির সঙ্কট ছিল- চাকরি দিয়েছি।  

নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডের সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার শাহাদাত হোসাইন বলেন, সে প্রচুর লোক কে চাকরি দিয়েছে আমি যখন বলেছি লোকটি বিপদে আছে সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যবস্থা করেছে আমাদের অনেক এক্স কলিগকে চাকরি দিয়েছে।

গ্রামীণ Danon food limited এর হেড অব মার্কেটিং সুরাইয়া সিদ্দিকা বলেন, যখন আমি আইসিপিতে ছিলাম উনি আমাকে কল করেন বলেন সুরাইয়া ইগ্লুতে হেড অফ মার্কেটিং এর পজিশনটা খালি আছে। আমার মনে হয় তুমি এই পজিশনের জন্য উপযুক্ত। উনি কর্পোরেট ফর্মে যে চিন্তা করেন তিনি আসলে প্রথম ব্যক্তি যিনি কল করে বলেছিলেন এরকম একটা কিছু করতে চাচ্ছি, আপনি আসলে থাকছেন কিনা। তার মতো মানুষকে উৎসাহ দেয়া সহযোগিতা করা কম দেখা যায়। উনি নানান ধরনের চ্যারিটিতে সংযুক্ত থাকেন, আমাদেরও যুক্ত করার চেষ্টা করেন। 

কামরুল হাসান বলেন, আমাদের একটা ছোট উদ্যোগ আছে সেটা হচ্ছে আমি বাংলাদেশ কর্পোরেট ফ্রমের  সভাপতি এটার উদ্দেশ্য হলো চাকরি ও কর্মীদের মধ্যে একটি ব্রিজ তৈরি করা।

এছাড়া যারা ক্যারিয়ার শুরু করছে তাদের জন্য, উদ্যোক্তাদের জন্য কাজ করছি, ক্যারিয়ার টিপস দিচ্ছি।
প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আমি ফেল করেছি, বাধার মুখোমুখি হয়েছি; আর যখন দেখি ইগলু প্রসারিত হচ্ছে আমার এতদিনের কষ্ট ভুলে যাই। পরিবারের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে কয়েকটা মানুষের কথা বারবার ঘুরেফিরে আসে। সাদাত ভাই আমার জীবনের বড় একটি অংশ। মহসিন ভাই আমার জন্য ভালো জব খুঁজে দিয়েছেন, আশরাফ বিন তাজ আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়েছেন। ধন্যবাদ দিতে চাই রাশেদ ভাইকে তিনি আমাকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছেন। আমার জীবনের বড় অংশ হচ্ছেন মির্জা ভাই। পরবর্তী পর্যায়ে মল্লিক ভাই আমাকে বেড়ে উঠতে সহযোগিতা করেছেন। জীবনের সব শেষ জেন্টলম্যান হচ্ছেন আব্দুল মোনেম তিনি আমাকে কিছু জিনিস ট্রান্সফার করেছেন। তিনি সততা অধ্যবসায় ট্রান্সফার করেছেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় যে জিনিসটা মনে হয়, আমরা আসলে নিজদের কমফোর্ট জোন থেকে বের হতে চাই না এই কারণে সফলতা অর্জন করার আগে আমরা ফেল করি।  প্লিজ ট্রাই টু কন্ট্রোল ইউর এঙ্গার, কন্ট্রোল ইওর সেলফ, কন্ট্রোল ইওর ইমোশনস। ইউ হ্যাভ টু রেস্পেক্ট ইউরসেল্ফ, ইউ হ্যাভ টু রেসপেক্ট আদার্স। ওয়ার্ক হার্ড এন্ড আই এম সিওর ইউ উইল গো টু রাইট ডেস্টিনেশন।

কামরুল হাসানের সফলতার গল্পের ভিডিও দেখতে:

https://www.facebook.com/watch/?v=593132114708780

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

নেসলে

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1421 seconds.