• ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০:১৯:২৬
  • ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০:১৯:২৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সার্টিফিকেট বনাম শিক্ষা এবং থ্রি ইডিয়টস

ছবি : প্রতীকী

আমির খানের ‘থ্রি ইডিয়টস’ দেখেন নাই যারা কিংবা দেইখাও যারে একটা হাসিঠাট্টার সিনেমা মনে করছেন তাগো লাইগা দুঃখ হয়। ‘থ্রি ইডিয়টস’ এর মেসেজ বা বার্তা একটাই পড়ার লাইগা পড়, সার্টিফিকেটের লাইগা না। কয়দিন ধইরাই লালনরে বড় দরকার হইতাছে। উদাহরণের লাইগা এখনো দরকার। কেউ কি জানেন লালন তার সার্টিফিকেটগুলান কই রাইখা গেছেন? চক্ষু কপালে উঠানোর দরকার নাই। না, লালনের কুনো সার্টিফিকেট আছিল না। সেই মূখ্যু লালনরে লইয়াই এখন পিএইচডি বাগাইতাছেন জ্ঞানগম্যিওয়ালা মানুষরা। সার্টিফিকেট বাগানো শেষ হইলেই লালন হাওয়া। আর হ্যারা ভাসতে থাকেন হাওয়া হাওয়ায়। অন্যজনরে তাগিদ দেন জ্ঞান আর সার্টিফিকেট অর্জনের লাইগা। সাথে নিজেরটা জাহির করেন। আজিব কারবার। মুখ্যুরে ভর কইরাই সার্টিফিকেট অর্জন, তারপর? তারপর আবার কী, ‘যে করে চক্ষুদান, তারেই করে অপমান’। বলিহারিরে ভাই।

কয়দিন আগে নজরুলের মৃত্যুবার্ষিকী গেলো। অনেকের আহাজারি শুনলাম। এইট পাশ নজরুললের নিয়া এত আহাজারি কেনরে ভাই! নজরুলের থিকা তো আপনেরা জ্ঞানী-গুণী মানুষ। ম্যালা সার্টিফিকেট আছে। নামের আগে ডক্টর বহে। তয় নজরুলের মতন হাবিলদার লেভেলের মানুষরে নিয়া টানাটানি কেন! হ্যারে ভর কইরা কাগজে-টেলিভিশনে নিজেদের নাম প্রচার, চেহারা মোবারক দেখানোর এত আকুলতা কেন! আজিব কারবার না? রবি ঠাকুরের গপ্পোটাও অন্য কিসিমের না। হ্যারো সাইজে বড় ও ওজনদার সার্টিফিকেট আছিলো না। আছিলো নাকি?

এমুন উদাহরণ দেয়া শুরু করলে থামন মুশকিল। অসংখ্য উদাহরণ রইছে হাতের সামনে। সার্টিফিকেট এক বিষয়ে, ‘হিট’ মাইনে নাম কামাইছেন আরেক বিষয়ে এমুন উদহারণও অসংখ্য। সামনে তো হুমায়ূন আহমেদ আছেনই। কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রির ছাত্র ও শিক্ষক, ‘হিট’ করলেন কিনা সাহিত্যে! বাংলায় বই লেইখা। হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশক বা পাঠকরা কি হ্যার কাছে পিএইচডির সার্টিফিকেট দাবি করছেন। না হুমায়ূন আহমেদ ওজন বাড়ানোর লাইগা নামের আগে ‘ডক্টর’ বসাইছেন। করলে কন পাবলিকরে উপদেশ দেই মুখস্ত বিদ্যার সার্টিফিকেটের। আমি নিজেও অনেকের লেখা পছন্দ করি। পছন্দের কারণ তাগো লেখার ধরণ, হ্যাগো সার্টিফিকেট না। পড়া শুরু করনের আগে সার্টিফিকেটের খোঁজ লইয়া শুরু করি নাই। অখনো দুই-একজনেরটা জানি না। তাতে কি আমারে পাঠক হিসাবে খারিজ কইরা দিবেন? না আমারো যোগ্য পাঠক প্রমাণে কারো কাছে সার্টিফিকেট জমা দিতে হইবো?

আমার এক ভাই পাশ দিছেন জিওগ্রাফি লইয়া। তাও আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থন। অথচ হ্যারে দেশে চিনে সবাই কম্পিউটার বিষয়ে অ্যাক্সপার্ট বইলা। শুধু অ্যাক্সপার্ট না সেরাদের একজন। এই যে সে দেশে-বিদেশে নেটওয়ার্কিংসহ বিভিন্ন কাম কইরা বেড়াইতাছেন আমার ভাইয়ে, কেউ কি তার সার্টিফিকেট চাইছে? আমার জানামতে, চায় নাই। চাইলেও তার পেশার লগে পাশের সার্টিফিকেট পুরা অকামের।

দুনিয়া জানতে চায় আপনি কোন বিষয়ে স্কিলড। কোন কামে যোগ্য। হ্যাই অনুযায়ী আপনার দাম। আমাগো মতন কিছু দেশে সার্টিফিকেট লইয়া শূন্য গোঁফে তা দেন অনেকেই। এইটা হইলো মেধার ব্যর্থতা। আপনার ঘট শূন্য কিন্তু হাতে হ্যারিকেনের মতন ধরা সার্টিফিকেট। ওইগুলার দাম এই বিশ্বে প্রায় ফুরাইছে। আগামীর বিশ্বে তো নাই-ই।

কইতে পারেন, আপনি পড়াশোনা বাদ দেওনের কথা কইতাছেন? এমুন প্রশ্ন করনের আগে ‘থ্রি ইডিয়টস’ এর কথা আবার কই। আমির খান পড়ার কথাই কইছেন তয় জ্ঞান অর্জনে লাইগা; শুধু সার্টিফিকেট বাগানোর লাইগা না।  আপনি দিল থাইকা পড়েন। আপনার যেইটা ভালো লাগে সেইটা পড়েন। পড়ার লাইগা পড়েন। বোঝার লাইগা পড়েন। না বুইঝা মুখস্ত করণ, হ্যাইডা হালের বিসিএস প্রস্তুতির মতন। অনেকের মতন টিকনের লাইগা যেইটুকু দরকার সেইটুকুই মুখস্ত করলেন, বাকি সব বাদের খাতায়। এমুনটা হইলে সত্যিকার অর্থে আপনিও বাদের খাতায়। হিসাবের বাইরে।

ফুটনোট: সার্টিফিকেট লইয়া বাজার সরগরম। সামাজিকমাধ্যমে জ্ঞানগম্যিওয়ালাগণ কোমর বাইন্ধা নামছে। তাই মনে হইলো আমির খানের স্মরণে যাই। আমাগো দৌড় তো ‘থ্রি ইডিয়টস’ পর্যন্তই। আমির খানের পড়ার লাইগা পড়া পর্যন্তই। তয় যারা সার্টিফিকেটের লাইগা দৌড়ায় হ্যাগোর দৌড় ‘থ্রি ইডিয়টস’ এর শেষ দৃশ্যে পাছার কাপড়খোলা আমির খানের সেই বন্ধুর লাহান।

লেখক: সাংবাদিক, কলামনিস্ট।

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1293 seconds.