• বিদেশ ডেস্ক
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:৪৮:১৮
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:৪৮:১৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘আতঙ্কিত’ ভারতের দুই মন্ত্রীর ইরান সফর

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে বলা চলে এক প্রকার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে ভারত। তাই সম্প্রতি ভারতের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী ইরান সফর করেছেন। তবে অনেকটা গোপনে তেহরান সফর করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

এছাড়াও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়েও দুশ্চিতায় ভারত। এই দুশ্চিন্তা থেকেই দুই মন্ত্রী তেহরান সফর করেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমন খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অনেকটা নীরবেই তেহরানে গিয়ে থেকেছেন। এর মধ্যে রাশিয়াতে সাংহাই সহযোগিতা জোটের বৈঠকে যোগ দিতে যাওযার পথে তেহরানে নামেন রাজনাথ সিং। আর রাশিয়া থেকে ফেরার পথে গত মঙ্গলবার সারাদিন তেহরানে কাটিয়েছেন জয়শঙ্কর। তবে তেহরানে যাওয়া পেছেনে রিফুয়েলিং অর্থাৎ বিমানে তেল ভরার যুক্তি দিয়েছে ভারত।

তবে ভারতের এই যুক্তি মানছেন না বিশ্লেষকরা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন- ওই দুই মন্ত্রী সেই তেল দুবাই বা আবুধাবিতে না ভরে তেহরান থেকে কেন ভরলেন? ভারতের চিরশত্রু চীন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ইরান যেভাবে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে তাতে ভারত চরম উদ্বিগ্ন হয়েছে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে দিল্লির জওহারলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটির (জেএনইউ) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদোয়াজ বলেন, ‘চীনের সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত যে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে ভারতের মাথাব্যথা বাড়ছে। ভারতের কাছে ইরানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। ভারত কোনোভাবেই তা খোয়াতে চায় না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার বাজারে ঢোকার জন্য ভারতের কাছে ইরানের গুরুত্ব বিশাল। সে কারণেই ইরানের চাবাহার বন্দরের উন্নয়নে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত হয়েছিল ভারত। জ্বালানির জন্য এবং কাশ্মীর ইস্যুতে ইরানের মতো প্রভাবশালী একটি মুসলিম দেশের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থনের জন্য ভারত উদগ্রীব।’

ভরদোয়াজ আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নাখোশ হবে তা জেনেও দুজন প্রভাবশালী মন্ত্রীকে তেহরানে পাঠিয়ে ভারত বোঝাতে চেয়েছে যে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে তারা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারত বার্তা দিতে চাইছে- পররাষ্ট্র নীতি এবং কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে দিল্লীর নীতি এখনো স্বাধীন। এ ব্যাপারে তারা আপোষহীন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের মতো বড় একটি বাজার সবসময়েই ইরানের জন্য লোভনীয় এবং ইরান নিশ্চয়ই জানে যে তাদের জ্বালানি তেলের পুরোটাই চীন কিনবে না।’

মূলত এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতিতে ভারত ও ইরান ভিন্ন দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ ভারতের সবচেয়ে বড় শত্রু দেশ চীনের সঙ্গে ইরানের যে ব্যাপক অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হচ্ছে, তা ভারতের জন্য দুঃস্বপ্ন।

এদিকে ইরান ও ভারতের মধ্যে দূরত্ব একদিনে তৈরি হয়নি। গত ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা যত বেড়েছে, ইরানের সঙ্গে ততই দূরত্ব বেড়েছে। সেই শূন্যতায় ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়েছে চীন।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

সম্পর্ক চীন ইরান ভারত

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0617 seconds.