• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৯:০৭:১৩
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৯:০৭:১৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মোদিসহ ভারতের ১০ হাজার ব্যক্তির উপর চীনের নজরদারি

ছবি : সংগৃহীত

সীমান্ত নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। এমতাবস্তায় চীনের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ভারতে নজরদারি করার অভিযোগ উঠেছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রের অন্তত ১০ হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও তাদের পরিবারের উপর এই নজদারি চালানো হয়।

এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাবেক ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকারের নামও রয়েছে। শেংঝেনের এক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এই নজরদারি চালাচ্ছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’র এক অনুসন্ধানন্তমূলক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।

ওই প্রযুক্তি সংস্থাটি চীনের সরকার, কমিউনিস্ট পার্টি ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকেও এসব তথ্য সরবরাহ করে বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ফলে নজরদারি করা তথ্য বেজিংয়ের হাতেও পৌঁছেছে বলে আশঙ্কা করছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকরা।

ওই প্রতিবেদন বলা হয়, রাজনীতি থেকে বিনোদন, ক্রীড়া থেকে সংবাদমাধ্যম— এমনকি, অপরাধী ও জঙ্গিদের সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে দক্ষিণ পশ্চিম চীনের গুয়াংডং প্রদেশের শেনঝেন শহরের ‘শেনহুয়া ডেটা ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড’ নামে ওই সংস্থা। তাদের অন্যতম ‘ক্লায়েন্ট’ শি জিনপিং সরকার, চীনের সেনাবাহিনী এবং কমিউনিস্ট পার্টি।

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী ও তার পরিবারের সদস্যরা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহসহ শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপর নজরদারি চালিয়েছে। এর মধ্যে ভারতের মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছে- রাজনাথ সিংহ, নির্মলা সীতারামন, স্মৃতি ইরানি, পীযূষ গয়াল। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাসহ ওড়িশার নবীন পট্টনায়ক, রাজস্থানের অশোক গহলৌত, মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে, পঞ্জাবের অমরেন্দ্র সিংহের মতো অনেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর তথ্যও সংগ্রহ করছে ওই সংস্থাটি।

এদিকে ভারতের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে, রতন টাটা, গৌতম আদানির মতো শিল্পপতি এবং বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলের সম্পাদক, ইউপিএ আমলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সাবেক মিডিয়া উপদেষ্টা সঞ্জয় বারু এবং বিভিন্ন সাংবাদিক ও সংবাদব্যক্তিত্বও রয়েছেন ওই নজরদারির তালিকায়। এদের মধ্যে অনেকের পরিবারের সদস্যদের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এমনকি দেশটির ডিএমকে, বিএসপি, আরজেডি’র মতো রাজনৈতিক দলের গতিবিধির তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানার জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর সংস্থার ওয়েবসাইটে দেয়া ই-মেলে প্রশ্ন পাঠিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। কিন্তু কোনো জবাব আসেনি। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শেনহুয়ার ওই ওয়েবসাইট দেখা যাচ্ছে না। ওই সংবাদপত্রের এক প্রতিনিধি সংস্থার শেনঝেনের প্রধান কার্যালয়েও গিয়েছিলেন। এ সময় এক কমকর্তা তাকে বলেন, ‘এই সব প্রশ্ন ব্যবসায়িক গোপনীয়তার পরিপন্থী। তাই প্রকাশ করা যাবে না।’

এদিকে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের সূত্র জানায়, ‘স্থানীয় আইন ভেঙে চীনের বাইরের তথ্য চীনের সরকার কখনো কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির কাছ থেকে নেয় না।’ তবে শেনহুয়ার কাছ থেকে তথ্য নেয়া সম্পর্কিত সরাসরি প্রশ্ন উত্তর দেয়া থেকে এড়িয়ে যান তিনি।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

নজরদারি ভারত চীন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0900 seconds.