• ক্রীড়া ডেস্ক
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩:১৯:১৮
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩:১৯:১৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সকল ফরম্যাটের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন মুস্তাফিজ

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেই সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। অভিষেক সিরিজেই শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে ভড়তে দিয়েছিলেন নিজের ‘বিষাক্ত’ কাটার দিয়ে। ২-১ ব্যবধানে সেই ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নায়কও ছিলেন তিনি।

এর পরপর পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষেও বাংলাদেশের জয়ের মূল অস্ত্র ছিলেন মুস্তাফিজ। সাকিবের পর একজন প্রকৃত ম্যাচ উইনারের যে অভাব ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটে, তা ঘোচাতেই যেন তার আবির্ভাব। তবে এরপর আইপিএল, ইংলিশ কাউন্টি লিগ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততায় পরেন ইনজুরিতে, বেশ ক’বার যেতে হয় চিকিৎসকের ছুরির তলায়। এরপরই যেন ধার কমতে থাকে মুস্তাফিজের কাটারের।

এরই মধ্যে মুস্তাফিজের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে। তবে কি ধুমকেতুর মতো আবির্ভাব হওয়া এই ক্রিকেটার নিজের সেরাটা হারিয়ে ফেলেছেন? নিন্দুকদের এসব কথার জবাব দিতেই যেন তৈরি হয়ে আসছেন মুস্তাফিজুর রহমান। চিরচেনা রূপে দেখা দিতে বদ্ধপরিকর সাতক্ষীরার এই তরুণ।

সময়ে সাথে নিজে হয়ে উঠছেন পরিণত, এবার তা পুনরায় মাঠে দেখানোর পালা। আর এবার শুধু সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই নয়, তিন ফরম্যাটেই মোস্তাফিজ খেলতে চান দাপটের সাথে।

সামনেই শ্রীলঙ্কা সফর। সেখানে তিনটি টেস্ট খেলতে হবে স্বাগতিকদের বিপক্ষে। আর টেস্টে সাফল্য পেতে হলে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল ভেতরে ঢোকানোর বিকল্প নেই। এমন স্কিলের ঘাটতি রয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের। তাই করোনার ভেতর নতুন পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের দেখানো গ্রিপে প্রচুর অনুশীলন করেছেন তিনি।

গতকাল ২১ সেপ্টেম্বর, সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দলীয় অনুশীলনের দ্বিতীয় দিনে নিজের বোলিং নিয়ে কথা বলেন মোস্তাফিজ।

তিনি বলেন, ‘করোনার আগে গিবসন আমাকে কিছু গ্রিপ দেখিয়ে দিয়েছিলেন। ওইটা নিয়েই কাজ করছি। চেষ্টা করছি ঠিকমতো সব শিখে নিতে। ঢাকায় আসলাম এক মাসের বেশি হলো। এখানে আসার পরপরই বোলিং শুরু করি। এছাড়া রানিং, জিম, বোলিং সবই চলছে সমানতালে।’

করোনার মধ্যেও বাড়িতে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন মোস্তাফিজ। তবে এর সাথে সতীর্থদের সাথে অনুশীলনের পার্থক্যটা ধরিয়ে দিলেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘বাড়িতে প্র্যাকটিসটা অন্যরকম। টিমসহ একসঙ্গে করা গেলে সেটা বেশি ভালো। বাড়িতে সবাই কমবেশি কাজ করছি, তবে এখানে আসার পর শুরুতে একটু কষ্ট হইছে। কিন্তু এখন সবার সঙ্গে আবার খুব ভালো লাগছে।’

টেস্টের জন্য বেশ কিছুদিন বিসিবি’র বিবেচনায় ছিলেন না মোস্তাফিজ। যে কারণে কেবল সাদা বলের চুক্তিতেই রাখা হয়েছিল তাকে। তবে শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য তাকে ফের বিবেচনা করছে বোর্ড।

বেশ কিছুদিন আগে একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে সাক্ষাৎকারে পেস বোলিং কোচ গিবসন বলেছিলেন, ‘মোস্তাফিজের বল ভেতরে ঢোকানোর সামর্থ্য আছে, কিন্তু বিশ্বাস নেই।’ সেই বিশ্বাসটা পুঁতে দিতেই তিনি কাজ করছেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে মোস্তাফিজের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্যই তাকে নাকি ফের লাল বলের জন্য বিবেচনায় নিয়েছে বিসিবি। আর টেস্টে খেলতেও যে মুখিয়ে আছেন মোস্তাফিজ তাই জানালেন।

‘আমিতো চাই সব ফরম্যাটে খেলতে। এখন চেষ্টা করছি  ফিটনেস বলেন, বোলিং স্কিল বলেন কোন কাজগুলো করলে আমি সব ফরম্যাটে নিয়মই হতে পারি সেগুলো করার।’ যোগ করেন তিনি।

নিজের বোলিংয়ে ধার বাড়াতে বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের সঙ্গে নিরলস কাজ করছেন এই তরুণ পেসার।

২০১৫ সালে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩টি টেস্ট, ৫৮টি ওয়ানডে এবং ৪১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এর মধ্যে টেস্টে তার শিকার ২৮ উইকেট। আর ওয়ানডেতে ১০৯ ও টি-টোয়েন্টিতে ৫৮ উইকেট শিকার করেছেন ‘দ্য ফিজ’।

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0839 seconds.